ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আলোচিত না হলেই তদন্ত ও বিচারে ধীরগতি ৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ
Nagad desktop

শেরপুরে ঈদের হাটে চমক হবে ৩৩ মণের ‘বাংলার ডন’

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
শেরপুরে ঈদের হাটে চমক হবে ৩৩ মণের ‘বাংলার ডন’
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার আলিফ লাম অ্যাগ্রো লিমিটেডে লালন-পালন করা হচ্ছে ৩৩ মণ ওজনের ‘বাংলার ডন’ নামের এই ষাঁড়টিকে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেরপুরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিশালাকৃতির এক ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। ৩৩ মণ ওজনের এই গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলার ডন’। বিশাল দেহ, আকর্ষণীয় গঠন ও শান্ত স্বভাবের কারণে প্রতিদিনই গরুটিকে দেখতে খামারে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় অবস্থিত আলিফ লাম অ্যাগ্রো লিমিটেডে প্রায় তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হচ্ছে ষাঁড়টিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, খামারের মালিক মাসুদ পারভেজ মাসুম নকলা উপজেলা থেকে ছোট অবস্থায় গরুটি ১ লাখ ৬ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। এরপর থেকে বিশেষ যত্ন, প্রাকৃতিক খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা হয়েছে বাংলার ডনকে।

সাদা-কালো বর্ণের বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টির উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট। বিশাল এই ষাঁড়টির জন্য প্রতিদিনই থাকে আলাদা আয়োজন। দিনে তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয়। প্রতিদিন দুই বেলায় প্রায় ১৬ কেজি খৈল, বিভিন্ন ধরনের ভুসি এবং প্রায় ৬০ কেজি ঘাস খাওয়ানো হয়।

আলিফ লাম অ্যাগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজার মনির হোসেন বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বাংলার ডনকে লালন-পালন করছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত গোসল, পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কারণে গরুটি এখন অনেক বড় ও সুস্থ হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু একনজর দেখার জন্য খামারে আসছেন।’

শ্রমিকরা জানান, গরুটির স্বভাব খুবই শান্ত। তবে কখনো কখনো একটু রাগ-অভিমানও করে। তখন আদর করলে স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যের মতো করেই যত্ন নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও নিয়মিত গোসল করানো হয়।

তারা আরও জানান, গরুটিও খামারের কর্মীদের ভালোভাবে চিনে ফেলেছে। অপরিচিত কাউকে দেখলে একটু সতর্ক হলেও পরিচিতদের কাছে শান্ত থাকে। এত বড় গরু পালন করা সহজ নয়, খামারের সবাই অনেক যত্ন নিয়েই তাকে বড় করছে।

গরুটি দেখতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় গরু আমি আগে কখনো কাছ থেকে দেখিনি। প্রথমে দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গেছি। গরুটির গঠন খুব সুন্দর এবং দেখতে অনেক স্বাস্থ্যবান মনে হয়েছে। শুনেছি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বড় করা হয়েছে, এটি আরও ভালো লেগেছে।’

দর্শনার্থী রুবেল মিয়া বলেন, ‘গরুটি খুব শান্ত স্বভাবের এবং অনেক পরিচ্ছন্নভাবে রাখা হয়েছে। খামার কর্তৃপক্ষ যেভাবে যত্ন নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ঈদের বাজারে গরুটি অবশ্যই বিশেষ আকর্ষণ হবে।’

সজিব মিয়া নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুটির ছবি দেখে আগ্রহ হয়েছিল। পরে সরাসরি দেখতে এসে বুঝলাম, বাস্তবে গরুটি আরও বড় ও সুন্দর। এমন গরু খুব কমই দেখা যায়।’

শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, ‘বর্তমানে মানুষ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা পশুর প্রতি বেশি আগ্রহী। এই ষাঁড়টি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বড় করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেন গরুটি সুস্থ ও নিরাপদ থাকে।’

হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট ও বানিয়াচং উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।

রবিবার (৭ জুন) বিকেলে পৃথক পৃথকস্থানে এসব ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কাজীরগাঁও গ্রামের আলতাফ আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম (৪৫), বাহুবল উপজেলার মিরপুর চকফাজিল গ্রামের সুরেশ দেবনাথের ছেলে রিংকু দেবনাথ (৩০) এবং বানিয়াচং উপজেলার শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামের জয়দর আলীর ছেলে সুজন মিয়া (১৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জের কাজীরগাঁও গ্রামে বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন রাহেলা বেগম। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, বোনের বাড়িতে বেড়াতে চুনারুঘাটে এসেছিলেন রিংকু দেবনাথ। বিকেলে তিনি তার ভাগিনা পিযুষ দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে একটি বাড়ির ছাদে উঠে পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে তারা দুজনই ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিংকু দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পিযুষ দেবনাথ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, একই সময়ে বানিয়াচং উপজেলার শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে চার যুবক আহত হন। পরে তাদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত সিয়াম মিয়া (১৭), হাফিজ উদ্দিন (২২) ও পারভেজ মিয়া (২৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাজল সরকার/এসএন

