লন্ডন প্রবাসী আকরাম আলী মারা গেলে সিলেটের ওসমানীনগরে তার গ্রামের বাড়িতে সম্পত্তির দেখাশোনার দায়িত্ব পান ভাতিজা আজাদ মিয়া। তিনি অবশ্য আগে থেকেই সেগুলোর দেখভাল করে আসছিলেন। কিন্তু এক সময় এই কাজে যোগ দেন আকরাম আলীর ভাগিনা মাখন মিয়া। মাখন মিয়া আসার পর আজাদ মিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন আকরাম আলীর পরিবারের লোকজন। আর এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় মাখন মিয়ার জন্য। আজাদ মিয়া চিন্তা করলেন, আকরাম আলীর পরিবার আর লন্ডন থেকে ওসমানী নগরে ফিরবে না। এখন যদি মাখন মিয়াকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে সব সম্পত্তি আজাদ একাই ভোগ করতে পারবেন। সেই চিন্তা থেকে মাখন মিয়াকে হত্যার পকিল্পনা করেন আজাদ। বাড়ির কেয়ারটেকার আলমগীর আলীর সঙ্গে যোগসাজশে তিনি হত্যা করেন মাখন মিয়াকে। তারা দুজনে এক সঙ্গে হামলা চালান মাখনের ওপর।
গত রবিবার সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মাখন মিয়া হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন কেয়ারটেকার আলমগীর আলী।
পুলিশ জানায়, গত ২১ মার্চ তারাবির নামাজ শেষে রাত ১১টায় মাখন মিয়া ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরের দিন ২২ মার্চ দুপুর ১টার সময় মাখন মিয়ার লাশ বাদীর বাড়ির পূর্বপাশে বোরো ধানের ক্ষেতে পাওয়া যায়। স্থানীয় মেম্বার থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ এসে মাখন মিয়ার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
গত ২৩ মার্চ দুপুরে সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি দল আইলাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাখন মিয়া হত্যায় জড়িত অভিযোগে কেয়ারটেকার আলমগীর আলীকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীর আলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি গতকাল ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওইদিন রাতে আইলাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজাদ মিয়াকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।
ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘মাখন মিয়া হত্যায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা মূল রহস্য উদঘাটন করেছি। হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত প্রবাসীর বাড়ি দেখাশোনা করার বিরোধ থেকে মাখন মিয়াকে হত্যা করেন তার ফুফাতো ভাই আজাদ। বাড়ির কেয়ার টেকার আলমগীর হত্যায় অংশ নেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।