ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে চার শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা গণমাধ্যমকে অন্ধকার থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহিদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন শাকিব, পূর্ণিমার ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’ মানবতার এক ফোঁটা রক্ত জীবন বাঁচায় নতুন রূপে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ দেশব্যাপী ‘Go For Gold’ রাইডিং ক্যাম্প শুরু করল উত্তরা মোটর্স প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র ধামরাইয়ে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত যাত্রী ছাউনি, উপকার হচ্ছে না যাত্রীদের উদ্ভাবনের উৎসবের পর্দা নামল মাগুরায়, জাতীয় পর্যায়ে লড়বে বিজয়ী দল বেনজীরকে দ্রুত ফেরাতে সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ উন্মাদনায়ও রুটিন থাকুন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে ২০০ দোকান উচ্ছেদ চিংড়ির ভিন্ন স্বাদে চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পাকুন্দিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু দেশে এখনও প্রযুক্তিনির্ভর কমোডিটি মার্কেট গড়ে ওঠেনি: সিইসি এমডি লালপুরে টপ সয়েল কাটায় গ্রেপ্তার ২ হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উদযাপন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয়
Nagad desktop

ফেনীতে হামের জন্য আগাম প্রস্তুতি, এখনও শনাক্ত হয়নি কোনো রোগী

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ফেনীতে হামের জন্য আগাম প্রস্তুতি, এখনও শনাক্ত হয়নি কোনো রোগী
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের বিভিন্ন জেলায় হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ফেনী জেলায় সতর্কতামূলক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারা বছরই হাম শনাক্তে নিয়মিত নজরদারি (সার্ভিল্যান্স) কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। এর অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফেনীতেও এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের হার বাড়ানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়।

সিভিল সার্জন মো. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, জেলা উপজেলার সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ। তাই এতে জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

নিলয়/নাঈম

কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে দফায় দফায় দুই শিশুসহ নয়জন নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। কাঁটাতারের বেড়া থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় নিয়ে এলে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও এলাকাবাসী তা প্রতিহত করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফের দিকে ধাওয়া করে। পরে ওই নয়জন নাগরিক শূন্যরেখায় অবস্থান করেন।

এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে পুশইনের শিকার নাগরিকরা সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রৌমারীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা করে আসছে বিএসএফ। তবে দিনরাত স্থানীয় লোকজন ও বিজিবির পাহারার কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রবিবার (১৪ জুন) ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে একজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দুই শিশুসহ মোট ছয়জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রথমে বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্থানীয় জনতা ও বিজিবি মিলে সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেয়।

এ ছাড়া একই সময়ে উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলার এলাকা দিয়েও আরও তিনজন নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানেও সীমান্তরেখায় তাদের আটকে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার দুপুরে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীনস্থ দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের বিএসএফের ঝালোরচর ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার। দীর্ঘ আলোচনা শেষে পুশইন করা নাগরিকদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবি ও বিএসএফের অনড় অবস্থানের কারণে ওই নাগরিকরা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা (নো-ম্যানস ল্যান্ড) এলাকায় অবস্থান করছেন।

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফ অবৈধভাবে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ছয়জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। বিজিবি ও স্থানীয় জনতা মিলে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। বিজিবি পতাকা বৈঠকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।’

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিওপির সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোররাতে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে তারা এখন পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় দেড়শ গজের মধ্যে অবস্থান করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পুশইন ঠেকাতে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী সীমান্তে কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফকে আমরা বলে দিয়েছি, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

সিরাজ/রিফাত/

বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
অভিযুক্ত তিন ধর্ষক। ছবি: খবরের কাগজ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজারে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী ও ভুক্তভোগীর কথিত বন্ধুসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- কালিতলা বাজার এলাকার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলাম (২২), মিন্টুর ছেলে রনি (২১) এবং রহমান মাজেদুরের ছেলে মাসুদ (২২)। বর্তমানে ওই কিশোরী ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলীর নির্দেশনায় একটি বিশেষ টহল দল কালিতলা বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে মামলার দ্বিতীয় আসামি রনির বাবা মিন্টুর পরিত্যক্ত গোডাউন ঘরের সামনে একটি মোটরসাইকেলের সন্দেহজনক চলাচল পুলিশের নজরে আসে। মোটরসাইকেলটি দ্রুত ওই গোডাউন থেকে বের হয়ে আবার সেখানে ফিরে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ দল ওই গোডাউন ঘরে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ভিকটিম কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত তিন আসামিকে পালানোর সময় ধাওয়া করে আটক করে পুলিশ। পরে দ্রুত কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পারিবার ও চিকিৎসাধীন কিশোরীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে সে তার এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরবর্তীতে রাত গভীর হলে সে ফোনে পরিবারকে জানায় যে, অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় সে ওই বান্ধবীর বাসাতেই থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে  সপ্তাহখানেক আগে সেই বান্ধবীর মাধ্যমেই ১ নম্বর অভিযুক্ত তামিমের সাথে কিশোরীটির পরিচয় হয়েছিল। সেই সুবাদে তামিম তাকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে কৌশলে তাকে কালিতলা বাজারের ওই নির্জন গোডাউন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং সেখানে তামিম তার অন্য দুই বন্ধু রনি ও মাসুদকে ডেকে এনে তিনজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। 

