পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের কামারশালাগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহার পিটানোর টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামার পাড়া। আগুনের শিখায় তাপ দেয়া হাতুড়ি পেটানোর শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বটি, চাপাতি ও ছুরিসহ নানা সরঞ্জাম।
কোরবানির কামারশালায় নতুন দা, ছেনি, চোরা, কাতা, বঁটি তৈরি করার পাশাপাশি পুরাতন, ছেনি, চোরা, কাতা, বটি, দাতে ধার দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
জেলার কামার পরিবারগুলোতে বিশ্রামের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন চন্দ্রগঞ্জ বাজারের প্রিয় লাল কর্মকার। তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে তারা কাজের মৌসুম হিসেবে ধরে থাকেন। কোরবানিকে সামনে রেখে তারা আগে থেকেই দা চেনি, চুরি, কাতা ধামা তৈরি করে থাকেন। ঈদের এক সপ্তাহ আগ থেকে শুরু হয় গৃহস্তের পুরাতন দা, ছেনি, চুরি, কাতা ও চোরায় ধার দেওয়ার কাজ।
কর্মকার হেমন্ত কর্মকার বলেন খুবই ব্যস্ত সময় পার করায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় থাকেনা। তবে এই সময়ে আমরা কিছু টাকা আয় করতে পারি। তাই যতই ব্যস্ততা হোক না কেন কাজ শেষ করতে হবে।
সুনীল কর্মকার নামে আরেক কর্মকার বলেন, বছরের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশী টাকা আয় হয়ে থাকে তাদের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে। তাই আগে থেকেই থাকেন তারা প্রস্তুত।
লক্ষ্মীপুরের দোকানগুলোতে কাটারী ৪০০-৫০০, চাপাতি আকারভেদে ৬০০ থেকে ১ হাজার, কোপা (ছেনি) প্রতি পিচ ৪৫০-৫৫০, চামড়া ছাড়ানোর ছুড়ি ২০০-৫০০, লোহার মানভেদে একটি দা ৪০০ থেকে ৭০০, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ২০০ থেকে ৩৫০, পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরি ৮০০ থেকে ৩ হাজার, কুড়াল ৬০০ থেকে ১ হাজার ১০০, বঁটি ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷
এ দিকে কামারশালাগুলোতে অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকার সুযোগে আগের ১০০ টাকার কাজ করতে ৩০০ টাকা দাবি করেছেন ক্রেতারা। তারা বলেন দাম বেশি হলেও এখন করিয়ে নিতে হবে।
বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কেনা ও শান দিতে আসা ব্যক্তিরা জানান, কোরবানির বাকি অল্প কয়েকদিন, তাই আগেভাগেই এসেছেন তারা। দিন যত যাবে, দাম ততই রাড়বে। তবে আগের বছরের তুলনায় এ বছর দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে দাবি ক্রেতাদের।
মোহাম্মদ রফিকুল/আমান