ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাংচৌতে চায়না এআই উদ্যোক্তা সম্মেলন শুরু রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম ইসাক-গাইকোরেস রসায়নে মুগ্ধ কোচ পটার মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান বাজেট কি শিশুবান্ধব ও শিশুর খাতে দৃশ্যমান? পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ হল ছাড়লেন জাকসুর জিএস, সময় চাইলেন ভিপি হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে এসে ২০ বছরের তরুণীকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাতের নাগরিক তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র আমরা সব ইরানির জন্য খেলি: তারেমি কালীগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে মুখোমুখি বিএনপির দুই গ্রুপ ক্যারিয়ার গড়ুন সীমান্ত ব্যাংকে ত্রিশালে সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, পলাতক মাদরাসা সুপার অবশেষে মায়ামিতে উরুগুয়ে দল খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার তৌহিদ আফ্রিদি ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা মহাখালী বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, আলোচনায় সায়েদাবাদ-ফুলবাড়িয়া ব্রাজিলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেল গায়ক অ্যামচেমের নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন নওগাঁয় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন সরকার ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে: কৃষিমন্ত্রী মাদারীপুরে সংঘর্ষে আহত ১০, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২১৬৭ মামলা
Nagad desktop

পাহাড়ে বর্ষবরণ শুরু

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
পাহাড়ে বর্ষবরণ শুরু
ছবি: খবরের কাগজ

পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে আজ রবিবার শুরু হচ্ছে তিন দিনের বর্ষবরণ উৎসব। পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নদীতে ফুল ভাসান পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ। তাদের বিশ্বাস, এ ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ, গ্লানি, হতাশা, অমঙ্গল মুছে গিয়ে নতুন বছরে সুখ, শান্তি, কল্যাণ বয়ে আনে। পাহাড়ের প্রধান এ সামাজিক উৎসবকে ঘিরে নানান বর্ণে আর আয়োজনে সেজেছে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পাহাড়ি জনপদ। উৎসবের এ আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

মূলত চৈত্রসংক্রান্তিতে বাংলাবষের্র বিদায় ও বরণ উপলক্ষে এ উৎসব উদযাপন করেন পাহাড়ি জনগণ। চলে ২৯ চৈত্র থেকে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত। নদীতে ফুল ভাসিয়ে শুরু হয় তিন দিনের উৎসব। বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাইং আর চাকমারা উৎসবটিকে বিজু নামে পালন করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি। এর বাইরে তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা সাংক্রান ও অহমিয়ারা বিহু, সাঁওতালরা পাতা নামে তিন দিনের উৎসব পালন করে।

উৎসবের প্রথম দিনকে চাকমারা ফুলবিজু, মারমারা পাইংছোয়াই, ত্রিপুরারা হারিবৈসুক নামে পালন করে। এদিন থেকে পাহাড়িদের ঘরে ঘরে শুরু হয় আপ্যায়নের নানা আয়োজন। ঘরগুলো সাজানো হয় বিজু ফুল ও নিম পাতা দিয়ে। ১৩ এপ্রিল উদযাপিত হবে উৎসবের মূল দিবস। এ দিন চাকমারা মূলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা নামে পালন করে উৎসবটির। 

১৪ এপ্রিল অর্থাৎ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বা উৎসবের তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যে, মারমারা সাংগ্রাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল নামে পালন করবে। বৈসাবির এ দিনে হয় বর্ষবরণ বা বৈশাখী উৎসব। এরপর ১৫ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী রাঙামাটিসহ তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলোৎসব। আর এর মধ্য দিয়েই পাহাড়ের এই বর্ণিল বর্ষবরণ উৎসব শুরু হবে। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে জল উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

উৎসবে পাহাড়িদের ঘরে ঘরে পাজন (পাঁচন) ও তরমুজ পরিবেশন করা হয়। কমপক্ষে ২১ পদের সবজি মিশিয়ে রান্না হয় সুস্বাদু পাজন তরকারি। এ ছাড়া পরিবেশন করা হয় ঘরে তৈরি মদ, মিষ্টান্ন, পায়েস, পানীয়, ফল ও ভোজনসহ নানা খাবার। আবহমান বাংলার চিরাতি বৈশাখী উৎসবের অংশীদার হন পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ।

