ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহবাগে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক ‘শান্তিচুক্তি’ চূড়ান্ত, স্বাক্ষর ১৯ জুন আব্দুল্লাহ হিল রাকিব স্মরণে বিইউএফটি’তে স্মরণসভা বড় বিল্ডিং নয়, এবার জোর ‘হেলথ কার্ডে’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন চবিতে সংসদে বক্তব্য নিয়ে মুখোমুখি ছাত্রদল-ছাত্রশিবির বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, পরে মিলল মাদরাসাছাত্রের মরদেহ মাধবদীতে অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিনাজপুরে চুরির প্রস্তুতির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বাজেট বাস্তবায়নের ত্রিমুখী পথনকশা: অর্থ পাচার রোধ, দুর্নীতি দমন ও জনসচেতনতা বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ স্বপ্নের রাজপুত্র ইয়ামাল শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল আইপিডিসি সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা বন্ধ চিনিকল চালুর উদ্যােগ ১৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ১৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও
Nagad desktop

বাল্যবিয়ের আসরে আকস্মিক উপস্থিত ইউএনও, অতপর...

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
বাল্যবিয়ের আসরে আকস্মিক উপস্থিত ইউএনও, অতপর...

দশম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রী এক পাশে বধূর সাজে অন্য পাশের কক্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থী বরকে নিয়ে কাজীর জন্য অপেক্ষায় বরযাত্রীরা। বাইরে চলছে রান্নাবান্নার কাজ। এ সব নিয়ে ব্যতিব্যস্ত বাড়ির লোকজন। এ সময় আকস্মিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার। ইউএনও উপস্থিতিতে একে একে সরে পড়লেন ছাত্রীর মা, বাবা, বরযাত্রী ও স্বজনরা। পরে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া যাবে না- এই মর্মে মৌখিক স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয় অভিভাবকদের।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দ বনগ্রামে।

অভিযানে সহযোগিতা করে কুমারখালী থানা পুলিশ।

স্বজনদের ভাষ্য, মেয়েটি কুমারখালী ফাজিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। আর ছেলেটি একই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। তারা বিয়ে না দিলে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন অভিভাবকদের। অনেকটা বাধ্য হয়েই অভিভাবকরা বাল্যবিয়ের আয়োজন করেছিলেন। তবে কাজী আসার আগেও ম্যাজিস্ট্রেট হাজির হওয়ায় বিয়ের আসর পণ্ড হয়ে যায়।

ছাত্রীর বাবা বলেন, 'একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুবাদে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা আত্মহত্যার হুমকি দিলে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হলে আর বিয়ে দেওয়া হবে না।'

এ তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আসর পণ্ড করে কড়া সতর্ক করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে হবে না, এই স্বীকারোক্তি নিয়ে স্বজনদের কাছে ছেলে-মেয়েকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাল্যবিয়ের ব্যাপারে প্রশাসন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মিলন উল্লাহ/ খাদিজা রুমি/

বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, পরে মিলল মাদরাসাছাত্রের মরদেহ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, পরে মিলল মাদরাসাছাত্রের মরদেহ
প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে খালে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মাহমুদুল হাসান তাহা (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে মতলব পৌরসভার চরমুকুন্দি এলাকায় খালে ঘটনাটি ঘটে। 

মৃত মাহমুদুল হাসান তাহা মতলব দারুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র এবং কোরআনে হাফেজ ছিল। তার বাবা হাফেজ মাওলানা মোফাজ্জল পাটোয়ারী। তাদের গ্রামের বাড়ী উপজেলার তুষপুর পাটোয়ারী বাড়ি। 

এলাকাবাসীরা জানান, মাহমুদুল হাসান তাহা তার সহপার্ঠীদের সঙ্গে খেলাধুলার পর ৫-৭ জন চরমুকুন্দি গ্রামের খালে গোসল করতে যায়। হঠাৎ সে স্রোতে তলিয়ে যায়। তাকে না দেখে সহপাঠীরা চিৎকার শুরু করে। 

