কুয়াকাটায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মহীপুর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল মিয়া জানান, গত ২৩ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন তেত্রিশকানী এলাকার কেওড়া বাগান থেকে কিছু ব্যক্তি গাছ কেটে নিচ্ছে। পরে বনকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ৩ থেকে ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ১০ থেকে ১২টি কেওড়া গাছ কেটে নেওয়ার প্রমাণ মেলে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা তার ব্যবহৃত মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং এতে থাকা তথ্য মুছে ফেলে। বনকর্মীরা এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ইট, দা, লাঠি, কুড়াল ও করাত দিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা বনকর্মীরা আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী সোলেমান বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমরা উপস্থিত না থাকলে বন কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। ৫ থেকে ৭ জন মিলে তাদের ওপর হামলা চালায়।’
এদিকে ঘটনার পর একপর্যায়ে বন বিভাগের একজন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
আহত বনকর্মী রুবেল হোসেন বলেন, ‘সরকারি সম্পদ রক্ষায় গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের মারধরের পাশাপাশি টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
অভিযুক্ত আবু সালেহ ফকিরের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য অভিযুক্ত আল-আমিন ফকিরের নম্বরে যোগাযোগ করলে তার ছেলে পরিচয়ে নেছার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘মারধরের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি।’
মহীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি বাগানের গাছ কাটা গুরুতর অপরাধ। হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
মহীপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’