নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ওই মাদরাসার শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া চারটার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বুধবার ভোর সোয়া চারটার দিকে গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব- ১৪ এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুর ১টার দিকে র্যাবের পক্ষ থেকে আসামিকে আমাদের হাতে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
র্যাব-১৪ জানায়, দুপুর ১২টায় চাঞ্চল্যকর মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হবে।
ধর্ষণ মামলা
গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা আমানউল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বাড়ি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামে। তিনি হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসায় তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীও একই এলাকার বাসিন্দা। মেয়েটির মাকে ছেড়ে গেছেন তার বাবা। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।
ঘটনাটি গত নভেম্বরের
অভিযোগ, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদরাসাশিক্ষক। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটিতে যাওয়ার পর আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন মাদরাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে ঘটনা। শিশুটি মাদরাসার ওই শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়।
এরপর শিশুটিকে গাইনি বিশেষজ্ঞকে দেখান। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
অমিয়/