চলতি অক্টোবর মাসে ভারতে চালের মজুত বেড়েছে। নতুন মৌসুমি সরবরাহের ফলে চলতি মাসে দেশটির মজুত বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারতের চালের মজুত বেড়ে ৩ কোটি ১১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম শস্য রপ্তানিকারক দেশটির গত দুই দশকের মধ্যে অক্টোবর মাসের সর্বোচ্চ চাল মজুতের রেকর্ড। খবর রয়টার্সের।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় মজুতকারী প্রতিষ্ঠান ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই) আশা করছে যে, ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নতুন বিপণন বছরে ৪ কোটি ৮৫ লাখ মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন চাল কেনা হবে, যার ফলে সরকারি গুদামগুলোতে মজুত আরও বাড়বে।
খবরে বলা হয়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে দেশীয় চাষিদের কাছ থেকে ৪ কোটি ৬৩ লাখ মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন চাল কিনেছে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশ ভারতের চাষিরা এখনই ফসল সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। এর আগে দীর্ঘ বর্ষা ও ভারী বৃষ্টিপাতের সুবিধাকে কাজে লাগিয়েছেন দেশটির চাষিরা। অনুকূল আবহাওয়া চাষিদের চাষের জমি বাড়াতে উৎসাহিত করেছে, যার ফলে এ বছর বিপুল ফসল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য সুবিধা প্রকল্পের ৮০ কোটি উপকারভোগীদের বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন চালের প্রয়োজন।
এফসিআই জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে রাজ্যের গুদামে চালের মজুত ৩ কোটি ১১ লাখ মেট্রিক টন ছিল, যা ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের ২ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন থেকেও অনেক বেশি।
গত মাসের শেষের দিকে ভারত নন-বাসমতি সাদা চাল রপ্তানি পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিয়েছে। এটি ভারত সরকারের এমন একটি পদক্ষেপ যা সামগ্রিক বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বাড়িয়ে তুলবে এবং পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো অন্যান্য প্রধান রপ্তানিকারকদের তাদের চালের দাম কমাতে বাধ্য করবে। এর মধ্য দিয়ে মূলত ভারত আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ভূমিকা পালন করবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নয়াদিল্লি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুগন্ধি বাসমতি ও আধা সেদ্ধ (পারবয়েল্ড) জাতের চালের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর, একটি সিরিজ পদক্ষেপ অনুসরণ করার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে নন-বাসমতি সাদা চাল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারত এখনো ১০০ ভাগ ভাঙা (একটি ধরন) চাল রপ্তানি করার অনুমতি দেয় না। চালের মজুত কমাতে ভারত আগস্ট মাসে ডিসটিলারিগুলোকে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার থেকে ২৩ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত খাদ্যশস্য কেনার অনুমতি দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার চাল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা
এদিকে ভারতের মজুত বাড়লেও চলতি বছরে এশিয়ার আরেক দেশ ইন্দোনেশিয়ার চাল উৎপাদন কম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির চাল উৎপাদন ৩ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এটি গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। চলতি বছরে ধানের আবাদ এলাকা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ১ কোটি ৫ লাখ হেক্টর (২ কোটি ৪৮ লাখ একর) হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়কালে দেশটির চাল উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় এবারের জানুয়ারি-এপ্রিল মৌসুমে উৎপাদন সবচেয়ে বেশি কমেছে।
মে-আগস্ট মাসে উৎপাদন কিছুটা বাড়তে দেখা গেছে এবং দপ্তরটি বলেছে বছরের বাকি সময় আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।
খবরে বলা হয়, ২০২৩ সালে শুষ্ক আবহাওয়ার ধারা, চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ার ধান রোপণে বিলম্ব ঘটিয়েছে, যা বছরের প্রথম মাসগুলোতে উৎপাদনকে প্রভাবিত করেছে। তবে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য চলতি বছর দেশটি সর্বোচ্চ ৩৬ লাখ টন চাল আমদানি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।