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল গেইট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে এনসিপি কর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) বিকালে এই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি জানায়, হামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ চৌধুরী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন আক্রান্ত হন। 

এনসিপি নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও রোগী হয়রানির প্রতিবাদে ৭ জুন বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেইটে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। জনস্বার্থে আয়োজিত এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে সিন্ডিকেটের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। রবিবার সকালে নোয়াখালীগামী রোগীর জন্য ১২ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করা হলে তারা এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স শ্রমিক ও মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একইভাবে এর আগে ফেনীর জন্য ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার পরিবর্তে ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল চারটায় চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপি। তবে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই তাদের ওপর হামলা চালানো অভিযোগ করে দলটি। 

সংবাদ সম্মেলনে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো মানবিক খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের প্রভাব চলতে পারে না। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক টিপু বলেন, জনগণের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে এনসিপি কোনো আপস করবে না। স্বাস্থ্যখাতকে সকল প্রকার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অসুস্থ মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলায় এই হামলা আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী। এনসিপি অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চমেককে সম্পূর্ণ দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ বলেন, কেউ বেশি ভাড়া নিয়ে থাকলে প্রশাসনে অভিযোগ করতে পারে। এনসিপি নেতা কেন ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চায়। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট কারো বাপের না। ৫ আগস্টের দোহাই এখন আর চলবে না। একবার সুযোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। আগস্টের প্রভাব খাটিয়ে কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চাইলে তা আমরা করতে দেব না।

এসএন/

গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রবিবার (৭ জুন) নগরের টাইগারপাসস্থ বিন্নাঘাস প্রকল্প এলাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

এ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চসিকের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড-আইল্যান্ডে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।’

কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা প্রমুখ।

রিফাত/

চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সিরাজউদ্দৌল্লা রোডের সাব-এলিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

রবিবার (৭ জুন) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

চসিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এ অবস্থায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সাব-এলিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা প্রায় ১৫০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান দখলমুক্ত করা হয়।

এ সময় ফুটপাত ও সড়কে দোকানের মালামাল ও নির্মাণসামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিফাত/

ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলা সদর উপজেলার গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় আলোচিত গৃহবধূ মিতুর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

নিহতের পরিবারের দাবি, মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আত্মহত্যার মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামকে তলব করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন।

রবিবার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

নিহত মিতুর স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার ছিলেন। বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার আগের দিন রাতেও পারিবারিক কলহের জেরে তাকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঘটনার রাতে মিতুর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে মিতুর মা ও খালাতো বোনের ইমো নম্বরে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। সেই বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মিতুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাঁচতে দেবে না। পরদিন সকালে মিতুর স্বামী সোহাগ তার শাশুড়িকে (মিতুর মা) ফোন দিয়ে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে বাসায় এসে মিতুর নিথর দেহ খাটে পড়ে থাকতে দেখে তার চিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মরদেহ উদ্ধারের সময় মিতুর কপাল, বুক, হাত ও পায়ে ব্যাপক জখমের চিহ্ন দেখা গেছে বলে দাবি স্বজনদের। এ সময় মিতুর শ্বশুরবাড়ির কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

নিহতের মা ও অন্যান্য স্বজনরা বলেন, ‘আমাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ সঠিক তদন্ত না করেই আত্মহত্যার মামলা রেকর্ড করেছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে পরিবারের আরও অভিযোগ, হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। তারা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

পরিবার আদালতে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য তলব করেছেন বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংকালে মিতুর আইনজীবী এ তথ্য জানান। আদালত পুলিশের ভূমিকা এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান বলেও জানিয়েছেন ওই আইনজীবী।

এ বিষয়ে জানতে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি ফোন নম্বরে কল দিলে ওসি (তদন্ত) জিয়াউদ্দিন জানান, ‘আদালতের তলবের আদেশ আমরা এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

উল্লেখ্য, গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন বাসা থেকে গৃহবধূ মিতুর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি ভোলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শুরু থেকেই নিহতের পরিবার ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে। আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং এখন সবার নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

ইমতিয়াজুর/রিফাত/