চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রথম দিনেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। খাবার থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গতকাল রবিবার ছিল এ কর্মসূচির প্রথম দিন। এ দিন সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খাবারের জন্য অপেক্ষা করে। শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকরা আগেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ বিদ্যালয়ে খাবার সময়মতো পৌঁছায়নি, আবার অনেক জায়গায় একেবারেই সরবরাহ করা হয়নি।
আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের সবার জন্য খাবার আনার কথা থাকলেও ৩০২ জনের জন্য দুটি করে বনরুটি ও একটি ডিম পৌঁছাতে সক্ষম হয় এনজিও সংস্থা স্বদেশ পল্লীর নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকি শিক্ষার্থীরা কোনো খাবার পায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত অগ্রযাত্রা, সরস্বতী, দুধকুমড়া, দক্ষিণ গহিরা ও পূর্ব গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ৪০টির বেশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন খাবার পায়নি। কোথাও আবার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও খাবার পৌঁছায়নি, ফলে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়েই বাড়ি ফিরে যায়।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয় স্কুল ফিডিংয়ের মাধ্যমে তাদের খাবার দেওয়া হবে। কিন্তু উপজেলার ১১০টি বিদ্যালয়ের প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার শিক্ষার্থী খাবার পায়নি। অল্প কিছু বিদ্যালয়ে পেলেও সঠিক সময়ে পৌঁছায়নি। কিছু বিদ্যালয়ে আবার দুটি খাবারের মধ্যে পেয়েছে একটি খাবার। খাবারের মেনুতে ছিল বনরুটি আর ডিম। এর মধ্যে বনরুটির উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রোমানা আক্তার খানম বলেন, ‘নির্ধারিত শিক্ষার্থীর তুলনায় খাবার কম পাঠানো হয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা (ঠিকাদার) জানান, ২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয়েছে।’
আনোয়ারা সরস্বতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুন কুমার গুপ্ত বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ঠিকাদার স্বদেশ পল্লীর নিয়োজিত কর্মীরা খাবার দিতে পারেনি। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে বাড়িতে চলে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’
সরস্বতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিন ইসলাম বলে, ‘আমরা সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলাম, আজ খাবার পাব। স্কুল ছুটির সময়েও খাবার আসেনি।’
এনজিও সংস্থা স্বদেশ পল্লীর কো-অর্ডিনেটর নাহিদ ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘পরিকল্পনা ছিল আগের দিনই প্রতিটি স্কুলে খাবার পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু শিক্ষা অফিস বা স্কুলের শিক্ষকরা সহযোগিতা করেননি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল স্কুলে দুই ঘণ্টার মধ্যে খাবার পৌঁছানোর। কিন্তু প্রথম দিন যানজটের কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) থেকে এমনটা হবে না বলে আশা করছি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিন্দোল বারী বলেন, সরকারি ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কলা, বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, ইউএইচটি মিল্ক, বিস্কুট দেওয়া হবে। তবে প্রথম দিনেই অন্তত ৪০টি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহে ঠিকাদার ব্যর্থ হয়েছে। স্বদেশ পল্লী ও নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সুফল মেলেনি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।