ময়মনসিংহের ত্রিশালে সূর্যমুখী চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন দুই শিক্ষার্থী। তাদের বাগান দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ বাগানে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করছেন। স্থানীয়রা কৃষকরাও তাদের দেখাদেখি সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতেরপাড়া গ্রামে বাগান গড়ে তুলেছেন দাখিল পরীক্ষার্থী দুই ভাই রাজীব হাসান ও রেজাউল করিম। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক চাষেই সফলতা পেয়েছেন তারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা। বাগানের ভেতরে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করায় মাঝেমধ্যে গাছ ভেঙে যাওয়াসহ ফুলও নষ্ট হচ্ছে। তবুও বাগানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
সূর্যমুখী বাগান দেখতে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এসেছেন আহনাফ, শরীফ, মোশারফসহ কয়েকজন। তারা জানান, ফেসবুকে বাগানটির ছবি দেখে ভালো লাগে। এরপর বন্ধুরা একসঙ্গে বাগান দেখতে এসেছেন। পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলা থেকে এসেছেন লাকি আক্তার। তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক জায়গায় ঘুরছি। সম্প্রতি জানতে পারি ত্রিশালের সতেরপাড়া গ্রামে সূর্যমুখী বাগান দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষ আসছে। তাই আমিও স্বামী-সন্তানকে নিয়ে এই বাগানে ঘুরতে এসেছি।’
সূর্যমুখী চাষি রাজীব হাসান বলেন, ‘আমি দাখিল পরীক্ষা দেওয়ার পর বেশ কিছুদিন সময় পেয়েছিলাম। তখন আমার কোচিংয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ ফাহাদ স্যার সূর্যমুখী চাষ করতে আমাকে অনুপ্রাণিত করেন। এরপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আমি ও আমার ছোট ভাই ২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষে খরচ হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। এখন ফুল পরিপক্ব হওয়ার পর বীজ সংগ্রহ করে বিক্রি করব। কিন্তু এই বীজ কারা কিনবে আর কোথায় বিক্রি করব, তা আমার জানা নেই। এ ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তারা আমাকে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’
ত্রিশাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিশাত মাহবুবা রহমান বলেন, ‘আগে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। আমাদের চেষ্টায় এখন তারা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ভোজ্য তেলের ঘাটতি মেটাতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ দেওয়া থেকে শুরু করে চাষাবাদে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাই সূর্যমুখী চাষ দিন দিন বাড়ছে। এবার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। আগামীতে ওই দুই শিক্ষার্থীসহ যেকেউ সূর্যমুখী চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে সবধরনের সহযোগিতাসহ পরামর্শ দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, সূর্যমুখীর রয়েছে নানা গুণাগুণ। জটিল ব্যাধি ক্যানসার প্রতিরোধ করতে খুবই পারদর্শী সূর্যমুখীর তেলে থাকা সেলেনিয়াম উপাদান। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম উপাদান মানসিক চাপ দূর করে। মাইগ্রেনের সমস্যা এবং মস্তিষ্ককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে এই উপাদান। হাড়ের জোড়ায় ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক আলসার, দেহের চামড়ায় জ্বালাপোড়া, হাঁপানি ইত্যাদি রোগ সারিয়ে তুলতে এই তেল খুবই উপকারী। সূর্যমুখীর তেলের লিনোলাইক অ্যাসিড খুব অল্প সময়ে ত্বকের গভীর ক্ষত থাকলে তা সারিয়ে তোলে। এই বীজে রয়েছে ভিটামিন-ই, যা দেহের নানা রকম ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে। প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশক্তি থাকায় সূর্যমুখী বীজের তেল শরীরের দুর্বলতা কাটাতে কার্যকরী। দেহের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং দীর্ঘদিন কর্মক্ষম রাখতেও সূর্যমুখী তেলের ভূমিকা অনন্য। সূর্যমুখী বীজ দেহের হাড় সুস্থ রাখে ও মজবুত করে। দেহে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কপার এর চাহিদা পূরণ করে সূর্যমুখী তেল।