আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছে গাছে মুকুলের দেখা মিলতে শুরু করেছে। ফাগুনের হিমেল হাওয়া আসার আগেই মাঘের শীতের শেষে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল। চাষীদের আশা, আর কিছু দিনের ভিতরেই আম বাগানগুলো মুকুলে ছেয়ে যাবে। বাতাসে ছড়াবে ম-ম গন্ধ।
দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে আম। আম ঘিরে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত এখানে চাষিরা। এমন চিত্র এখন দেখা যাবে সদর ও শিবগঞ্জে আম বাগানে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। ইতোমধ্যে গুটি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষীরসাপাত, লক্ষণভোগ, আম্রপালি গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে পুরো দমে মুকুল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তা ও আম চাষিরা জানান, শীতের তীব্রতা কমে যাওয়া দুই সপ্তাহ থেকে গাছে গাছে আমের মুকুল আসা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রেকর্ড মুকুলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন আমচাষীরা।
চাষীরা দাবি করছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বেড়েছে বালাই নাশকের দাম। শ্রমিকদের মজুরীও বেড়েছে। এছাড়াও সার পাওয়া গেলেও কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। সব মিলিয়ে গত বছরের চেয়ে আমের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবছর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার এলাকার আম চাষি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানে আগাম মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মাঘ মাসের মাঝামাঝি থেকে বাগানে মুকুল আসা শুরু হলেও ফাল্গুন মাস পর্যন্ত মুকুল বের হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আরেক আম চাষি সাদরুল খান বলেন, ‘মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা করছি। মুকুল রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করা হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এই অবস্থা থাকলে এবছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘প্রাচীনকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলের অনেক মানুষ এতে সম্পৃক্ত। গত বছর ফলন ছিল অফ-সিজনের মতো। যার কারণে আমচাষীরা বেশি লাভ করতে পারেননি। এবছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। তবে বালাই নাশকের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় বাগান পরিচর্যার খরচ বেড়েছে। মৌসুমজুড়ে বাজারে বিক্রি হওয়া বালাই নাশকের মান যথাযথ হওয়া উচিত। বাজারে যে সব বালাই নাশক বিক্রি হয় সেগুলো যদি মানসম্মত হয়, তাহলে চাষীদের কম বালাই নাশক ব্যবহার করতে হবে। মান উন্নত না হওয়ায় বেশি ব্যবহারে খরচ বাড়ছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘প্রকৃতিতে শীত কমে আসছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ১২ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, এই সময়ে যদি গাছে সেচের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে মুকুল বের হবে। এছাড়া রোগ-বালাই ও পোকামাকড় দমনের জন্য নিয়মিত স্প্রে করার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে আবহাওয়া ভালো থাকলে, আশা করছি এবছর গতবারের তুলনায় মুকুল ও ফলন ভালো হবে।’
আসাদুল্লাহ/রিফাত/