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বেডে শুয়ে  থাকা মেয়ের অবস্থা দেখে হাসপাতালের করিডোরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা।

হাসপাতালের বাইরে অশ্রুসিক্ত চোখে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। মেয়েটা বান্ধবীর জন্মদিনের কথা বলে গেল, আর সকালে খবর পাইলাম আমার কলিজার টুকরা হাসপাতালে। পশুরা আমার মেয়ের জীবনটা শেষ করে দিল। আমি পুলিশ প্রশাসন ও মাননীয় আদালতের কাছে হাত জোড় করে আকুতি জানাচ্ছি, আমার মেয়ের ওপর যারা এই বর্বর অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের যেন ফাঁসি দেওয়া হয়। 

মেয়ের শিয়রে বসে বিলাপ করতে করতে মা বলেন, তামিম নামের ওই ছেলেটা আমার সরল মেয়েটাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। আমার মেয়ে তো কোনো অপরাধ করেনি, তবে কেন তার সাথে এমন পৈশাচিক আচরণ করা হলো? আমি এই নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন শাস্তি চাই। 

কালিতলা বাজার ও জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কালিতলা বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, মিন্টুর এই গোডাউন ঘরটি রাতের বেলা প্রায়ই ফাঁকা থাকে। লম্পটরা এই সুযোগটাই নিয়েছে।

আমাদের এলাকায় এমন জঘন্য ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। এই ঘটনার পর আমরা আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ছালমা বেগম বলেন, বন্ধুত্বের নামে ডেকে এনে এভাবে একটা বাচ্চার জীবন ধ্বংস করে দেওয়া মেনে নেয়া যায়না। দ্রুত তাদের শাস্তি না দিলে আমরা এলাকাবাসী রাজপথে নামতে বাধ্য হব।

এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, আমাদের টহল পুলিশের তৎপরতার কারণেই মেয়েটিকে  উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।  আমরা ঘটনাস্থল থেকেই মূল তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নবীন হাসান/এসএন

 

নতুন রূপে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
নতুন রূপে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বেদখলে থাকা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ এখন নতুন রূপে ফিরছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে মাঠটির আধুনিকায়ন, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুব শিগগিরই মাঠটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এবং তা নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মাঠটির উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মাঠটিকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যাতে নগরবাসী খেলাধুলা, ব্যায়াম ও বিনোদনের সুযোগ পায়।

মাঠটির উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চারপাশে আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ, দর্শনার্থীদের জন্য গ্যালারি সুবিধা, ব্যাপক সবুজায়ন, নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপিং এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, বরং নগরবাসীর জন্য একটি আধুনিক উন্মুক্ত বিনোদন ও স্বাস্থ্যচর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।

পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত সবুজ স্থান ও আধুনিক খেলার মাঠ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলামুখী করে তোলা এবং একটি সুস্থ, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে আধুনিক খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই।

মেয়র আশা প্রকাশ করেন, আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ উদ্বোধনের পর এটি নগরবাসীর অন্যতম প্রিয় উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং চট্টগ্রামের ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৪) আনোয়ার জাহান, উপসহকারী প্রকৌশলী এ টি এম সেলিম রেজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এসএন/

ধামরাইয়ে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত যাত্রী ছাউনি, উপকার হচ্ছে না যাত্রীদের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ধামরাইয়ে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত যাত্রী ছাউনি, উপকার হচ্ছে না যাত্রীদের
নির্মিত যাত্রী ছাউনি এবং ইনসেটে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার ধামরাইয়ে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। জনগণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করে নিজ বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ে তিনি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেন। এতে সরকারের উন্নয়ন তহবিলের অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ছাউনিটি ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ধামরাই কালামপুর আঞ্চলিক সড়কের গোয়ালদী গ্রামে চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের বাড়ির সামনে নির্মিত হয়েছে।

