শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নির্বাচনি ফলাফলকে কেন্দ্র করে বাজিতে হারা মহিষ ফেরত পেলেন জামায়াত সমর্থক।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহিষটি শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপির ওই সমর্থক।
মহিষ হারিয়ে মালিকের কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার কথা জানতে পেরে মানবিক বিবেচনায় তাকে মহিষ ফিরিয়ে দেন তিনি।
এর আগে, নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে এ বাজির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান ও পার্শ্ববর্তী বালুঘাটা গ্রামের আমীর হোসেনের মধ্যে অভিনব একটি বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন ৬টি মহিষ, আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমীর হোসেন দেবেন একটি
মহিষ। ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে বাজিতে পরাজিত হন আমীর হোসেন।
এতে শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আব্দুল মান্নান। মহিষ নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের ভিড় জমে সেই দৃশ্য
দেখতে।
তবে, আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ, মহিষটি ছিল আমীর হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট এবং জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
আব্দুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক তা আমি চাইনি। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটি আমীর হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি।
আমীর হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে বাজি ধরেছিলাম। আমি বাজিতে হেরে গেছি, তাই আমার পালের সবচেয়ে বড় মহিষটি আব্দুল মান্নানকে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আবার মানবিক দিক বিবেচনা করে আমার মহিষটি আমাকে ফেরত দিয়েছে। আমি খুব খুশি হয়েছি।
নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বাজিতে জিতা মহিষটি নিজ মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এতে সম্প্রীতি ও মানবতার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর কাছেও এটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আনন্দের বাজি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য উদাহরণ।
উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ১লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
শাকিল মুরাদ/সুমন/