পরে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের চেষ্টায় মাহমুদুল হাসান তাহাকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক।

সাহাদাত হোসেন/আজহার

মাধবদীতে অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
মাধবদীতে অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

নরসিংদীতে মাধবদী বাজারে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি চালানোয় একটি বেকারির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী বাজারে অবস্থিত নয়ন বেকারিতে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে বেকারিটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় বিএসটিআই অনুমোদন না থাকায় ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আইনের এ জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুল।

অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ পারভেজ মিয়া ও র‌্যাবের সদস্যরা ছিলেন।

প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শাওন খন্দকার শাহিন/খাদিজা রুমি/ 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১০২টি অব্যবহৃত কনটেইনারের পণ্য অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এই উদ্যোগ বন্দরের কনটেইনার জট কমানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী ১৭ জুন দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে এ ই-অকশন।

জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে আমদানিকারকদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের পণ্য খালাস করেন না। ফলে এসব কনটেইনার দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে অবস্থান করে মূল্যবান স্থান দখল করে রাখে। এর ফলে বন্দরের ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং নতুন কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ই-অকশন বা অনলাইন নিলামের জন্য নির্ধারিত কনটেইনারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ, কাগজজাত পণ্য, ফ্রিজার, জেনারেটর, কাপড়, গৃহস্থালি সামগ্রী, ট্রান্সফরমার এবং কোয়ার্টজ পাউডারসহ নানা ধরনের আমদানিকৃত পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে অনলাইন ই-অকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে অংশ নিতে পারবেন। নিলাম-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও শর্তাবলি কাস্টমসের নির্ধারিত ই-অকশন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডে ৯ হাজার ৩১৪ টিইউএসএস নিলামযোগ্য কনটেইনার জমা রয়েছে। নিলামের মাধ্যমে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসকে বার বার তাগাদা দেওয়া হয় বন্দর থেকে। কিন্তু কিছু নিলাম হলে পরে আবার নিলাম যোগ্য কনটেইনার ইয়ার্ডে এসে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।

বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব কনটেইনার দ্রুত অপসারণ করা গেলে বন্দরের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, পণ্য খালাসের গতি বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। পাশাপাশি নিলাম থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিয়মিত নিলামকারী বা বিডার ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিতভাবে অব্যবহৃত ও অখালাসকৃত পণ্য অপসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা আরও উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি আসবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চলতি বছরের চতুর্থ ই-অকশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৭ জুন। ই-অকশনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার লক্ষ্যে দ্রুত ই-অকশন দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পচনশীল পণ্য প্রকাশ্যে অকশন দেওয়া হয়। নিলামের মাধ্যমে কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা আমাদের লক্ষ্য। অনেক সময় নানা জটিলতায় পণ্য নিলামে তুলতে পারি না। অনেক চালানের মামলা থেকে যায়। সেগুলো মামলা নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই দেরি হয় নিলাম করতে।

সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভয়ে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। বর্তমানে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে আছেন। অবশ্য পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

এই ঘটনায় এরই মধ্যে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত আরেকজন এখনো পলাতক। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ মিয়া (৪০) এবং তার সহযোগী একই এলাকার শাহিন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাবো গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তান নিয়ে ওই দম্পতি থাকেন। গত বুধবার বিকেলে রাজমিস্ত্রি স্বামী যখন কাজে ছিলেন, তখন অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢোকে। তারা দুই শিশুসন্তানকে ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে। এরপর পাশের বাড়ির একটি বিল্ডিংয়ের কক্ষে নিয়ে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী সোনারগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই নারীর স্বামীর দাবি, থানায় মামলা করতে গেলে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা বাধা দেন। সেখানেও তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তিনি ওই নেতার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এদিকে গত শনিবার ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। তার স্বামীর দাবি, মামলা করায় এলাকায় ফিরলে তারা নানা সমস্যায় পড়বেন। এ ছাড়া নিজের পরিবারের সদস্যদেরও তারা এখনো বিষয়টি জানাননি। ফলে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, অভিযুক্তদের পরিবার ওই এলাকায় প্রভাবশালী এবং তারা সরকারদলীয় রাজনীতি করেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা আতঙ্কে আছেন। এই মামলার কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, মামলা হওয়ার পর দ্রুত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকেও ধরার চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তারা নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা
বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। ছবি: খবরের কাগজ

