মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক ও পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এক কনস্টেবলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আসাদুর রহমান বিপ্লবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত হয়েছেন ডিএসবি কনস্টেবল মো. মাইনুদ্দিনও।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আউনাড়া এলাকায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মিলন হোসেন (৩২) ও নূর হোসেন (৩০) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুর রহমান বিপ্লব আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ সময় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয় এবং অন্যজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর মুকুল নামের আরও এক মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা (স্যাচুরেশন) আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে চিকিৎসক দ্রুত তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং প্রেসক্রিপশন লিখতে থাকেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসকের কাজে বাধা দিতে থাকেন।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা রোগীর চেয়ারে বসে কথা বলতে চাইছিলেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রমে বারবার হস্তক্ষেপ করছিলেন। চিকিৎসক রোগীর অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে চাইলে তারা অতর্কিত হামলা চালায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসককে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারছে এবং চেয়ার দিয়েও আঘাত করছে। হামলায় চিকিৎসকের মাথার দুই পাশে গুরুতর জখম হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী আবু আহসান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ২০-৩০ জন লোক চিকিৎসককে মারধর করছে। ওই সময় মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল মাত্র ৫৫ শতাংশ। তিনি বলেন, চিকিৎসকের মাথা থেকে স্টেপলার পিন অপসারণ করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে, হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে আসা ডিএসবি কনস্টেবল মো. মাইনুদ্দিন মারামারি থামাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার বাম চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
অভিযোগ উঠেছে, মহম্মদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আরিফুজ্জামান মিলটন এবং তার ভাই যুবদল নেতা মো. ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরিফুজ্জামান মিলটন মোবাইল ফোনে জানান, তিনি লোকজনের মধ্যে আছেন এবং পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভিডিও বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ডিএসবি সদস্য ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
শ্রাবণ/মাহফুজ