ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টিতে অবস্থিত পৌর মার্কেটে ঝুঁকিপূর্ণ তিনতলা ভবন নির্মাণ বন্ধে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার সকালে এ নির্দেশ দেওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুনরায় কাজ শুরু হয়। এ ঘটনায় পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ঈদের ছুটির সুযোগে গোপনে দোতলা ছাদের ওপর তিনতলায় সারি সারি দোকানঘর নির্মাণ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং দুর্বল ভিত্তির এই ভবনে আগে একতলা, পরে দোতলা নির্মাণ করা হয়েছিল। নতুন করে তিনতলার নির্মাণকাজ শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেকে নিজেদের ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আশির দশকে জাতীয় পার্টির আমলে ফরিদপুর নিউ মার্কেটে রাতারাতি অবৈধ দোকান নির্মাণ করা হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে সেগুলো ভেঙে ফেলা হলেও পরবর্তী সময়ে কোতোয়ালি থানার উত্তর সীমানার গেটের সামনের ফাঁকা ফুটপাত দখল করে মার্কেট নির্মাণের নামে গোপন বরাদ্দ-বাণিজ্য শুরু হয়। একতলা ভবনের ২৬টি পজিশন সামান্য মূল্যে বরাদ্দ নিয়ে চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকায় বিক্রি করে বিশেষ মহল বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তী সময়ে পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাসিবুল হাসান লাবলুর আমলে দোতলার পজিশন বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেয়র মাহতাব আলী মেথুর সময়ে মার্কেটের পশ্চিম অংশে তৃতীয় তলায় তৎকালীন যুবলীগের আহ্বায়ক এইচ এম ফোয়াদ রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করেন। সর্বশেষ সাবেক মেয়র অমিতাভ বোসের কার্যকালের শেষ দিকে তিনতলার পজিশন বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে তীব্র বিরোধিতার মুখে তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়, এখন আবার শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টায় পৌরসভার লোকজন এসে কাজ বন্ধ করলেও দুপুরে দোকানমালিকদের নির্দেশে শ্রমিকরা আবার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনতলার দেয়ালের ওপর টিনশেড দিয়ে ছাদ তৈরির কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সচিব তানজিলুর রহমান বলেন, ‘রবিবার সকালেই কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ওই মার্কেটের দোতলায় চেম্বার করেন অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘এই অবৈধ নির্মাণ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, দুর্বল ভিত্তির কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার ভুক্তভোগী হবে নিরীহ মানুষ।’
একই মার্কেটের আরেক চেম্বারের মালিক অ্যাডভোকেট মেহেরুন নেসা স্বপ্না বলেন, ‘এটি জনস্বার্থবিরোধী এবং বেআইনি কাজ। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ফরিদপুরের সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মার্কেটের সামনে কার্যালয় থাকা মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ বলেন, ‘এই ভবন ধসে যদি আমি বা আমার পরিবারের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে যারা এই স্থাপনা অনুমোদন দিয়েছেন তারা সবাই দায়ী থাকবেন। বদলি হয়ে গেলেও যেন তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’