দিনাজপুরে কাহারোলে খাল পুনখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবেগঘন এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর দুই বৃদ্ধ বন্ধুর দেখা হওয়া এবং অতীতের স্মৃতিচারণার মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগময়।
সোমবার (১৬ মার্চ) উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মটনী বাজার এলাকার বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী ইমাম হোসেন এবং পাশের রাজারামপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী ইউসুফ আলী- এই দুই বন্ধু বহু বছর পর খাল পুনর্খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে একে অপরকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে তারা স্মরণ করেন অতীতের সেই সময়ের কথা, যখন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে এই খাল খনন করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী, নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় আবারও শুরু হয়েছে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন কার্যক্রম। দীর্ঘদিন পানিশূন্য খালটি পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশা ও উদ্দীপনা।
ইমাম হোসেন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে যখন এই খালটি প্রথম খনন করা হয়েছিল, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম। সে সময় আমার বয়স ছিল প্রায় ২০-২৫ বছর। এতদিন পর সেই খাল আবার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আর সেটি উদ্বোধন করছেন তারই ছেলে। আজকের এই অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন খালটি পানিশূন্য ছিল। ফলে কৃষি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আবারও খালটি পুনর্খনন হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
একই অনুভূতির কথা জানান ইউসুফ আলীও। তিনি বলেন, আমার বাড়ি সাহাপাড়ায়। তখন খালটি মটনী বাজার এলাকায় উদ্বোধন করেছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আজ বহু বছর পর সেই একই খালের আরেক অংশের খনন কাজ উদ্বোধন করছেন তারই ছেলে। আমি তখন উদ্বোধনের সময় সেখানে যেতে পারিনি, কিন্তু আজ আমার বাড়ির পাশেই সেই কাজ শুরু হচ্ছে- এটা আমার জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনর্খননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। সেচের সুবিধা বাড়বে, মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ প্রায় ১২ কিলোমিটার এই খালটি পুনর্খনন হলে এলাকার নদীর সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপিত হবে। এতে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
খাল পুনর্খনন কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তাই এখন নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। বহুদিন পর এলাকার পুরোনো খাল নতুন প্রাণ ফিরে পাবে- এমন প্রত্যাশাই করছেন সবাই।
সুলতান মাহমুদ/অমিয়/