ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি

সিলেটে নদী খননে জিয়ার পর তারেক, ‘বাইয়ারপাড়ে’ ৪৯ বছর আগের সেই আনন্দ

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
সিলেটে নদী খননে জিয়ার পর তারেক, ‘বাইয়ারপাড়ে’ ৪৯ বছর আগের সেই আনন্দ
বাসিয়া নদীর উৎসমুখের এই অংশ ৪৯ বছর আগে খনন হয়েছিল। আগামী ২ মে এখানে আবার খননকাজ শুরু হবে। ইনসেটে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকাজের তিন সঙ্গী আরব আলী, শায়েস্তা মিয়া ও আইয়ুব আলী/ মামুন হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের চার উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত বাসিয়া নদী। সুরমা থেকে উৎপত্তি হয়ে এটি মিশছে কুশিয়ারা নদীতে। উৎসমুখ সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাশুকগঞ্জ বাজারে। ১৯৭৭ সালে এখানে প্রথম খননকাজ শুরু হয়, যার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সেই খননের পর কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। সেচ সুবিধার কারণে ‘বাইয়ারপাড়ে চাষবাস ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ হয়। নদীতীরের অনাবাদি জমিসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ফসল উৎপাদন বাড়ে। সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলার বরাক, চাউলধনী, ছালীয়া, মউডুবী ও দয়ালং হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর কৃষিজমির সেচসংকট প্রাকৃতিকভাবেই দূর হয়। তবে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলে খননের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। ফলে চাষাবাদে সংকট দেখা দেয়। নদীটিও দখল-দূষণে মৃত খালে রূপ নেয়।

প্রায় ৪৯ বছর পর এবার সরকারপ্রধানের হাতে নদী খননের পরিকল্পনার সূচনা হতে চলেছে। আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খননকাজের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাইয়ারপাড় এলাকায় যেন ফিরে এসেছে ৪৯ বছর আগের সেই আনন্দ।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর নদীর প্রায় ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প-বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ২৪ এপ্রিল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, মাশুকগঞ্জ বাজার থেকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খননকাজ চলবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সেই খনন স্মৃতির ৩ সাক্ষী

প্রায় ৪৯ বছর আগের সেই খনন স্মৃতির সাক্ষী বাইয়ারপাড়ের আরব আলী (৭৫)। তরুণ বয়সের সেই দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে তার চোখমুখ জ্বলজ্বল করছিল। পরনে সাদা গেঞ্জি, মাথায় ক্যাপ, হাতে কোদাল। এই বেশে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে যখন খননকাজে নেমে পড়েন, তখন উৎসাহে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সঙ্গে হাত মেলান আশপাশের মানুষও। এ বর্ণনায় আপ্লুত আরব আলী বলেন, ‘তাইন (রাষ্ট্রপতি) মাটি কাটরা (খনন) দেইখা আমরাও হাত লাগাইছি। আমার ছোট ভাইরে মাথায় হাত দিয়া মায়া করছইন (আদার করেছেন)। একটা গেঞ্জি গাউত (শরীরে), মাথায় টুপি। পয়লা দেইখা আমরা কেউ বুঝতাই পারছি না, এইন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান!’

আরব আলীর পাশে থাকা একই বয়সী শায়েস্তা মিয়াও ফিরে যান সেই স্মৃতিতে। তিনি জানান, সেই খননের পর বাইয়ারপাড়ের চাষবাস দেখতে পরের বছর ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এসেছিলেন। শায়েস্তা মিয়া বলেন, ‘তাইনযে (প্রধানমন্ত্রী) তাইনের বাবার স্মৃতির পুনর্জাগরণ নিজ হাতে কররা, আমরা সব খুব খুশি, খুব আনন্দের!’

তারা তাদের দেখার স্মৃতি থেকে বলেছেন, ১৯৭৭ সালের নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রথম দফা খনন হয় বাসিয়া নদীর মুখ। এরপর দ্বিতীয় দফা ১৯৭৮ সালের জুন মাসে। তখন খনন এলাকায় একটি জনসভাও করেছিলেন। এরপর সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও তখনকার স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিক (বর্তমান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা) খননের কার্যকারিতা অব্যাহত রাখেন।

খননের পর জনসভার প্রত্যক্ষদর্শী পূর্বদশা জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি আয়ুব আলী জানিয়েছেন, খনন শেষে আরও কিছু কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘এখানে একটা স্লুইসগেট চাই। যে ব্রিজটা এখন আছে, সেটা খুবই ছোট। এটা বড় করার দাবি আমাদের।

টমেটো বিক্ষোভ-কৃষক প্রার্থনা!

