রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ‘কবজিকাটা’ গ্রুপের লিডার আনোয়ারের অন্যতম দুই সহযোগীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। গত রবিবার রাতে মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্রসহ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান ও সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চারটি সামুরাই, চারটি চাপাতি, দুটি ছুরি, দুটি চায়নিজ কুড়াল, দুটি হাতুড়ি, ৪৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৯০০ টাকা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২-এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, আনোয়ারের অন্যতম প্রধান সহযোগী মো. বাবু খান ওরফে টুন্ডা বাবু (৩১), মো. রফিকুল ইসলাম রানা ওরফে রিফাত ওরফে রাফাত (২৭), সাকিব মৃধা (২২), মো. রিয়াজ সরদার (২১), মো. শাকিল (২৫), মো. মনিরুল হাসান ওরফে গুটি হাসান (২৫), মো. সুমন হক (২৪) ও মো. লামিম (২০)। তারা সবাই একই গ্রুপের সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হেমায়েতপুরের আলম নগর সুগন্ধা হাউজিং এলাকায় একটি বিল্ডিংয়ে অভিযান চালিয়ে টুন্ডা বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাতে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় অপর একটি অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের ৭ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার টুন্ডা বাবু ও রফিকুল ইসলাম রানার বরাত দিয়ে র্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার টুন্ডা বাবু মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করত। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শ্যামলী হাউজিং এলাকায় টুন্ডা বাবুসহ তার সহযোগীরা সামুরাই ও ছুরি হাতে শোডাউন দেয়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টা ও ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা রয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার মো. রফিকুল ইসলাম রানা মূলত গাড়ির হেলপার। সে কবজিকাটা আনোয়ারের নির্দেশে মোহাম্মদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।