রাঙামাটিতে আজ সকালে রাঙামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদের তীরে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে সূচিত হবে উৎসবটির। রাঙামাটি রাজবন বিহারের পূর্ব ঘাটে আনুষ্ঠানিক ফুল ভাসানো হবে উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে। এ ছাড়া শহরের গর্জনতলী মধ্যম দ্বীপে ও তবলছড়ির কেরানী পাহাড় ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ভাসানো হবে ফুল।

খাগড়াছড়িতে চাকমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ মাঈনী ও চেঙ্গী নদীর তীরের বিভিন্ন স্থানে ফুল ভাসাবেন। আর বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসাবেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।

রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম
ছবি: খবরের কাগজ

জিআই স্বীকৃত ও স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় উত্তরের ঐতিহ্যখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসছে। অতিবৃষ্টির কারণে আমের ফলন এবার কিছুটা কম হলেও নেই আগের মত চিরচেনা রং। তবুও ৩০০কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ ও আম চাষিরা।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আবাদ হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ২টায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আম উদ্বোধনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই রংপুরের বাজারজুড়ে ছয়লাভ হয়েছে ভ্রাম্যমাণের বেচাকেনার। বর্তমানে এই আম পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে (কাঁচা) প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।  আর (পাকা) আম বিক্রি করছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও দাম গতবারের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যে হাট ঘিরে হাঁড়িভাঙার বিকিকিনি হয়, সেই হাট এলাকার ব্যবসায়ী ও আম চাষিদের মধ্যে অস্বস্তির শেষ নেই। একদিকে ফলন কম অন্যদিকে হাঁড়িভাঙার রাজধানীখ্যাত পদাগঞ্জ হাটের বেহাল দশা। বাইপাস সড়কগুলোও কর্দমাক্ত অবস্থায় দুর্ভোগের শেষ নেই। পাশাপাশি কাগজে-কলমে জিআইপণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এই আমের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না চাষিদের।

সকালে পদাগঞ্জ এলাকা ঘুরে কথা হয়, পদাগঞ্জ বাজারের আম ব্যবসায়ী সজীব শেখ জানান, প্রতিবছর জিআইপন্য খ্যাত এই আমের হাট ৫০ লাখ টাকার উপরে ইজারা ডাক হয়। কিন্তু এই হাটটিতে এটি আধুনিক আম বিক্রির সেটের দাবি করে করা হলেও সেই দাবিটি থেকেছে উপেক্ষিত ফলে কাদামাটিতেই বিক্রি করতে হয়।

হাঁড়িভাঙ্গা আমের প্রবর্তক নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে ও আমচাষি আমজাদ হোসেন পাইকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শুনছি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানোর জন্য গবেষণা করছে। কিন্তু এখনো এর বাস্তব সুফল পাইনি। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি বলে ক্ষুব্ধ তিনি।’

আমজাদ হোসেন বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গার রাজধানীখ্যাত পদাগঞ্জ এলাকায় রাস্তার অবস্থা খারাপ, নেই পর্যাপ্ত আবাসন, ব্যাংকিং সুবিধা কিংবা স্থায়ী বিপণন শেড। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।’

কৃষি বিভাগ ও চাষিদের মতে, জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে পরিপক্ব ও উন্নত মানের হাঁড়িভাঙ্গা আম পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে ওঠা আমের বেশিরভাগই অপরিপক্ব হতে পারে। প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষমুক্ত ও অতি সুমিষ্ট আঁশহীন হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কয়েক বছর ধরে ফলন ভালো হওয়ায় বেড়ে চলেছে আম উৎপাদনের পরিধিও। রংপুর সদর, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃত এলাকার ফসলি জমি, বাগানসহ উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে এই আম। অভাব গুছিয়ে সচ্ছলতা ফিরছে হাজারো পরিবারে। এই আমের মৌসুম ঘিরে মৌসুমীভাবে নানাভাবে কর্মযজ্ঞে জীবন জীবিকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় প্রায় ৩০ হাজার লোকের।

তবে জিআই স্বীকৃতি মিললেও এই আমের বাণিজ্যিক প্রসার নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের রয়েছে চাপা ক্ষোভ। চাষীদের অভিযোগ রয়েছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের দীর্ঘ সময়ের চলমান আমের লাইফলাইন নিয়ে কাজের অগ্রগতি নিয়েও।

