কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা, এবং তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থাপনাটিতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিপুল পরিমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন।
নিহত আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) ওই দরবারের প্রধান ছিলেন। হামলায় আরও তিন অনুসারী—মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের—আহত হন; তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ৩ টার দিকে এই ঘটনা ঘটলেও, রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহতের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে সাড়ে১১টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। ময়নাতদন্ত শেষে দরবার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।
তবে এক্ষেত্রেও শঙ্কার মধ্যে আছে পরিবার। আর দাফনের পরেই পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
মিলন/অন্তরা