প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি সাধারণ যাত্রীদের কোনো উপকারেই আসছে না। সেখানে যাত্রীদের কোনো যানবাহনের স্টপেজ নেই। একজন যাত্রীও সুবিধা পাচ্ছেন না তার নির্মিত সরকারি বরাদ্দের এই যাত্রী ছাউনিতে। এটি তার নিজের বাড়ির পুকুর পাড়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেন তৎকালীন সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলে। এরই ধারাবাহিকতা তোপের মুখে গত প্রায় আট মাস আগে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির সামনে পুকুরপাড়ে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রী ছাউনিটি সোমভাগ ইউনিয়নের গোয়ালদী এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের বাড়ির সামনের পুকুরের পূর্বপাশে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যাত্রী ছাউনির কোনো সাইনবোর্ড নেই। নির্মাণশৈলী ও অবস্থান দেখে এটিকে যাত্রী ছাউনি না বলে ব্যক্তিগত বিশ্রামাগার বা আড্ডাস্থল বলেই মনে হয়। বিশেষ করে সড়কের দিকে মুখ করে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলেও এখানে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। যা যাত্রীদের ব্যবহার উপযোগী নয়। একজন যাত্রীও এখানে আসেন না। অথচ তার একশত গজ পূর্ব পাশেই রয়েছে তিন রাস্তার মোড়। যেখানে যাত্রীরা এসে দাঁড়িয়ে থাকছে। 

স্থানীয়রা জানান, ধামরাই-কালামপুর সড়কে কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম তিন চাকার অটোরিকশা। যাত্রীরা সুবিধাজনক স্থান থেকেই অটোরিকশায় ওঠানামা করেন। ফলে ওই স্থানে যাত্রী ছাউনির কোনো প্রয়োজন ছিল না। যাত্রী ছাউনিটি আর একটু পূর্ব পাশে তিন রাস্তার মোড়ে স্থাপন করা হলেও, যাত্রী বা স্থানীয়রা এই প্রচণ্ড গড়মে একটু বসার সুযোগ পেতেন। একদিকে এ রাস্তায় যেমন বড় কোনো যানবাহন চলাচল করে না, অন্যদিকে নিজের ব্যক্তিগত জায়গায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, তাই এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধা ও প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এটি মূলত চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, জনস্বার্থে নয়।

যদিও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হত্যা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান পলাতক ছিলেন, যার জন্য সে উদ্দেশ্য হয়ত বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে রাতের বেলায় সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, আব্দুল জলিলসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মিত স্থাপনাটি কোনো জনকল্যাণ কাজে ব্যয় হয়নি। পরিকল্পনাহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ যাত্রী ছাউনি কোথায় হলে ভালো হবে, এমন কোনো চিন্তা ভাবনা না করে নিজের বাড়ির সামনেই তিনি এটি নির্মাণ করেন। অথচ একটু পূর্ব পাশেই রয়েছে তিন রাস্তার মোড়। যেখানে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় জনগণ রিকশায় ওঠানামা করেন বা বিশ্রাম নেন। 

নিয়ামত আলী নামে এই যাত্রী বলেন বলেন, প্রকল্প গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি থাকলে এ ধরনের অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয় ঘটত না। কোনো সরকারি কর্মকর্তা এর তদারকি করেননি। তাদের গাফিলতির কারণেই এমন হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।

রেজাউল করিম নামে আরেক যাত্রী বলেন, এ ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। চেয়ারম্যান তার নিজের বাড়িতে যাত্রী ছাউনি তৈরি করেছেন।অন্যের কথা ভাবার মতো সময় তার নেই। এটি সরকারি বরাদ্দ অথচ নিজের বাড়ির সামনে নির্মাণ করা হয়েছে ছাউনি। 

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রুহুল আমিন/নাঈম

চট্টগ্রামে ২০০ দোকান উচ্ছেদ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
চট্টগ্রামে ২০০ দোকান উচ্ছেদ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে সড়ক ও ফুটপাত থেকে প্রায় ২০০টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে নগরের সাগরিকাস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে সাগরিকা রোডের বিটাক বাজার এলাকায় এ অভিযানটি চালানো হয়।

চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে অভিযাটি চালানো হয়।

তিনি বলেন, আজকের অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত থেকে প্রায় ২০০ টি দোকান উচ্ছেদ করে ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, পাহাড়তলী থানা ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা করেন।

রিফাত/