ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু ১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে আছেন যারা হালান্ডের জোড়া গোল, বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা নরওয়ের
Nagad desktop

নোয়াখালী কারাগারে সংসদ নির্বাচনের ভোট আজ

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
নোয়াখালী কারাগারে সংসদ নির্বাচনের ভোট আজ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী জেলা কারাগারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ। এজন্য কারাগারের ভেতরে দুটি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেল সুপার ও নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বারেক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে সকাল ৮টা থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এখানে মোট ৪৪ জন বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু দুইজন বন্দি মামলার কারণে অন্যত্র অবস্থান করায় বাকি ৪২ জন বন্দি বৃহস্পতিবার ভোট প্রদান করবেন।

প্রস্তুত করা দুটি ভোট কক্ষ

জেল সুপার আরও বলেন, ভোট দেওয়া বন্দিদেরকে সকাল ৮টার আগে নাস্তা খেয়ে প্রস্তত থাকতে বলা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যালট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো হবে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নোয়াখালী জেলা কারাগারে ৯৪১ জন বন্দি থাকলেও তাদের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন মাত্র ৪৪ জন। যা মোট বন্দির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বন্দিরা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগে জামিনের আশায় পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করতে রাজি হননি। কারণ এখানে আবেদন করে জামিন পেলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। আমরা অনেক বুঝিয়ে ৪৪ জনকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে রাজি করিয়েছি।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন কারাগারসহ নোয়াখালীর ছয়টি আসনের মোট ৭২ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এরমধ্যে নোয়াখালী-১ আসনের ১২ জন, নোয়াখালী-২ আসনের ৬ জন, নোয়াখালী-৩ আসনের ৭ জন, নোয়াখালী-৪ আসনের ৩১ জন, নোয়াখালী-৫ আসনের ১২ জন ও নোয়াখালী-৬ আসনের ৪ জন আবেদন করেছেন।

ইকবাল হোসেন/নাঈম

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত
ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) নুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) নুরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়ক এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. ত‌রিবুর রহমান আহত হয়েছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার মৃত সিরাজউদ্দিনের ছেলে। এঘটনায় পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছিলেন এটিএসআই নুরুল ইসলাম। এ সময় ঢাকা অভিমুখী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটি রং সাইড ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দায়িত্ব পালনরত এটিএসআই নুরুল ইসলামকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাকচালককে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মোফাকখারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটিএসআই নুরুল ইসলাম অত্যন্ত কর্মঠ, দায়িত্বশীল ও সৎ একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিকেলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ঢাকা অভিমুখী একটি ডিসট্রিক্ট ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিশির/রিফাত/

ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা
ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের জরাজীর্ণ পুরোনো একটি কক্ষে চলছে কালামপুর সাব-পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস। জনবহুল এই এলাকার ডাকঘরটিতে এখনও আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। কক্ষ জরাজীর্ণ, নোংরা ও দুর্গন্ধময়। নেই পর্যাপ্ত জনবলও। নামমাত্র সম্মানীতে এখানে তিনজন কাজ করেন। অফিস খোলা থাকে প্রতি কার্যদিবসে মাত্র দুই ঘণ্টা। বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে চিঠিপত্র বিলি করা হয়। এতে গ্রাহকরা দুর্ভোগের শিকার হন। সবচেয়ে বড় সমস্যা পোস্টঅফিসের সামনের অংশে। পাশের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রসাব করে। সুযোগ পেলে বহিরাগতরাও জায়গাটি নোংরা করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি জরাজীর্ণ কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে পোস্ট অফিসটি পরিচালিত হচ্ছে। এর সামনেই কালামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ডাকঘরের দরজার পাশেই রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শৌচাগার। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় খোলার আগে শৌচাগারে না গিয়ে পোস্ট অফিসের সামনেই প্রস্রাব করে থাকে। অফিসের সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। কেউ পোস্ট অফিসের সেবা নিতে গেলে দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখেন।

