ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব
Nagad desktop

শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী বাগমারার হাজারদুয়ারি প্রাসাদ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০৯ এএম
শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী বাগমারার হাজারদুয়ারি প্রাসাদ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বীরকুতসা গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘হাজারদুয়ারি প্রাসাদ’। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের গ্রামবাংলায় এখনো ছড়িয়ে আছে জমিদারি আমলের নানা নিদর্শন। কালের প্রবাহে অনেক স্থাপনা হারিয়ে গেলেও কিছু স্থাপত্য আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে রয়েছে এমনই এক বিস্মিত স্থাপনা ‘হাজারদুয়ারি প্রাসাদ’। এক সময়ের দাপুটে জমিদারি ও আভিজাত্যের প্রতীক এই স্থাপনাটি এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। তবে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থেকে এটি এখনো বহন করছে শত বছরের ইতিহাস ও গল্প।

যুগিপাড়া ইউনিয়নের বীরকুতসা গ্রামে অবস্থিত এই প্রাসাদটি ছিল আত্রাই অঞ্চলের প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের আবাস ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রাসাদের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জমিদার রাজা গোপাল ধাম ও তার জামাতা বিরেশ্বর ব্যানার্জির নাম। তার একমাত্র কন্যা প্রভাতী বালার বিয়ের মাধ্যমেই এই প্রাসাদের ইতিহাসের সূচনা হয়।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাবিয়া হক জানান, একবার জমিদারি কাজে রাজা গোপাল ধাম তীর্থভ্রমণে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বিরেশ্বর ব্যানার্জি নামে এক স্থানীয় যুবক তার সেবা-যত্ন করেন। ওই যুবকে মুগ্ধ হন রাজা। পরে তার সঙ্গে নিজের কন্যা প্রভাতী বালাকে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে দেওয়া বিপুল অর্থেই বীরকুতসা গ্রামে নির্মিত হয় এই বিশাল রাজপ্রাসাদ।

ভারতের মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারি প্রাসাদ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে প্রভাতী বালার শর্ত ছিল–দুটি প্রাসাদ যেন একই রকম না হয়। সেই শর্ত মেনেই নির্মিত হয় বীরকুতসার এই প্রাসাদ, যা ‘হাজার দরজার প্রাসাদ’ নামে পরিচিত হলেও এতে ছিল না কোনো জানালা।

প্রাসাদটি প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত, যার মূল ভবন দুই একর জমির ওপর দোতলা হিসেবে নির্মিত। প্রাসাদে অসংখ্য দরজা, করিডর ও বিশাল কক্ষ রয়েছে। প্রাসাদের ভেতরে তিনটি উঠান, প্রশাসনিক দপ্তর, বিচার কক্ষ, খাজনা ঘর ও মোহাফেজখানা ছিল। অতিথিদের থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ও বিনোদনের জন্য ছিল বিশাল নাচঘর।

প্রাসাদটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা রোমাঞ্চকর গল্প প্রচলিত আছে। স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম কুমার প্রামাণিক জানান, জমিদার আমলে সাধারণ মানুষ প্রাসাদের সামনে জুতা পরে বা ছাতা নিয়ে যেতে পারত না। জমিদারদের সম্মান দেখাতে দূর থেকে জুতা খুলে হেঁটে যেতে হতো। এমনকি একবার একটি পালিত হাতি রাজপুত্রকে গিলে ফেলার মতো মর্মান্তিক লোককথাও এখনো গ্রামবাসীর মুখে মুখে ফেরে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর জমিদার পরিবার কলকাতায় চলে গেলে প্রাসাদটি পরিত্যক্ত হয়। পরে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছাদ ধসে পড়ছে, দেয়ালে জন্মেছে পরগাছা।

দর্শনার্থী আতিক মাহমুদ বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। দ্রুত সংস্কার করা হলে প্রাসাদটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।’ প্রাসাদটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে যুগিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম মাজিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক সম্পদ। সরকার এটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড় তুললে এলাকার অর্থনীতি ও পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান জানান, প্রাসাদটি প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংরক্ষণ ও সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মো. আয়াছ (৬৫) খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেচুয়াপালং তেলখোলা এলাকার মৃত আমিন মোহাম্মদ আলীর ছেলে। অভিযুক্ত তার বড় ছেলে মো. জুবায়ের (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জুবায়ের তার পিতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে মো. আয়াছ গুরুতর আহত হন।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুত্রের হাতে পিতার মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনায় তারা হতবাক। তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “পিতাকে গুলি করার ঘটনাটি পুলিশ জেনেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুবায়ের পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তারেকুর রহমান/এসএন

পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে আব্দুর রহিম (১৪) ও রাজিব হোসেন লাবিব (১৬) নামে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 

রবিবার (৭ জুন) দুপুরের উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহেবীজোত দশমাইল এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত আব্দুর রহিম ওই ইউনিয়নের শিতলী হাসনা এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে এবং লাবিব ওই ইউনিয়নের সাহেবীজোত এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে। 

তারা ওই ইউনিয়নের দশমাইল নুরানি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সাতমেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘রবিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার দক্ষিণ সাহেবীজোত দশমাইল এলাকায় সাড়ে ১২ টার দিকে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে তারা সাঁতার না জানায় পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা পুকুরের গভীর পানি থেকে ডুবন্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’  

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।’

রনি মিয়াজী/রিফাত/

ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর রেলস্টেশন এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।দুর্ঘটনার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, খুলনা থেকে আসা রেলওয়ের কারিগরি দল লাইনচ্যুত ট্রেন উদ্ধারের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার ও মেরামত কাজ চলার পর খুলনার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলে।

সাফদারপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নয়ন হোসেন খবরের কাগজকে জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী তেলবাহী মালবাহী ট্রেনটি সাফদারপুর স্টেশনের কাছে পৌঁছালে সকাল ৬টার দিকে ট্রেনটির পেছনের তিনটি ট্যাংকারের নয়টি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে খুলনার সঙ্গে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খুলনা থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন এবং পাকশি থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন এসে যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, গত ২১ মে একই এলাকায় আরও একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছিল।

মাহফুজুর রহমান/রিফাত/

কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আশাদুল (৩২) নামের এক যুবককে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত আশাদুল ও ভুক্তভোগী শিশু উভয়ই বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে চরমিলপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আশাদুল ওই এলাকার ফজলু সর্দারের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি (১০) অভিযুক্ত আসাদুলের প্রতিবেশীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে খাবারের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের ভেতরে শিশুটিকে নিয়ে যায় আশাদুল। সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আশাদুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন শিশুটির পাশে বসে তার মা বলেন, আমি কোন বিচার চাই না। আমার মেয়ের যে এই অবস্থা করেছে তাকে আমরা নিজের হাতে শাস্তি দিতে চাই । ওই লম্পটকে আমাদের হাতে ছেড়ে দেন। আমরা ওর বিচার করবো। আমাদের যে ক্ষতি করে দিলো তার জন্য আমরা দিনের পর দিন থানা কোট কাচারীতে যেতে পারবো না। ওকে আমাদের হাতে ছেড়ে দিন । 

ভুক্তভুগী শিশুটির নানা বলেন, ওরা মাদক ব্যাবসায়ী। এলাকায় অনেক অপকর্ম করে বেড়ায় । কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না। ওদের অবৈধ টাকার জোর আছে সেই টাকা দিয়ে পার পেয়ে যাবে । তাই তাকে পুলিশে না দিয়ে আমাদের হাতে ছেড়ে দিলে আমরা বিচার করব । নইলে বিচার পাবো না। এদেশে বিচার নেই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘শিশুটিকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতব্বর জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়েই উভয়কে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এসএন/

নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর মাইজদীতে বিষাক্ত জেলি মিশ্রিত সাড়ে তিন মণ চিংড়ি ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে পৌর বাজারে এ অভিযান চালান সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাছ বাজারে অভিযান চালিয়ে পৌর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী ইসমাইল ও বাহারের কাছ থেকে ১৪২ কেজি (সাড়ে তিন মণ) জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ সময় ওই দুইজনকে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছের ওজন বাড়াতে বিষাক্ত জেলি ব্যবহার করে। অভিযানে হাতেনাতে প্রমাণ পেয়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মাছ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।’

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রশাসনের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এটি জনস্বার্থে অব্যাহত থাকবে।’

অভিযানে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানস মণ্ডল, পৌর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম মুক্তা এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

মজনু/রিফাত/