কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর সদরের কয়েকটি ওয়ার্ডে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। পশ্চিম মাইজপাড়া, সাহাপাড়া, কাজিরকোনা, দৌলদি খাল ও ড্রেনে পানি জমে থাকা এবং গরম আবহাওয়ার কারণে মশার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করেও মশা নিধনে কাজে আসছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, এ সময়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
স্থানীয়রা বলেন, জানুয়ারি মাসজুড়ে ও চলতি মাসের শুরু থেকেই মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। ফগার মেশিনে মশা নিধনকারী রাসায়নিক স্প্রে করেও কোনো দৃশ্যমান ফল দেখা যাচ্ছে না। এদিকে পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ এবং ৭ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামে রাতে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেও মশা ভেতরে ঢুকে পড়ছে। মশার কয়েল জ্বালিয়ে থাকা এখন প্রায় সাধারণ রুটিনের অংশ হয়ে গেছে। বাসিন্দারা বলেন, ঘরে থাকা অবস্থায়ও তারা মশার কামড় থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। মশারি টাঙিয়ে সুরক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সব সময় কার্যকর হচ্ছে না।
পৌরসভার সমস্যাপ্রবণ এলাকা, বিশেষ করে ৭ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদাখাল), ৫ নং ওয়ার্ডের সাহাপাড়া, দক্ষিণ সতানন্দি এলাকায় মশার ঘনত্ব দ্রুত বাড়ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বলদাখাল।
দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের গৃহিণী মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার জানান, মশার উপদ্রব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা রাতে ঘুমানোর আগে মশারি, কয়েলসহ মশা প্রতিরোধী সব দিকেই নির্ভর করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঘরেই থাকি, তবু মশা কামড় দেয়। দিন বা রাত যে সময়ই হোক, মশারি ছাড়া শান্তি নেই। বলদাখালে ময়লা-আবর্জনা থেকে এই মশার জন্ম হচ্ছে। পৌরসভা থেকে মাঝে মধ্যে এসে পরিষ্কার করলেও বর্তমানে আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজও ঠিকঠাক হচ্ছে না।’
পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের এ কে এম পারভেজ সাজ্জাদ মিঠু বলেন, ‘এই গ্রামের প্রথম সমস্যা হচ্ছে বলদাখালের বেশকিছু জায়গায় নর্দমা বা খাল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেখানকার পানি মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত স্থান তৈরি করছে। বিশুদ্ধ ও জৈব বর্জ্যে ভরা নর্দমা মশার প্রজনন জায়গা হওয়ায় মশা দ্রুত বাড়ছে। দিনে-রাতে এই মশার উপদ্রবে অনেক সমস্যা হচ্ছে।’
জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, ‘মশার উপদ্রব শুধু অস্বস্তির কারণ নয়, এটি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে। যদিও বর্তমানে এডিসজাতীয় ডেঙ্গু মশা তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা জ্বরসংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি কম থাকলেও বিপাকীয় বাধা ও বিরক্তির কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে। এ ছাড়া ঘরবাড়িতে মশারি, কয়েল ও স্প্রের ব্যবহার বেশি হওয়ায় গৃহস্থালি ব্যয়েও বাড়তি চাপ পড়ছে।’
মশা বৃদ্ধির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘২০২৬ সালের শীত অপেক্ষাকৃত স্বল্প ছিল। শীতের তাপমাত্রা মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী ছিল। এর ফলে মশার বংশবৃদ্ধির পর্যায় দ্রুত পেরিয়ে গেছে এবং কিউলেক্স জাতের মশার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।’
মশার উপদ্রব থেকে দ্রুত স্বস্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান পৌরবাসী। দাউদকান্দি পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের পর কিছুটা শিথিল হওয়া মশা নিধন কার্যক্রম আবার ধাপে ধাপে শুরু করেছি। পৌর সদরের গ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করায় গুরুত্ব দিচ্ছি। মশা নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নকর্মীরা অনেক গ্রামে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনকারী রসায়ন ছিটানো হচ্ছে।’