ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন পটিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয় দখলচেষ্টার অভিযোগে থানায় অভিযোগ অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী ‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’ মানিকগঞ্জে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু সিংড়ায় তিন কুকুর টেনে তুলল মায়ের বস্তাবন্দি মরদেহ! কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত? ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ হেডফোন লাগিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার সিলেটে স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, মরদেহর ময়নাতদন্ত না করতে চিরকুট! রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু
Nagad desktop

মাদকের আখড়া টঙ্গীর ২৩ বস্তি

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম
মাদকের আখড়া টঙ্গীর ২৩ বস্তি
ফাইল ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে হঠাৎ করে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের ব্যবসা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন মাদকের চালান আসছে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে। কৌশলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে। টঙ্গী বাজারসংলগ্ন হাজি মাজার বস্তি এখন মাদকের সবচেয়ে বড় আখড়া হিসেবে পরিচিত।

টিনের তৈরি ছোট ছোট ঘরে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যে চলছে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের বেচাকেনা। শুধু হাজি মাজার বস্তি নয়, গাজীপুর মহানগরের ৩৩টি বস্তির মধ্যে টঙ্গীতেই রয়েছে ২৩টি বস্তি। টঙ্গীর ২৩টি বস্তিতে এখন মাদকের বড় বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলছে সংঘর্ষ। ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। মাদক কারবারিদের উৎপাতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, টঙ্গী বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে তুরাগ নদের তীরে অবস্থিত কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাগোয়া মাজার বস্তিটি। বস্তিতে প্রবেশের শুরুতে প্রতিটি অলিগলিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাদক বিক্রেতারা। প্রথমে সংকেত দিয়ে বোঝানো হয় কী ধরনের মাদক সেবন করা হবে? পরে সেবনকারীকে নিয়ে যাওয়া হয় ভিন্ন ভিন্ন ঘরে। বস্তির প্রতিটি ঘরেই রয়েছে ছোট ছোট টিনের ঘর। বস্তির প্রায় প্রতিটি ঘরেই রয়েছে মাদকের আড্ডা। 

স্থানীয়রা জানান, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদা নেন পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এ তথ্যও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন থানার ওসি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন, যার একটি অংশ যায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটেও।

ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক চক্রও বদলেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে এ কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন তৎকালীন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের অনুসারীরা। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার হাতে। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নেতারা অস্বীকার করেছেন।

মাদকের আখড়াগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ সহজ নয়। টঙ্গীর হাজি মাজার বস্তিতে সাংবাদিকরা গেলে তাদের ঘিরে ধরা হয় ও জেরা করা হয়। তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখা হয় কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ করা হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে সেখানে আর না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষায়, এসব বস্তিতে অতিরিক্ত লোক রাখা হয় শুধু নজরদারির জন্য। প্রশাসনের লোক বা সাংবাদিক প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই চলে যায় তথ্য। 

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর হাজি মাজার বস্তির মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সুমন সরকার। টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম জানান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে ডুবলি হাজি মাজার বস্তি নিয়ন্ত্রণ করেন, যিনি সুমন সরকারের লোক। তবে সুমন সরকার দাবি করেন, তার বা সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে মাদক কারবারের কোনো সম্পর্ক নেই।

হাজি মাজার বস্তির পর আরেক বড় আখড়া হলো এরশাদনগর বস্তি। এখানে মাদক ব্যবসা নিয়ে কোনো প্রতিবাদ হয় না। স্থানীয়দের মতে, প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের ভয় আছে। 

কথা হয় ৩ নম্বর ব্লকের আকবর আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, আগের চেয়ে বর্তমানে মাদকের রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছেন কিছু লোক। নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপি পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতা। এরশাদনগর বস্তিতে প্রকাশ্যে পুলিশ ডিউটি করলেও কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করছে না। 

তিনি আরও জানান, টঙ্গীর প্রতিটি বস্তিতে মাদক ও সন্ত্রাসের আখড়া। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এবং রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী নেতারাও জড়িত।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার বলেন, পুলিশ সিরিয়াস হলেই অপরাধ নির্মূল সম্ভব, নইলে নয়। তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বেশ কয়েকবার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পুলিশের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান চালায় এবং মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে। চলতি মাসে যোগদান করা নতুন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার থানাগুলোর কোনো ওসির বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই ওসিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। 

জিএমপি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী গাজীপুরে ৩৩টি বস্তিতেই রয়েছে মাদকের আখড়া। সেগুলো হলো কড়ইতলা বস্তি, কলাবাগান বস্তি, জিন্নাত মহল্লা বস্তি, নিশাত মহল্লা বস্তি, লাল মসজিদের পেছনের বস্তি, নামার মাজার বস্তি, ব্যাংগলের মাঠ বস্তি, মিল ব্যারাক বস্তি, ব্যাংকের মাঠ বস্তি, টঙ্গী স্টেশন বস্তি, আমতলী কেরানীটেক বস্তি, এরশাদনগর বস্তি, গাছা বস্তি, লক্ষ্মীপুরা, শিববাড়ী রেলগেট বস্তি, বরান, কোনাবাড়ী, টঙ্গী বোর্ডবাজার, ভোগড়া, সালনা, পুবাইল এবং কাশিমপুর কারাগারের পাশের বস্তি।

