আজ বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস। প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের অন্যতম ধারক হলো পরিযায়ী পাখি। যারা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই পাখিদের নিরাপত্তা এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছরের মতো ২০২৬ সালেও বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে দিনটি।
এবারের মূল প্রতিপাদ্য প্রতিটি "পাখিই গুরুত্বপূর্ণ, আপনার পর্যবেক্ষণ মূল্যবান"।
দিবসটি প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার ও অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবার পালন করা হয়। তবে সরকারিভাবে মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস হিসেবে পালিত হয় বাংলাদেশে।
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য পরিযায়ী পাখিরা মারাত্মক খাদ্যসংকটকে কমিয়ে আনা।
পরিযায়ী পাখি সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০০৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। পরিযায়ী পাখির আবাসস্থলকে নিরাপদ রাখা এবং পাখির বিচারণস্থল সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়ার আহবার বিশেষজ্ঞদের।
তবে এবারের প্রতিপাদ্য মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে পাখি পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করা। আপনি যদি কোনো পাখি দেখেন এবং সেটির তথ্য রেকর্ড করেন, তবে সেই ছোট ছোট তথ্যগুলো বিজ্ঞানীদের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বা পাখি রক্ষায় দারুণ সাহায্য করবে।
পাখিরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সময় যে পথ ব্যবহার করে, সেগুলোকে 'ফ্লাইওয়ে' বলে। মানুষের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে পাখিদের এই যাতায়াতের গল্প বা 'ফ্লাইওয়ে স্টোরি' আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে বিশেষজ্ঞদের।
পাখি রক্ষায় কেবল বিজ্ঞানীরা নন, আপনার এবং আমার মতো সাধারণ মানুষের পর্যবেক্ষণও অত্যন্ত মূল্যবান।
বাংলাদেশ সরকার পরিযায়ী পাখি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা আইন-২০১২ প্রণয়ন করে।
এই আইন অনুযায়ী পরিযায়ী পাখিকে আঘাত করা, দখলে রাখা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মাংস ভক্ষণ, এয়ারগান দিয়ে শিকার, ফাঁদ পেতে ধরা, প্রজননের সময় বিরক্ত করা, ডিম নষ্ট ও হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।
আমাদের দেশে প্রতিবছর সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার কালো লেজ জৌরালি পরিযায়ী হয়ে আসে। দেশে প্রায় ৬০ প্রজাতির সৈকত পাখি আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা পথে পরিযায়ন করা সৈকত পাখির একটি হলো এই কালো লেজ জৌরালি।
শীতকালে বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে। কিন্তু দিনে দিনে এই পাখি কমে যাওয়ায় প্রাণী বিশেষজ্ঞরা দিনটি পালনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আমান