৭০ বছর আগে ডিমলার রাজা তাজবাহাদুর সিংয়ের বাগানবাড়ি থেকে একটি কলম চারা নিয়ে এসে লাগিয়েছিলেন মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রামের নফল উদ্দিন পাইকার। সেই গাছ থেকেই আজকের হাঁড়িভাঙ্গা আম। যা এই অঞ্চলের প্রান্তিক অর্থনীতিকে করেছে চাঙ্গা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার  হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আম প্রায় ১০ থেকে ১২ টন ফলন হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান,  শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকার বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন। এবার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হাঁড়িভাঙা বেচাবিক্রি হবে। যা এই অঞ্চলের প্রান্তিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বলেন, ‘জিআইপণ্যখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত আজ দুপুর থেকে শুরু হবে। যেহেতু এবার একটু ফলন কম হয়েছে। সুতরাং আমের বাজার মূল্য এবার চাষিরা ভালোই পাবেন বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামোগত যে অসুবিধা, ব্যাংকিংসহ রাস্তাঘাট এবং নিরাপত্তা সেসব বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। কিভাবে এগুলোর সমাধান করা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা দূর করার চেষ্টা করছি। ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল জিআই বা ভৌগলিক পণ্যের স্বীকৃতি পায় হাঁড়িভাঙা আম।’

সেলিম/রিফাত/

মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও ইনসেটে মাগুরা জেলা প্রশাসক। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে মাগুরা জেলা স্টেডিয়াম থেকে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

এর আগে রবিবার (১৪ জুন) রাত প্রায় ১২টার দিকে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে রাজধানীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঢাকায় পাঠানোর সময় মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামিম কবিরসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জেলা প্রশাসকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামিম কবির জানান, জেলা প্রশাসক মূলত ‘অ্যাকিউট এক্সাসারবেশন অব পেপটিক আলসার ডিজিজ (পিইউডি) উইথ সাব-অ্যাকিউট ইনটেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন’-এ আক্রান্ত হয়েছেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, তার শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্যাসট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয় এবং পেট ফুলে যাওয়ার উপসর্গ দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো এবং স্থিতিশীল রয়েছে। তবে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কাসেমুর রহমান/নাঈম

বাংলাদেশে এসে ২০ বছরের তরুণীকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাতের নাগরিক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
বাংলাদেশে এসে ২০ বছরের তরুণীকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাতের নাগরিক
ছবি: খবরের কাগজ

হাজার মাইল দূরে দুই দেশের দুই মানুষ। একজন শরীয়তপুরের ২০ বছরের তরুণী, অন্যজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক নাগরিক। ভাষা, সংস্কৃতি আর বয়সের বিস্তর ব্যবধানও তাদের ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দুবাইয়ের একটি পার্কে হঠাৎ পরিচয়, এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই প্রেমের টানেই সুদূর আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন সলেমন। ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী করতে আজ বসছেন বিয়ের পিঁড়িতে। তবে এই অসম বয়সের প্রেম ও বিয়ে নিয়ে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা দুই বছর আগে কাজের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আবুধাবিতে যান। সেখানে পার্কে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় সেখানকার বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব সলেমানের সঙ্গে। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে সুবর্ণা দেশে ফিরলে গত তিন দিন আগে বাংলাদেশের ছুটে আসেন সলেমন। পারস্পরিক ভালোবাসার পর পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করে মেয়ের পরিবার।

রবিবার (১৪ জুন) রাতে জমকালো আয়োজনে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে আজ বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ে উপলক্ষ্যে জামাই সলেমনের নিজ খরচে প্রায় দেড় হাজার আত্মীয় স্বজনদের ভোজের আয়োজন করে সুবর্ণার পরিবার। ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসার এমন পরিণতি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা। 

সুবর্ণার নানি ফুলজান বিবি বলেন, আমার নাতিন দুবাই গিয়েছিল। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসে আমার নাতনিকে বিয়ে করেছে। আমরা অনেক খুশি। 