পুলিশের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) তাহেরুল হক চৌহান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ জোরালো অভিযান চালাতে পারছে না। কারণ আগে মাদক কারবারিরা পুলিশকে ভয় পেলেও এখন আর পাত্তা দেয় না। তবু প্রতিদিনই মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তার চলছে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বর্তমানে গাজীপুরে মাদকের কেনাবেচা রাত-দিন হচ্ছে। একসময় গোপনে মাদকদ্রব্য বিক্রি হতো, এখন প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, পুলিশ সদর দপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযানই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায়।

হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সি এক মা।

রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অমিত নামের এক সুইপার ভুক্তভোগীকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর একই ভবনের ৬ষ্ঠ তলার সিঁড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই সময় অপর দুই আসামি গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩)।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী খবরের কাগজকে জানান, গত ৫ জুন রাতে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি রিকশাচালক হওয়ায় স্ত্রীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য হাসপাতালে রেখে রিকশা চালাতে যেতেন। মাঝেমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিতেন।

তিনি আরও জানান, গতকাল ৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, তার স্ত্রী ও মেয়ে নির্ধারিত বেডে নেই। স্ত্রীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় তিনি তাদের খোঁজ করে জানতে পারেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রী ও মেয়েকে নার্সদের কক্ষে রেখেছেন। সেখানে গেলে স্ত্রীর কাছে ঘটনা জানতে পারেন।

ওসি মনসুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কামাল মৃধা/থিও/

নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা,  গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক
নাটোরে নারীকণ্ঠে ফাঁদ পেতে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানা, মোতাকাব্বির ও টুটুল প্রামাণিকের সাথে লালপুর থানা পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীকণ্ঠে কথা বলে এমন তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে তাদের আটক আটক করার পর রাতে মামলা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন ওই উপজেলার মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকার সোহেল রানা ওরফে রানা সরদার (২৪), মোতাকাব্বির (২০) এবং টুটুল প্রামানিক (৫০)।

ওই প্রতারকরা দীর্ঘদিন থেকেই ফোনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ছেলেদের সঙ্গে নারীকন্ঠে কথা বলে সম্পর্ক করেন। এরপর আরেকটি ফোনে নানা ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে তাদের আকৃষ্ট করতেন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংয়ের পর তাদের ও স্বজনদের ফোনে ওই তথ্য পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
 
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার বিকালে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের নাাটোর আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
কামাল মৃধা/আজহার/

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন
অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম। ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের হাতে খুন হয়েছেন মা রিজিয়া বেগম (৯৮)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিজিয়া বেগম (৯৮) মধ্যধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম (৬০) নিহতের মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বটি দিয়ে রোকেয়া বেগম তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে জানান, তার দাদি মারা গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রিজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয়রা খবরের কাগজকে জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন।

নিহতের নাতি রাসেল খবরের কাগজকে জানান, তার ফুপু নিজেই তাদের ডেকে বলেন যে তিনি তার দাদীকে আঘাত করেছেন এবং পুলিশ ডাকতে বলেন।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন খবরের কাগজকে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

আসাদ জামান/থিও

আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
লিয়াকত আলী লাদেন। ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামের এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিয়াকত আলী লাদেন বালাটারী গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া গ্রামের রাব্বির সঙ্গে সামান্য বিষয় নিয়ে লাদেনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাব্বি তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে লাদেন ক্ষুব্ধ হয়ে রাব্বিকে চড় দেন। এতে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেন।

তবে ওই ঘটনার জের ধরে রাতে লাদেনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক খবরের কাগজকে বলেন, 'পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে'।

এমআই বকুল/থিও

বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১
লিয়াকত আলী। ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়ার ওমান প্রবাসী ওমর ফারুক (৩৫) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

রবিবার (৭ জুন) রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেফতার লিয়াকত আলী ও নিহত ওমর ফারুক একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের অরিহুরার চরে একটি লিচু বাগান থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় মরদেহের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীর প্রায় অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় মরদেহটি নিখোঁজ ওমান প্রবাসী ওমর ফারুকের বলে শনাক্ত করা হয়।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত আছে কি-না, তা  খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রবাসী ফারুককে কেন এবং কী কারণে এত নিখুঁত পরিকল্পনায় পাহাড়ের নির্জন লিচু বাগানে নিয়ে হত্যা করা হলো, তা জানতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

নিহতের পরিবার আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

তৈয়্যবুল ইসলাম/তামান্না রুপা/