দূর দেশে এক বাসার রান্নাঘরের কোণায় পিঁপড়ার রাজ্য। সে রাজ্যের নাম ‘চিনিনগর’। সেখানকার রাজা হচ্ছেন মহামহিম পিঁপড়া ত্রয়োদশতম, যিনি ছয় বছর ধরে রাজত্ব করছেন, যা পিঁপড়াদের ইতিহাসে রেকর্ড! তবে এ গল্প তার রাজত্বের নয়, এ গল্প এক দুঃসাহসী পিঁপড়ার, যার নাম ক্যাপ্টেন অ্যান্ট!
ক্যাপ্টেন অ্যান্ট আদতে এক সাধারণ শ্রমিক পিঁপড়া। তার কাজ ছিল সারা দিন খাবার খোঁজা আর লাইনে হেঁটে হেঁটে ফেরত আনা। কিন্তু সে বরাবরই অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। সে সব সময় প্রশ্ন করত, ‘আমরা কেন শুধু চিনিই খাই?’ ‘আমরা কেন সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠি না?’ ‘আচ্ছা, ছাদে গেলে কী কেক পাওয়া যাবে?’
সব পিঁপড়া বলত, ‘ধুর! পিঁপড়ার কাজ হলো মাটির নিচে থাকা আর চিনির দানার পিছে ছোটা!’
কিন্তু ক্যাপ্টেন অ্যান্ট ছিল জেদি। একদিন সে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিল- রান্নাঘরের ফ্রিজের নিচে যাবে! সবাই জানত ওখানে গেলেই ‘ঝাড়ু দৈত্য’ এসে এক বাড়িতে সব উড়িয়ে দেবে! কিন্তু ক্যাপ্টেন অ্যান্টের একই কথা, সে যাবেই।
ক্যাপ্টেন অ্যান্ট গোপনে এক নানা যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে বানিয়ে ফেলল নিজের যান, ‘ফাস্ট সার্ফার’। সেটা চালিয়ে সে চলল ফ্রিজের নিচে। আর কী আশ্চর্য! সেখানে আবিষ্কার করল এক চিপসের প্যাকেট। তার ভেতরে অজস্র লবণ আর মসলা আর চিপসের গুঁড়া! ক্যাপ্টেন অ্যান্ট ঝটপট কিছু চিপসের গুঁড়া বয়ে নিয়ে এল রাজ্যে। সবাই একে একে চেখে দেখল। কেউ বলল, ‘ওরে বাবা! ঝাল!’ কেউ বলল, ‘হায় হায়, আমার চোখে পানি!’
তবে কিছুক্ষণ পর সবাই একযোগে বলল, ‘কিন্তু খেতে দারুণ।’
রাজা নিজে এসে ঘোষণা করলেন, ‘আমরা পিঁপড়ারা আর শুধু চিনি খাব না। এখন থেকে মসলা, ঝাল, লবণ, চিপস এমনকি তেলের স্বাদও নেব। আর এই বীর যোদ্ধাকে বলা হবে, ক্যাপ্টেন অ্যান্ট।’
সেদিন থেকে পিঁপড়ারা শুধু চিনিই নয়, চিপসের টুকরা, বিস্কুটের কণা আর বাদামের গুঁড়াও সংগ্রহ করতে লাগল। রান্নাঘর আর শুধু রান্নাঘর রইল না, হয়ে উঠল এক বিশাল অভিযানভূমি! আর ক্যাপ্টেন অ্যান্ট? সে এখনো তার ফাস্ট সার্ফারে চড়ে চষে বেড়ায় পুরো বাসা- নতুন স্বাদের খোঁজে, নতুন স্বপ্নের আশায়।