শীত এল ঢাকায়
কাজল নিশি
শীত তো ছিল দাদু বাড়ি
কেমনে এল ঢাকায়?
শীত কি তবে আসছে উড়ে
দোয়েল পাখির পাখায়!
প্রশ্ন শুনে খুকুর দাদু
মিটমিটিয়ে হাসে
দুধ ভেজানো চিতই খেয়ে
খকখক করে কাশে।
ছুটে এসে বলছে খোকন
দাও তো চুমুক চায়ে
শীত পালাবে ‘ভালো থাকার
রসদ’ পাবে গায়ে।
আমি তো ভাই শীতের সময়
হট কফিটা খাই
শীত তাড়াতে চা ও কফির
নাই তুলনা নাই
মাঘের শীতে
হাফিয রেদওয়ান
খোকন সোনা কাঁপিয়ে ঠোঁট
কাঁপছে উহু গীতে
মাঘের ঠাণ্ডা শীতে।
টিয়ে শালিক বাঁধে জোট
খোকার সাথে খেলে
একটু সুযোগ পেলে।
খোকন কাপড় পড়ে গায়ে
মাংকি টুপি মোজা পায়ে
চুপি ওঠে ঘাটের নায়ে
আয়রে খোকন ডাকছে মায়ে।
এল আবার বইমেলা
নকুল শর্ম্মা
জমকালো সব রঙিন স্টলে
সেজেছে বইমেলা,
খোকাখুকু আয় সকলে
ফেলে রেখে খেলা।
মজার মজার প্রচ্ছদ করা
নতুন ছড়ার বই,
এত সুন্দর আয়োজন আর
দেখতে পাবি কই?
দাদু দিদা সবাই যাবে
বইমেলাতে আজ,
সেজেগুজে বসে আছে
রেখে হাতের কাজ।
করিস নে আর দেরি তোরা
তাড়াতাড়ি চল,
বইমেলাতে ঘুরব ফিরব
সবাই বেঁধে দল।
কত্ত লোকের সাথে হবে
বছর পরে দেখা,
কিনব গোটা ছড়ার যে বই
নতুন কবির লেখা।
প্রথম দিন
শেখ সোহেল রেজা
স্কুলেতে যাবে টিনা
হাতে নতুন বই
পায়ে দেখো সাদা জুতা
তোমরা সবাই কই।
চুল বেঁধেছে লাল ফিতায়
লাল জামা গায়
সঙ্গে যাবে ময়না টিয়া
দেখবি যদি আয়।
আরও আছে বিড়াল ছানা
ধরছে নাকি বায়না
রাগ করেছে শালিক পাখি
তাইতো কথা কয় না।
বাঘ ও বিড়াল
মহম্মদ সফিকুল ইসলাম
বাঘের মাসি বিড়াল হলে
বিড়াল কেন ঘরে?
মাছ ও মাংস খায় তবু সে
দুষ্টু ইঁদুর ধরে।
ঘোরাঘুরি ছোটাছুটি
বনের ভেতর বাঘের,
কাঁথার ভেতর ঢোকে বিড়াল
বেজায় শীতে মাঘের।
বাঘের ভয়ে পালাই পালাই
এই বুঝি সে ধরে,
পায়ের কাছে বিড়াল এসে
হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
প্রিয় শিউলি
খাদিজা আক্তার
সাত সকালে বকুল তলে
বকুল ফুলের ঘ্রাণ
কদম কেয়া হাসনাহেনা
সিক্ত করে প্রাণ।
গন্ধরাজের গন্ধে আমি
বিমোহিত হই
কোথায় পাব জুঁই চামেলি
অবাক হয়ে রই।
নয়নতারার হরেক রঙে
নয়ন জুড়িয়ে যায়
গাদা ফুলের রংটি যেন
হলুদ সারা গায়।
আমার প্রিয় শিউলি ফুল
মন মাতানো রং
রঙে রঙে রঙিন হয়ে
করি শুধু ঢং।