কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় লিমন (২৮) নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ ৯ টুকরা করে পদ্মার চরে পুঁতে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
শনিবার রাতে নিহতের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গ্রেপ্তাররা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি ও কিশোরগ্যাং নেতা এসকে সজীব, শহরের হাউসিং ই-ব্লকের সজল, আড়য়াপাড়া এলাকার লিংকন, সদরের কুমারগাড়া এলাকার ফয়সাল আহমেদ, হাউসিং এলাকার ইফতি খান ও সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর গ্রামের জহির রায়হান।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আটকরা তদন্তপ্রাপ্ত আসামি। দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটকরা হত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরও মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘নিহতের পরিবার আসামি কাউকে চিনতেন না। এটা পুলিশের অর্জন।’
এর আগে গত শনিবার মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) পলাশ কান্তি নাথ জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় মিলন নিখোঁজ বলে তার স্ত্রী মিমো খাতুন কুষ্টিয়া মডেল থানায় জিডি করেন। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মুঠোফোনের একটি কল লিস্টের সূত্র ধরে প্রথমে মিলনের এক বন্ধুকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে জানা যায় আরেকবন্ধু সজিবের নেতৃত্বে মিলনকে হত্যা করা হয়েছে। পরে শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে সজিবসহ আরও চারজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিলনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এরপর শুক্রবার রাত ১২টার দিকে তাদের নিয়ে অভিযানে যায় পুলিশ। রাতভর অভিযান চালিয়ে শনিবার সকালে মিলনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র বাঁধবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মিলন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্ব বাহির মাদি এলাকার মাওলা বক্সের ছেলে। পড়ালেখার পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতেন তিনি। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের হাউসিং এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।