সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেঁকী বাজারে চিকিৎসার নামে ১৩ বছরের কিশোরীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে গৌতম মন্ডল নামের এক গ্রাম্য দন্ত চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে নওয়াবেঁকী বাজারের গোডাউন ঘাটসংলগ্ন 'মেসার্স বরুন মেডিকেল হল' নামক প্রতিষ্ঠানের আশা ডেন্টাল কেয়ার নামীয় চেম্বারে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত চিকিৎসককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। অভিযুক্ত গৌতম কুমার ওই চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বেলা ১টার দিকে ছোটকুপট এলাকা থেকে এক ব্যক্তি তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের দাঁতের যন্ত্রণার চিকিৎসার জন্য নওয়াবেঁকী বাজারের গোডাউন ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত মেসার্স বরুন মেডিকেল হলে গ্রাম্য চিকিৎসক গৌতম মন্ডলের চেম্বারে (আশা ডেন্টাল কেয়ারে) নিয়ে যান। চিকিৎসা শুরুর প্রাক্কালে অভিযুক্ত গৌতম মন্ডল কৌশলে মেয়েটির বাবাকে কক্ষের বাইরে পাঠিয়ে দেন।
বাবাকে আড়ালে রেখে দাঁতের ট্রিটমেন্ট করার নাম করে চেম্বারের ভেতরে পর্দা দিয়ে ঘেরা একটি গোপন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে গৌতম মন্ডল ওই কিশোরীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কিশোরীটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে বাইরে থাকা বাবা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘরে প্রবেশ করেন।
পরে কিশোরীর মুখে ঘটনার বর্ণনা শুনে উপস্থিত স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অভিযুক্ত গৌতম মন্ডলকে গণপিটুনি দেন।
খবর পেয়ে নওয়াবেঁকী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে শ্যামনগর থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
সংবাদ পেয়ে শ্যামনগর থানার পুলিশ কয়েকজন সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত গৌতম মন্ডলকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, গৌতমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নারী ও শিশুদের সাথে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল।
অন্য এক বাসিন্দা তানভীর মাহমুদ জানান, ১৩ বছরের শিশুর সাথে এমন ন্যক্কারজনক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই চেম্বারটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিতে কিছুটা গড়িমসি করছে। লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা মামলা গ্রহণ করে আইনি ব্যবস্থা নেবো।
শাহাজান সিরাজ/এসএন