চট্টগ্রামের রাউজানে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। আতঙ্কে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, থানার পুলিশও বর্তমানে আতঙ্কিত। তাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহ আগে স্বেচ্ছায় বদলি হয়েছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম।
বর্তমানে রাউজান থানার ওসি (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া কয়েক ধাপে পুলিশের পাঁচজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদলি হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মো. রাসেল।
গত ২০২৪ সালে আওয়ামী সরকারের পতনের পর রাউজানে এখন পর্যন্ত ২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি এবং পাহাড়-টিলা ও নদীর বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। আতঙ্কে সন্তানদের বাইরে যেতে দিচ্ছেন না অভিভাবকরা।
গত ২২ মাসে উপজেলায় অন্তত ২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই রাজনৈতিক বিরোধ ও সন্ত্রাসী দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডও ঘটছে বলে সূত্র জানায়। নিহতদের বড় একটি অংশ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।
একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে। রাউজান থানা পুলিশ সদস্যরাও আতঙ্কিত। প্রায় মামলার প্রধান আসামিরাই ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডে মামলা হলেও শুটার কারা এবং আসামিরা কারা-তা নিয়ে পুলিশের মধ্যেই ধোঁয়াশা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাউজান থানার ওসি নিজাম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, ‘হত্যা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে শুটার কারা, আসামি কারা তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।’
রাউজানের সাধারণ মানুষ ভীতিকর পরিস্থিতিতে রয়েছে।
দিদারুল আলম/রিফাত/