নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মুমিন মিয়া নামে এক অটোরিকশাচালক হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
বুধবার (২০ মে) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়। ফলে চট্টগ্রাম লেনে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়ক অবরোধের কারণে ওই রুটের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রবিবার বিকেলে চাঁদা না পেয়ে শাহিন মিয়া নামে এক যুবক মুমিন মিয়াকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২০ মে) ভোরে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে মারা যান তিনি।
নিহত মুমিন মিয়া সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহিন মিয়া পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযুক্ত শাহিন মিয়া আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করতেন। গত রবিবার বিকেলে মুমিন মিয়া অটোরিকশা নিয়ে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে যান। পরে শাহিন মিয়া তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ সময় মুমিন মিয়া তাকে টাকা দিয়েছেন বলে জানান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে শাহিন মিয়া অটোরিকশাচালক মুমিন মিয়াকে মাথার বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারেন। এতে মুমিন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে সকাল ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ নিয়ে আসা হলে মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স রেখে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
এদিকে মুমিন মিয়াকে আহত করার ঘটনায় গত সোমবার রাতে সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন। ওই মামলায় শাহিন মিয়াকে আসামি করা হয়।
নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম জানান, তার স্বামী সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার কাছ থেকে দ্বিতীয় দফায় ১০ টাকা না পেয়ে মারধর করা হয়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে স্ট্রোক করেন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দুই ছেলেকে নিয়ে কীভাবে সংসারের বোঝা বহন করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘চাঁদার দাবিতে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
ইমরান/রিফাত/