চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চিনির বাজার। চলতি মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে তিনবার। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জানুয়ারির শুরুতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকায়। গত ৮ জানুয়ারি দাম বেড়ে বিক্রি হয় ৯১ টাকায়। বর্তমানে কেজিতে আরও ২ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯৩ টাকায়।
পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গত বছর চিনির দাম নিম্নমুখী ছিল। তবে ডিসেম্বরের শেষে এসে বাড়তে শুরু করে পণ্যটির দাম। সেই সময় প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয় ৮৬ টাকায়। এর পর থেকে ক্রমেই চড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম, যা এখন ভোক্তাদের ভোগাচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত বছর মিলারদের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও চিনি আমদানির সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে সাধারণ ব্যবসায়ীদের চিনি শেষ হয়ে যাওয়ায় মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই দাম বেড়েছে।’
তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, বন্দরের বহির্নোঙরে শতাধিক জাহাজ ভোগ্যপণ্য নিয়ে খালাসের অপেক্ষায় আছে। তবে লাইটার জাহাজ সংকট থাকায় পণ্যগুলো যথাসময়ে খালাস করা যাচ্ছে না। তাই সংকট তৈরি হওয়ায় দাম বাড়ছে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা পণ্যের কৃত্রিমসংকট সৃষ্টি করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ব্যস্ত সময় পার করছে। এটার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাই ভোক্তার স্বার্থে বাজার তদারকি ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’
এদিকে মুদি দোকানে প্রতি কেজি মসুর ডাল (মোটা) ৯০, খেসারি ডাল ১০০, মুগ ডাল (বড়) ১২০, মুগ ডাল (ছোট) ১৩০ ও বুটের ডাল ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১০ ও প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তা ছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮, খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ ও খোলা সরিষার তেল ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হয় ১১০ টাকায়। পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৮৫০ টাকা ও হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয় ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। তা ছাড়া প্রতি কেজি দেশি হাঁস ৩৫০ এবং চীনা হাঁস ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৫০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০, লইট্যা ২০০, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প ২৫০, বাগদা চিংড়ি ৯০০, রূপচাঁদা ৮৫০, কোরাল ৭০০, আইড় মাছ ও টেংরা ৬০০, শিং ও লাল পোয়া ৪০০, সাদা পোয়া ২৮০, সরপুঁটি ৩০০ ও নাইলোটিকা ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।