ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার বেহাল দশা ও সড়কে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্টি। গত দুদিনে টানা বৃষ্টি, সড়কে কাদা পানি জমে থাকা এবং বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় মহাসড়কে বেহাল দশায় পরিণত হয়।
এছাড়া রাতভর সড়কের পাশে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে এলোমেলো পার্কিং করে গাড়ির দীর্ঘ সিরিয়াল ও মহাসড়কের তিনটি পয়েন্টে সড়কের ওপরে গাড়ি উল্টে যাওয়ায় কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত এ যানজটে সৃষ্টি হয়। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুটি লেনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধীরগতির যান চলাচল করে। পরে দুপুরের দিকে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। গত দু’দিনের বৃষ্টির ফলে সড়কের অনেক স্থানে খনা খন্দ তৈরি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে মতো থাকে। কোথাও কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কের দু’পাশের কাঁচা রাস্তায়ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একসঙ্গে একাধিক গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। বিশেষ করে ভারী যানবাহন, যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক ধীরগতিতে চলাচল করায় পুরো মহাসড়কজুড়ে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। কাঁচপুর সেতুর নিচ দিয়ে ইউটার্ন হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় চাপ গিয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ওই সড়কে রাস্তার সংস্কারের ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলে।
এদিকে মহাসড়কের মদনপুর এবং জাঙ্গাল থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় তিনটি গাড়ি রাস্তার উপড়ে উল্টে দিয়ে বিকল হয়ে যায়। অন্যদিকে মহাসড়ক ঘেঁষে অবস্থিত বিভিন্ন তেলের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সংগ্রহের লক্ষ্যে এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং রাখায় এ যানজট।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তিন ভাগের দুই ভাগ কাদা ও পানিতে তলিয়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে একবারে একটি করে গাড়ি পার হতে পারছে। কাঁচপুর সেতুর নিচ দিয়ে সিলেট মহাসড়কে গাড়ি প্রবেশ করতে না পারায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কের তিনটি জায়গায় গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমাদের একাধিক টিম কাজ করে। বিকল হওয়া গাড়ি সরিয়ে নেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করেন এবং বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ থানার ইনচার্জ বিষ্ণপদ জানান, পাম্পে তেলের জন্য এলোমেলো গাড়ি রাখায় এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এটা রাত থেকেই হয়েছে। মহাসড়কের যানজট স্বাভাবিক করতে সকাল থেকে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে।
মো: ইমরান হোসেন/এসএন