রংপুরে সাধারণ সভার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা।
সোমবার (১১ মে) সকালে রংপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের ডাকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে প্রথমে শুরু হয় এই কর্মবিরতি।
একপর্যায়ে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই সদস্যকে আটক ও মারধরের অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। এ প্রায় দুই ঘণ্টা রংপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে।
পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন তারা। তবে অবরোধ তুললেও কর্মবিরতি চলবে বলে জানান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা।
পরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হাবিবুন নবী ডনের আশ্বাসে সাময়িক সময়ের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন তারা।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায়ে রংপুর জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে ২০২৬ সালের ২ মে সাধারণ সভা করার তারিখ ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সভা না হওয়ায় ৩ মে মানববন্ধন করে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকেই ১০ মে তারিখের মধ্যে সাধারণ সভা না হলে বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা হয় না। এই সাধারণ সভার দাবিতে ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করেছেন শ্রমিকরা।
তাদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর হারুন চৌধুরীর নেতৃত্বে শ্রমিক ইউনিয়ন দখল করা হয়। পরে একাধিক সময় সাধারণ সভার আশ্বাস দিলেও বারবার সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
সফরসঙ্গী পরিবহনের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের একটা প্রতিনিধি দরকার। আমরা সাধারণ সভা চাই, কিন্তু বাধা হয়ে গেছে হারুন। কর্মবিরতি ছিল কিন্তু হঠাৎ হামলা করেছে।’
আহত শাহিন বলেন, ‘পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমরা কর্ম বিরতি পালন করছি। পরে হঠাৎ করে হারুন বাহিনী এসে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।’
শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারি রাজ হারুনকে মদত জোগাচ্ছে।’
রংপুর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, ‘পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছিল। পরে হঠাৎ আক্রমণ করে বিপক্ষ দল।’
রংপুর মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারি রাজ বলেন, ‘আমাকে দোষারোপ করার কিছু নাই। এটা শ্রমিকদের আন্দোলন। আমি সেখানে কী করব।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এরকম একটা ন্যাশনাল হাইওয়ে অবরোধ করা আনইথিকাল। আমরা তাদেরকে আলোচনা করে সুরহা করার আশ্বাস দিয়েছি। ফলে তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন।’
সেলিম সরকার/অমিয়/