পঞ্চগড়ে পরিত্যক্ত জমিতে সুপারি গাছ লাগানোর কাজ করতে গিয়ে একটি মর্টারশেল পেয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার পশ্চিম জালাসী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিতে সুপারি গাছ লাগানোর কাজ করার সময় কোদাল দিয়ে কোপ দিলে একটি শব্দ হয়। পরে সেখানে মাটি খুড়তেই তাদের কোদালে উঠে আসে একটি মর্টারশেল। সেটির মাটি ও মরিচা পরিস্কার করে বাসায় নিয়ে রাখা হয়। একপর্যায়ে বস্তুটি কি তা জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন জমির মালিক হোসেন আলী ও তার ছেলে সোহান। পরে সদর থানার পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্টারশেলটি উদ্ধার করে। মরিচা পড়ায় মর্টারশেলটি কত আগে তৈরি হয়েছিল সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় বয়োবৃদ্ধদের দাবি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জালাসি এলাকায় খান সেনারা একাধিক মর্টারশেল নিক্ষেপ করেন। সে সময় বেশ কয়েকটি মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়, হয়তো তখন এটি বিস্ফোরিত হয়নি। যে স্থানে মর্টারশেলটি পড়েছিল সেখানে এখনো গর্ত হয়ে রয়েছে।
জমির মালিক হোসেন আলী বলেন, আমার এই জমিটি অনেকদিন ধরে পড়েছিল। পরে এটি নালা করে সুপারি বাগান লাগানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করি। আজকে কাজ করার সময় শ্রমিকদের কোদালে একটি লোহার টুকরা উঠে আসে। আমি তো ওইটিকে চিনি না, পরে তারা বাসায় নিয়ে যায়। পরে আমার জামাতাকে ফোন দিয়ে জানতে পারি এটি বোম। পরে পুলিশের হাতে আমরা হস্তান্তর করি।
শ্রমিক জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা হোসেন আলী চাচার জমিতে সুপারি গাছ লাগানোর কাজ করছিলাম। একপর্যায়ে আমি মাটিতে কোদাল দিয়ে কোপ দিতেই আওয়াজ হয়। পরে দেখতে পাই লোহার মত একটি জিনিস, পরে এটিকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে এটি পরিষ্কার করার সময় একটু বারুদের গন্ধ বের হয়। এটি কি আসলে আমি জানি না তবে শুনেছি বোমার মতো জিনিস।
সমর আলী নামে ষাটোর্ধ্ব এক শ্রমিক বলেন, আমরা চারজন মিলে জমিতে কাজ করছিলাম। তখন আমার ছেলের কোদালের কোপে একটি লোহা বের হয়ে আসে। আমি প্রথমেই এটাকে দেখে চিনতে পেরে বোম হিসেবে তাদেরকে জানাই। কেননা আমাদের এলাকায় যুদ্ধের সময় এই একই জায়গায় তিনটি বোম পড়েছিল। আমার তখন স্পষ্ট মনে আছে আমরা এই এলাকা দিয়ে তখন হাটাহাটি করতাম।
মর্টারশেল দেখতে আসা সাখাওয়াত উল্লাহ শাহীন বলেন, আমি দোকানে ছিলাম, পরে জানতে পারি জমিতে কাজ করার সময় আমাদের এলাকায় একটি মর্টারশেল পাওয়া গেছে। পুলিশের সদস্যরা এসে এটিকে ঘিরে রাখে। আমি আগে কখনো মর্টারশেল দেখিনি এই প্রথম দেখলাম।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, আসলে বস্তুটি মর্টারশেলের সদৃশ। তবে আমরা এখনো বিস্তারিত বলতি পারছি না এটি কবে তৈরি করা হয়েছে, কোথায় ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জিনিস এটি। আমরা এটিকে সংরক্ষণ করবো। পরে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে।
রনি মিয়াজী/নাঈম