মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল ও নহাটা গ্রামে সামাজিক দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১ মে) রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় মধ্যরাত ২টা পর্যন্ত চলে এই সহিংসতা। এতে শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অন্তত ১০টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আকস্মিক এ হামলায় ঘুমন্ত মানুষজন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। নারী-শিশুসহ অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাত কাটান খোলা আকাশের নিচে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল সীমিত টহল ও হুইসেল বাজানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
জানা যায়, আমতৈল ও নহাটা গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দুটি সামাজিক দলে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন টিটন মোল্লা ও ইদরিস, অপর পক্ষের নেতৃত্বে লিপটন মিয়া ও আনিসুর রহমান কনক। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রায়ই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, আরব আলী ও ইয়াহিয়া উল্লেখযোগ্য। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বহু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তত ২০টি গবাদিপশুসহ মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া রাশেদ মোল্লা, নাসিরুল, আকিদুল, আসিরুল, ইব্রাহিম শেখসহ কয়েকজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ভ্যানচালক আসিরুলের বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে তার দুটি ছাগল জীবন্ত দগ্ধ হয়। স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। লিপটন মিয়া ও টিটন মোল্লা পরস্পরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উভয় পক্ষই সংঘর্ষকে উসকে দিচ্ছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান জানান, সামাজিক দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।
শ্রাবণ/রিফাত/