লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েল বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগমের (৩৪) কফিনবন্দি মরদেহ এক মাস পর দেশে এসে পৌছেছে।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জের পূর্ব শালেপুরের মুন্সিরচর গ্রামে তার মরদেহ এসে পৌছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দিপালী ওই গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে।
মোফাজ্জল শেখের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দিপালী বেগম বড় ছিলেন। তারা তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি অবিবাহিত ছিলেন। পরিবারের পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি লেবাননে পাড়ি জমান। প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের হাল ধরেছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামরা এলাকায় কর্মস্থলে মিসাইল হামলার শিকার হন। পরে তার মরদেহ সেখানে রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। ওই সময় তিনি তার নিয়োগকর্তা (কফিল) পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হামলায় কফিল পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে সার্টিফায়েড পুলিশ রিপোর্ট ও মরদেহ পাঠানোর অনুমতিপত্র গ্রহণসহ যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তার লাশ গ্রহণ করেন। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দিপালীর বাবা শেখ মোফাজ্জল ও ভাই শেখ ওবায়দুরের নিকট তারা মরদেহ হস্তান্তর করেন।
এদিকে, দিপালীর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি এসে পৌছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। শুক্রবার (৮মে ) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশে মুন্সিরচর মসজিদ প্রাঙ্গণে দিপালীর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারী পরিচাক মো. আসিক সিদ্দিকী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন। জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম নিহত দিপালীর বাবা মোফাজ্জেল শেখকে মোবাইলে ফোন করে খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আকাশপথে বিমান চলাচল বিঘ্ন হওয়ায় দিপালীর মরদেহ দেশে পৌছাতে কিছুটা বিলম্বিত হয়। তবে সরকার তার পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা করে আসছে।