হাজার মাইল দূরে দুই দেশের দুই মানুষ। একজন শরীয়তপুরের ২০ বছরের তরুণী, অন্যজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক নাগরিক। ভাষা, সংস্কৃতি আর বয়সের বিস্তর ব্যবধানও তাদের ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দুবাইয়ের একটি পার্কে হঠাৎ পরিচয়, এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই প্রেমের টানেই সুদূর আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন সলেমন। ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী করতে আজ বসছেন বিয়ের পিঁড়িতে। তবে এই অসম বয়সের প্রেম ও বিয়ে নিয়ে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা দুই বছর আগে কাজের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আবুধাবিতে যান। সেখানে পার্কে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় সেখানকার বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব সলেমানের সঙ্গে। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে সুবর্ণা দেশে ফিরলে গত তিন দিন আগে বাংলাদেশের ছুটে আসেন সলেমন। পারস্পরিক ভালোবাসার পর পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করে মেয়ের পরিবার।
রবিবার (১৪ জুন) রাতে জমকালো আয়োজনে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে আজ বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ে উপলক্ষ্যে জামাই সলেমনের নিজ খরচে প্রায় দেড় হাজার আত্মীয় স্বজনদের ভোজের আয়োজন করে সুবর্ণার পরিবার। ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসার এমন পরিণতি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা।
সুবর্ণার নানি ফুলজান বিবি বলেন, আমার নাতিন দুবাই গিয়েছিল। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসে আমার নাতনিকে বিয়ে করেছে। আমরা অনেক খুশি।
রুবিনা বেগম নামের এক নিকটাত্মীয় বলেন, দুই বছর আগে এই মেয়ে বিদেশ গেছে, সেখান থেকেই এই পোলার সাথে পরিচয়। এখন মাইয়া পোলা পছন্দ করে বিয়ে করেছে। পোলায় নিজে খরচপাতি করে মেয়ে নিতাছে। আমরা চাই তারা ভালো থাকুক।
হাজার মাইল দূরের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণতি পেল বিয়ের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে কাছে পেয়ে ভীষণ খুশি বাংলাদেশি তরুণী সুবর্ণা।
সুবর্ণা বলেন, আমি দুবাইকে থাকাকালীন তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। সেখান থেকে সে আমাকে ভালোবেসেছে। সেই ভালবাসা থেকে আমাকে বিয়ে করতে দুবাই থেকে ছুটে এসেছে। আমি নিজের ইচ্ছেতে তাকে বিয়ে করেছি, আমি খুব খুশি।
তবে এ ব্যাপারে ক্যামেরায় কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি হননি দুবাই থেকে আসা নাগরিক সলেমন। এমনকি মেয়ের বাবা-মাও কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
দ্রুত সময়ের মধ্যে গড়ে ওঠা এই অসম বয়সের প্রেম ও বিয়ে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবন কামনা করলেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বরকত মোল্লা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দুবাই থেকে প্রেমের টানে জাজিরার এক স্থানীয় মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছে সেখানকার নাগরিক। মাঝেমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় দেখি বিদেশি ছেলে বাংলাদেশে প্রেমের টানে চলে আসে এবং বিয়েও করে এবং সেই বিয়ে কতদূর পর্যন্ত টিকে সেটি আসলে আমরা জানিনা। কেননা হুটহাট করে এভাবে বিয়ে না দিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিয়ে দেওয়া জরুরি। হতে পারে এগুলো প্রতারণার ফাঁদ।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, এ ধরনের কোনো খবর পাইনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারবো।
বিধান মজুমদার/নাঈম