জানা গেছে, সাব-পোস্ট অফিসটির কোড-১৩৫১। তবে এটি কত সালে নির্মিত হয়েছে তা জানা যায়নি। অনেকে বলেন, এটি পাকিস্তান আমলে স্থাপন করা হয়েছে। যদিও আজও এটি সরকারি রাজস্বের আওতায় আসেনি। এখানে কর্মরতদের নামমাত্র সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়। অফিস খোলা হয় সপ্তাহে ৫ দিন। ২ ঘণ্টা কাজ শেষে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে চিঠিপত্র বেশির ভাগ সময় কালামপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে বিলি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নিতে আসা লোকজন ফোন দিলে প্রয়োজনীয় চিঠি বা পার্সেল বাজারের চায়ের দোকান থেকেই বিলি করা হয়। সকাল ১০টায় অফিস খুলে বেলা ১২টা বাজার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কালামপুর সাব-পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দুলাল হোসেন জানান, দেলোয়ার হোসেন নামে একজন বিলিকারক ও শফিকুল ইসলাম নামে একজন রানার রয়েছেন। এই তিনজন দিয়েই চলছে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসে জনবল কম। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এটির কোনো সংস্কার করা হয় না। পোস্ট অফিসটিতে আজও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। ডিজিটাল বা আধুনিক যুগে একটি পোস্ট অফিসে ওয়াই-ফাই সংযোগ, কম্পিউটার থাকার কথা। কিন্তু এখানে সেই প্রাচীন বা অ্যানালগ সিস্টেমেই কার্যক্রম চলছে। এতে হাজারও গ্রাহকের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কথা হয় পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পিয়ন দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, পোস্ট অফিস ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অনেক সময় এর কমও থাকে। লোকজন সেবা নিতে এসে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, বাজারে একটি চায়ের দোকান থেকে দেলোয়ার নামে একজন চিঠিপত্র বিলি করেন। গ্রাহকরা অফিস বন্ধ পেলে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে ওই চায়ের দোকান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যান। আর যারা তার নম্বর জানেন না, তারা সেবা পান না।

পোস্ট অফিসটিতে কর্মরত পোস্টমাস্টার, বিলিকারক ও রানার সরকারের কাছ থেকে খুবই কম সম্মানী পেয়ে থাকেন। পোস্টমাস্টার পান ৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সম্মানী, বিলিকারক ৪ হাজার ৩০০ টাকা ও রানার পান ৪ হাজার ১০০ টাকা সম্মানী ভাতা।

বিলিকারক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেখানে একজন মানুষ দিনে কাজ করলে হাজার টাকা মজুরি পান, সেখানে আমরা সারা মাস কাজ করে পাই মাত্র ৪ হাজার ৩০০ টাকা। তাও এটা বেতন না, সরকার আমাদের সম্মানী ভাতা দেয়।’ তিনি দাবি করেন, ‘অনেক সময় গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।’

পোস্টমাস্টার দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অফিস সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখি।’ নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদিকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অফিসের সামনে নোংরা করে, অন্যদিকে অফিস বন্ধ থাকার সময় বহিরাগতরাও নোংরা করে থাকে।’
সম্মানী ভাতার বিষয়ে তিনি জানান, তাদের রাজস্বের আওতায় আনতে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি।

জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়
মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়। ছবি: খবরের কাগজ

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ভৌগোলিক নির্দেশক ইউনিট ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’-এর নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। সনদ অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের ৬৪তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে এ নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়কে জিআই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ১৫ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই নিবন্ধন সনদ দেন।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের বিশেষ জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং স্থানীয় গাছিদের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির কারণে হাজারি গুড় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। এর অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এ গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও গোপীনাথপুর এলাকার উৎপাদিত হাজারি গুড় সারা দেশে পরিচিত।

শীত মৌসুমে এসব এলাকার প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার হাজারি গুড় উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এ গুড়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজারি গুড়ের বিশেষত্ব শুরু হয় এর উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই। খেজুরগাছ থেকে প্রথম কাটার যে রস সংগ্রহ করা হয়, সেই উৎকৃষ্ট মানের রস দিয়েই তৈরি করা হয় হাজারি গুড়। আগের দিন গাছে হাঁড়ি বেঁধে রাখা হয়। ভোরে সংগ্রহ করা রস দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এক কেজি হাজারি গুড় তৈরিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ লিটার কাঁচা রস।

অসাধারণ স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে বাজারে হাজারি গুড়ের দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি হাজারি গুড় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে ঝিটকা ও গোপীনাথপুর গ্রামের ২৮টি গাছি পরিবার প্রায় কোটি টাকার গুড় বিক্রির আশা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও একসময় এই গুড় খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। সেই খ্যাতিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার বাজার।