বগুড়ার সান্তাহারে ৪ লাখ মানুষের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এলাকার মানুষ এখনো পুরোপরি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ১০ শয্যা করে নারী ও পুরুষের জন্য দুটি ওয়ার্ড ও অপারেশনের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার কথা থাকলেও এখানে এখন শুধু বহির্বিভাগে দিনে ৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর সেখানে রোগীদের দেওয়া হয় শুধু মলম আর ব্যথানাশক ট্যাবলেট। তবে চিকিৎসার এই বেহাল পরিস্থিতির মাঝেও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার একজন কর্মী এখানে নিয়মিত যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন।

আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি জানান, হাসপাতাটিতে ২৩টি পদ থাকলেও জনবল আছেন মাত্র ১৩ জন। এখনো ইনডোর বা ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়নি। তিনি বলেন, ‘২০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আরও ২০টি পদ সৃষ্টির জন্য কয়েক মাস আগে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য ১০টি পদ ফাঁকা থাকার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ হাসপাতালের জন্য পাঠানো যন্ত্রপাতি বগুড়ায় মোহাম্মদ আলীতে রাখা হয়েছে।’

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি ওয়ার্ড ও অপারেশন ইউনিট তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। একটি কক্ষে বসেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোছা. ফরিদা খাতুন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে এখানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রোগীর যক্ষ্মা হয়েছে কি না পরীক্ষার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় পরবর্তী চিকিৎসার জন্য।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘বহু বছর আগে উদ্বোধন হলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় আদমদিঘীসহ আশপাশের উপজেলার রোগীদের সাধারণ চিকিৎসার জন্যও বগুড়া, নওগাঁ ও রাজশাহীতে যেতে হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা বলতে রোগীরা যা পান তা হলো ২-৩টি ব্যথানাশক ট্যাবলেট আর মলম। আর সেটি পেতে হাসপাতালে আসতে হয় দুপুরের আগেই, কারণ দুপুরের পর আউটডোর বন্ধ হয়ে যায়।’ 

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারিভাবে পাওয়া সব ধরনের ওষুধ বহির্বিভাগ থেকে দেওয়া হয়।’

স্থানীয় একটি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল জোব্বার বলেন, ‘হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হলে বগুড়া ও নওগাঁ জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসা খরচ কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে।’ তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনের পর স্থানীয়ভাবে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আশা করছি, এবার এ হাসপাতালটি চালু হবে। কারণ এ হাসপাতালটি নির্মাণ হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়।’

হাসপাতালটিতে গিয়ে আরও দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালের বারান্দায় জমেছে বালুর পুরু স্তর। অপারেশন ইউনিটের যন্ত্রপাতি এখনো লাগানো হয়নি। পুরো হাসপাতাল চত্বর জঙ্গলে ভরে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছোটখাটো অপারেশনের জন্যও তাদের জেলা সদরে যেতে হয়। জটিল কোনো রোগের চিকিৎসা বা পরামর্শ পাওয়ার কোনো সুযোগ এখানে নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই হাসপাতালে ডাক্তার আছেন মাত্র তিনজন। চাহিদামতো কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। রোগী না থাকায় নার্সদেরও দেখা মেলে না। ইনডোর সুবিধা না থাকায় ভেতরের দুটি ওয়ার্ডের তালা কত বছর ধরে খোলা হয় না, তা হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কেউই জানেন না।