পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার কালাইচারা দক্ষিণপাড়া এলাকায় গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে ৭ জন শিশু আহত হয়েছে। কুকুরের কামড়ে প্রাণ গেছে ৪টি ছাগলেরও। এদিকে, আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও ছুটির দিনের অজুহাতে পাননি সরকারি ভ্যাকসিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ও শুক্রবার (১৫ মে) কালাইচারা দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি পাগলা কুকুর অতর্কিতভাবে পথচারী ও শিশুদের ওপর আক্রমণ চালায়।
কুকুরের কামড়ে আহতরা হলো- মশিউরের মেয়ে মিম, মালেকের ছেলে হোসাইন, আনার খাঁর ছেলে আমিনুদ্দিন, নবাবের মেয়ে শান্তা, জোবাইদুলের মেয়ে জোবাইদা, শামীমের ছেলে শহিদুল এবং শরিফুলের মেয়ে শিমলা।
স্থানীয়রা জানান, মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর ওপরেও চড়াও হচ্ছে কুকুরগুলো। গ্রামের ৮টি ছাগলকে কামড়ানোর পর ৪টি ছাগল মারা গেছে।
তারা জানান, এলাকায় ৭-৮টি পাগলা ও বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়রা কুকুরগুলো মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সাঁথিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে, আহত কয়েকজন শিশুর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার পর তারা দ্রুত সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তাদের কোনো রেবিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়নি।’
কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের জানান, ছুটির দিন হওয়ায় এবং ওপরমহলের অনুমতি না থাকায় তারা ভ্যাকসিন দিতে পারছেন না। চিকিৎসকরা তাদের শনিবার এসে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। ফলে নিরুপায় হয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে বাইরের দোকান থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) ডা. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ছুটির দিনে আমাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ থাকে, বাকি দিনগুলোতে নিয়মিত দেওয়া হয়। এই কারণেই হয়তো ভুক্তভোগীরা ছুটির দিনে ভ্যাকসিন পাননি।’
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোগীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে তিনি আরও জানান, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে সপ্তাহে ৭ দিনই (ছুটির দিনসহ) হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চালু রাখা হবে।
আমিনুল ইসলাম/রিফাত/