রুবিনা বেগম নামের এক নিকটাত্মীয় বলেন, দুই বছর আগে এই মেয়ে বিদেশ গেছে, সেখান থেকেই এই পোলার সাথে পরিচয়। এখন মাইয়া পোলা পছন্দ করে বিয়ে করেছে। পোলায় নিজে খরচপাতি করে মেয়ে নিতাছে। আমরা চাই তারা ভালো থাকুক। 

হাজার মাইল দূরের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণতি পেল বিয়ের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে কাছে পেয়ে ভীষণ খুশি বাংলাদেশি তরুণী সুবর্ণা।

সুবর্ণা বলেন, আমি দুবাইকে থাকাকালীন তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। সেখান থেকে সে আমাকে ভালোবেসেছে। সেই ভালবাসা থেকে আমাকে বিয়ে করতে দুবাই থেকে ছুটে এসেছে। আমি নিজের ইচ্ছেতে তাকে বিয়ে করেছি, আমি খুব খুশি। 

তবে এ ব্যাপারে ক্যামেরায় কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি হননি দুবাই থেকে আসা নাগরিক সলেমন। এমনকি মেয়ের বাবা-মাও কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি।  

দ্রুত সময়ের মধ্যে গড়ে ওঠা এই অসম বয়সের প্রেম ও বিয়ে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবন কামনা করলেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বরকত মোল্লা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দুবাই থেকে প্রেমের টানে জাজিরার এক স্থানীয় মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছে সেখানকার নাগরিক। মাঝেমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় দেখি বিদেশি ছেলে বাংলাদেশে প্রেমের টানে চলে আসে এবং বিয়েও করে এবং সেই বিয়ে কতদূর পর্যন্ত টিকে সেটি আসলে আমরা জানিনা। কেননা হুটহাট করে এভাবে বিয়ে না দিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিয়ে দেওয়া জরুরি। হতে পারে এগুলো প্রতারণার ফাঁদ।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, এ ধরনের কোনো খবর পাইনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারবো। 

বিধান মজুমদার/নাঈম

ত্রিশালে সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, পলাতক মাদরাসা সুপার

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ত্রিশালে সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, পলাতক মাদরাসা সুপার
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় এক টন সরকারি বইসহ একটি পিকআপ জব্দ করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত মাদরাসা সুপার হাফেজ মাওলানা ইউনুস আলী পলাতক রয়েছেন।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলার বীর রামপুর গফাকুড়ি মোড় থেকে সরকারি বইসহ পিকআপটি জব্দ করে চালককে আটক করা হয়।

আটক মো. জাকারিয়া বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরাফাত সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গফাকুড়ি মোড়ে ফুলকুড়ি দাখিল মাদরাসার সুপার হাফেজ মাওলানা ইউনুস আলী সরকারি বই অবৈধভাবে একটি পিকআপে তুলে দেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা গাড়িসহ চালককে আটক করেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনুমানিক এক টন সরকারি বইসহ পিকআপটি জব্দ করে।

ত্রিশাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, 'ফুলকুড়ি মাদরাসার সুপার একটি পিকআপে বই উঠিয়ে দিয়েছিলেন। তখন এলাকার লোকজন আমাদের ফোনে জানান। পুলিশ পিকআপসহ চালককে আটক করে। তবে মাদরাসা সুপারকে পাওয়া যায়নি।

ইউএনও মো. আরাফাত সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, 'মাদরাসার সুপার ইউনুস আলী বইগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন খবরের কাগজকে বলেন, 'ইউএনও পিকআপ ও চালককে থানায় হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

কামরুজ্জামান মিন্টু/থিও

নওগাঁয় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
নওগাঁয় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে নওগাঁ সার্কিট হাউস থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে দিবসটির নানা তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনামিকা নজরুল, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক আলমগীর হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দসহ প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, 'তামাক কোম্পানিগুলো তরুণ প্রজন্মকে টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তামাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। বাজারে ই-সিগারেট নামে নতুন পণ্য এসেছে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিকোটিন গ্রহন করলে বিবেচনা শক্তি হারিয়ে ফেলে। কেউ নিকোটিনে আসক্ত হলে তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যায়। সামাজিক সচেতনতার অভাবেই সমাজে তামাক ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি হলে তামাকের ব্যবহার কমে আসবে। 

হারুন/থিও