বাসিয়া নদী প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। মরা নদীর ভরা অতীতের মতো একসময়ের প্রমত্তা এই নদী ধারাবাহিকভাবে খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক জায়গায় নাব্য হারিয়ে ফেলে। ফলে স্থানীয়দের অনেকে এখন বাসিয়াকে নদীর বদলে খাল বলেই চেনেন। তিন উপজেলার পাঁচটি হাওরসহ আরও দুটি উপজেলার নদীর দুই তীরের জমি ছিল ধানসহ সবজি চাষের উপযোগী। কৃষিক্ষেত্রে ‘বাইয়ারপাড়ের চাষবাস আলাদা খ্যাতিও পায়। সেই খ্যাতি দমিয়ে রাখতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাও ছিল। এতে করে দখল-দূষণে আস্ত এক নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১০ সালের দিকে ‘বাসিয়া খনন দাবিকে জনদাবিতে রূপান্তর করে কৃষকদের একটি আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ‘সিলেট কৃষক কল্যাণ সংস্থা নামের একটি সংগঠন গড়ে তুলে অনেকটা বিদ্রুপাত্মক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক আবদুল হান্নান আনছারী। প্রথম কর্মসূচি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। সবজির দাম কমে যাওয়ায় বাইয়ারপাড়ে একটি সবজি সংরক্ষণাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপনের দাবিতে টমেটো-বিক্ষোভ করেছিলেন চাষিরা। ওই বছরের ৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সবজি চাষিদের ফলন করা টমেটো ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। 

এরপর ১৭ এপ্রিল বাসিয়া নদী খননের দাবিতে বাইয়ারপাড়ে ‘কৃষকের প্রার্থনা শীর্ষক একটি চাষি সমাবেশ হয়। সেখানে প্রার্থনার মতো করে পাঠ করা লিখিত দাবিনামা প্রস্তুত করেছিলেন আব্দুল হান্নান আনছারী। তার এই তৎপরতার সূত্র ধরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছিল। ‘সংকটে বাইয়ারপাড়ের চাষাবাদ শীর্ষক সেই গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে একটি সেমিনার হওয়ার প্রাক্কালে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন কৃষক অন্তঃপ্রাণ আবদুল হান্নান আনছারী। তার মৃত্যুতে নেতৃত্বের শূন্যতায় থেমে যায় বাইয়ারপাড়ে সেই কৃষক আন্দোলন।

দখল-দূষণ থেকে ‘বাঁচাও বাসিয়া

এরপর দখল ও দূষণ নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা সদর থেকে সোচ্চার হয় আরেকটি সংগঠন। ‘বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ নামের সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক ফজল খান বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা দখল ও দূষণ লালন করছেন। আমরা ২০১১ সালে বাসিয়া নাট্য সংগঠনের নামে ঐক্যবদ্ধ হই। এরপর বাসিয়া নদী খননে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প নিলে বাসিয়া বাঁচাও ঐক্য পরিষদ গঠন করে দখল ও দূষণ ঠেকানোর আহ্বান জানাই। কিন্তু একের পর এক তালিকা ও উচ্ছেদ প্রস্তুতির পরও বাসিয়া দখলমুক্ত হয়নি।

বিশ্বনাথ উপজেলা সদর অংশে নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। কোথাও নদীর ভেতরেই মাটি ভরাট করে বসতঘর ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ২০০ মিটার প্রশস্ত নদীটি সংকুচিত হয়ে অনেক স্থানে কয়েক ফুটে নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুমেও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসে না। আর শুকনো মৌসুমে হেঁটে পার হওয়া যায় নদীর একপাড় থেকে অন্যপাড়ে। রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের হাতে উৎসমুখে খনন কর্মসূচিতে স্বস্তি প্রকাশ করে নদীসংগ্রামী ফজল খান বলেন, ‘নদীর উৎসমুখ যদি সচল হয়, সেখানে সুরমার সঙ্গে সংযোগ অংশ যদি সচল হয়, তাহলে বাসিয়া তার নামের মতো জলে ভেসে দখল-দূষণ তাড়াবে বলে মনে করি।

সুফলবিহীন প্রকল্প

টমেটো-বিক্ষোভ, কৃষক প্রার্থনার মতো বিদ্রুপাত্মক কর্মসূচি পালনের দেড় দশক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জলবায়ু তহবিলের মাধ্যমে ২০১৪ সালের দিকে বাসিয়ার উৎসমুখে কিছু খনন করেছিল। এরপর ২০১৮ সালে আরেক দফা। কিন্তু নদী সেই রূপ ফিরে পায়নি। বাইয়ারপাড়ের চাষিদের সংকটও কাটেনি।

পাউবো সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে নদীর উৎসমুখে আংশিক খনন করা হয়। ২০১৮ সালে আরেক দফা কাজ হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। তৎকালীন প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সুরমা নদীর মুখ থেকে কামালবাজার সেতু পর্যন্ত চার কিলোমিটার খনন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে ৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশন সহজ হওয়ার পাশাপাশি বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদনের কথা ছিল।

তবে বাস্তব সুফল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস। তিনি জানান, নতুন প্রকল্পে নদীর ২৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তার আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরই প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।

চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধায় শ্রীরামকে অবমাননা ও সারাদেশে মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা ও পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চিরিংগা সদর এলাকার এস আর প্লাজার সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সনাতন সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি সুধাম কান্তি দাশ, চকরিয়া পৌরসভা শাখার সভাপতি টিটু কুমার বসাক, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি তপন সুশীল, লিটন দাশ, কৈলাশ দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু বিমল সুশীল, সদস্য বিজন কুমার বিশ্বাস ও দপ্তর সম্পাদক রিটন সুশীল।

বক্তারা বলেন, শ্রীরাম চন্দ্রের অবমাননা এবং গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, এ ঘটনার পেছনে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় সনাতন সম্প্রদায় আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ খবরের কাগজকে বলেন, আমরা সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা চাই। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করছি। সারাদেশে সনাতনীদের ওপর যে সমস্যা বা হুমকি তৈরি হচ্ছে, তা নিরসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি কঠোর পদক্ষেপ নেন, তবে অবশ্যই সমাধান সম্ভব।

তিনি অবিলম্বে রামমন্দির পুনর্নির্মাণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ধর্মীয় কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

রাজু দাশ/থিওটোনিয়াস 

রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মীর মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর  বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং মিথ্যা মামলা ও কেনা  জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ীসহ পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে উপজেলার মঠেরঘাট এলাকায় রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে হামলাকারী মিলন ভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

এতে উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী মীর মোশাররফ হোসেন,  মোসা. মাসুদা, রুম্পা, রিপা এবং আব্দুর রহমান হুজাইফী।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, ব্যবসায়ী মীর মোশারফ হোসেন রূপসী মীর বাড়ি এলাকার মিলন ভুইয়ার কাছ থেকে ২ শতাংশ জমি কিনে করে চারতলা বিল্ডিং তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ওই জমি এবং বাড়ি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল জমি বিক্রেতা মিলন ভুইয়া ও তার লোকজন।

কয়েকদিন আগে মিলন ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা অন্যায়ভাবে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায় ও মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা করেছেন।​

ব্যবসায়ী মীর মোশারফ হোসেন বলেন, এই  হামলার পর থেকে আমি এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তিনি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ঘটনায় জড়িত মিলন ভূঁইয়াসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রুবেল শিকদার/তামান্না রুপা/

নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল ডাকাতি করার সময় ৮ জন ডাকাতের মধ্যে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। এ সময় পাঁচজন ডাকাত পালিয়ে গেছে। 

শনিবার (২০জুন) সকালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের সানা মন্ডল (২২) এবং একই গ্রামের রাব্বি হাসান (১৯)।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া মন্ডল বলেন, শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে গোনা এলাকার মাহবুব নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী রাণীনগর-আত্রাইগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় এলাকায় পৌঁছামাত্র পিছন থেকে তিনটা মোটরসাইকেলে ৮জন ডাকাত তাদের ধাওয়া করে। তবে মাহবুবের পিছনে বসে থাকা যাত্রীর চিৎকারে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি পুলিশ এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিয়ে উপজেলার খট্রেশ্বর নামক জায়গা থেকে জনগণের সহযোগীতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একজনের কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা তিনজন এক মোটরসাইকেলে ছিল। আর দুই মোটরসাইকেল নিয়ে আরও পাঁচ ডাকাত পালিয়ে গেছে।

ওসি আরও বলেন, তারা মূলত ডাকাতি করার উদ্দেশ্যেই এসেছিল। চালক মাহবুবকে ধরতে পারলে হয়তো মারপিট করে তার মোটরসাইকেলটি ডাকাতি করে নিয়ে যেত। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর পালিয়ে যাওয়া ৫ ডাকাতকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

হারুন/খাদিজা রুমি/

রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু
শিক্ষিকা শতাব্দী চাকমা। ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে কাঁচা বাঁশ দিয়ে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে রাঙামাটির নানিয়াচরে শিক্ষিকা শতাব্দী চাকমার (৫০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (২০ জুন) সকালে এ ঘটনাটি ঘটে।

শতাব্দী চাকমা নানিয়াচর উপজেলার রামহরি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি রাঙামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুখীনীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

স্বজনরা জানান, শনিবার (২০ জুন) সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে শতাব্দী চাকমা সিএনজি অটোরিকশার জন্য নানিয়াচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের সমাজ কল্যাণ এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সড়কের পাশে একটি জাম গাছ থেকে জাম পাড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাঁচা বাঁশ ব্যবহার করায় অসাবধানতাবশত বাঁশটি বিদ্যুতের তারের সঙ্গে স্পর্শ করলে তিনি গুরুতর বৈদ্যুতিক শকের শিকার হন।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল যেহেতু নানিয়ারচর উপজেলা তাই এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 জুয়েল/খাদিজা রুমি/

বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটে বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার মুশুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বরকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত আলোকসজ্জার একটি ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের তারে নকুল মল্লিকের হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নকুল মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই অসাবধানতামূলক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তামান্না রুপা/