জিআই স্বীকৃতির ফলে হাজারি গুড়ের বাজারমূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি নকল পণ্যের বিস্তার রোধ, ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণেও এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘জিআই সনদ পাওয়ার মাধ্যমে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই পণ্যের স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হলো। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ স্বীকৃতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।’

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই হলো এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের ভৌগোলিক পরিচয়, সুনাম ও স্বত্ব সংরক্ষণ করে। ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’ জিআই সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য নতুন মর্যাদা অর্জন করল এবং বিশ্ববাজারে পরিচিতি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়
ছবি: খবরের কাগজ

অবশেষে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারি গুড়’। কয়েকশত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই খেজুরের গুড়কে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে সরকার। এর ফলে দেশের অন্যতম সুপরিচিত এ খাদ্যপণ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা লাভ করলো।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ভৌগোলিক নির্দেশক ইউনিট ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’-এর নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। সনদ অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের ৬৪তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে এ নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়কে জিআই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই নিবন্ধন সনদ প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের বিশেষ জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং স্থানীয় গাছিদের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির কারণে হাজারি গুড় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। এর অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এ গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বিশেষ করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও গোপীনাথপুর এলাকার উৎপাদিত হাজারি গুড় সারা দেশে পরিচিত। শীত মৌসুমে এসব এলাকার প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার হাজারি গুড় উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজারি গুড়ের বিশেষত্ব শুরু হয় এর উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই। খেজুর গাছ থেকে প্রথম কাটার যে রস সংগ্রহ করা হয়, সেই উৎকৃষ্ট মানের রস দিয়েই তৈরি করা হয় হাজারি গুড়। আগের দিন গাছে হাঁড়ি বেঁধে রাখা হয়। ভোরে সংগ্রহ করা রস দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এক কেজি হাজারি গুড় তৈরিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ লিটার কাঁচা রস।

অসাধারণ স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে বাজারে হাজারি গুড়ের দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি হাজারি গুড় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে ঝিটকা ও গোপীনাথপুর গ্রামের ২৮টি গাছি পরিবার প্রায় কোটি টাকার গুড় বিক্রির আশা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথও একসময় এই গুড় খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। সেই খ্যাতিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার বাজার।

জিআই স্বীকৃতির ফলে হাজারি গুড়ের বাজারমূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি নকল পণ্যের বিস্তার রোধ, ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণেও এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘জিআই সনদ পাওয়ার মাধ্যমে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই পণ্যের স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হলো। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ স্বীকৃতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।’

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই হলো এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের ভৌগোলিক পরিচয়, সুনাম ও স্বত্ব সংরক্ষণ করে। ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’ জিআই সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য নতুন মর্যাদা অর্জন করলো এবং বিশ্ববাজারে পরিচিতি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

আসাদ জামান/এসএন

‘দারুণ মজা!’—কালাই রুটির প্রেমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
‘দারুণ মজা!’—কালাই রুটির প্রেমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী খাবার কালাই রুটির স্বাদে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। খাবারটি খাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'দারুণ মজা!'

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নগরীর উপশহর নিউ মার্কেট এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘রুমন কালাই হাউজ’ পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি রাজশাহীর বিখ্যাত কালাই রুটির পাশাপাশি বেগুন ভর্তা ও রাজহাঁসের মাংসের স্বাদ গ্রহণ করেন।

খাবার উপভোগের আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কালাই রুটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়া আগ্রহভরে পর্যবেক্ষণ করেন। দোকানের কর্মীরা কীভাবে রুটি প্রস্তুত করছেন, তা মনোযোগ দিয়ে দেখেন এবং নিজের মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন। এ সময় তিনি কয়েকটি সেলফিও তোলেন। শুধু কালাই রুটি নয়, বেগুন ভর্তা তৈরি ও রাজহাঁসের মাংস রান্নার প্রক্রিয়াও ঘুরে ঘুরে দেখেন তিনি।

পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কালাই রুটি ও রাজহাঁসের মাংস খেতে বসেন রাষ্ট্রদূত। খাবার শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কালাই রুটি, হাঁসের মাংস ও বেগুন ভর্তার স্বাদ ছিল চমৎকার। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ‘রুমন কালাই হাউজে’ স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই একনজর তাঁকে দেখতে এবং তাঁর খাবার উপভোগের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় পুরো এলাকা ছিল উৎসুক জনতার পদচারণায় মুখর।

সফরকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর সফরসঙ্গীরাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এনায়েত করিম/এসএন