ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী
Nagad desktop

দাম বাড়ানোর পর মিলছে সয়াবিন তেল

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:৫৭ পিএম
দাম বাড়ানোর পর মিলছে সয়াবিন তেল
সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার পর বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় ১ কেজি আর ২ কেজির বোতলের সয়াবিন তেল। লিটারে ৮ টাকা দাম বাড়ানোর পর এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সয়াবিন তেল। ছবি: সংগৃহীত

দাম বাড়ানোর জন্য গত সপ্তাহে বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় বোতলজাত সয়াবিন তেল। সরকার লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিলে বাজার স্বাভাবিক হয়। পাওয়া যাচ্ছে সয়াবিন তেল। নতুন ধান ও আলু উঠলেও কমেনি দাম। গতকালও খুচরা পর্যায়ে পুরোনো আলু কেজি ৭৫ টাকা ও নতুন আলু ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। চালের দামও সেই পথে। এখনো সরকার নির্ধারিত দরে মিলছে না ডিম, মুরগি। তবে চিনির দাম কমেছে। কেজি ১২৫ টাকা। আগের চেয়ে সবজিতেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ১০০-৮০ টাকায় নেমেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

দাম বাড়ানোর পরও শর্ত দিয়ে তেল বিক্রি
গত সপ্তাহে সরকার নির্ধারিত দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়াটা যেন সোনার হরিণ ছিল। সরকার ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৬৭ টাকা ও ৫ লিটার ৮১৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল। মিলমালিকরা দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহ বন্ধ করে দেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে গত সোমবার সরকার লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রির ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই অধিকাংশ দোকানে মিলছে সয়াবিন তেল। তবে কোনো কোনো কোম্পানি শর্ত দিয়ে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা আমলে নিয়ে জাতীয় ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ অধিদপ্তর কারওয়ান বাজারের টিকে গ্রুপের ডিলার মেসার্স সিদ্দিক এন্টারপ্রাইজকে জরিমানা করে। এ ব্যাপারে মেসার্স সিদ্দিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু বকর সিদ্দিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি পুষ্টির সয়াবিন তেল, আটা, চাল, সরিষার তেলসহ ১০টি পণ্য বিক্রি করি। খুচরা বিক্রেতা এসব ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করার জন্য কেনেন। তাই নিতে বলি। কিন্তু চাল, আটা ছাড়া তেল বিক্রি করি না। এটা বাজে অভিযোগ। কেউ এমন অভিযোগ করায় ভোক্তা অধিদপ্তর আমাকে গতকাল জরিমানা করেছে।’ 

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, কৃষি মার্কেটসহ অন্য বাজারেও দেখা গেছে দাম বাড়ানোর পর আগের মতো সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। এসব বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই ছোলার কেজি ১৪০-১৬০ টাকা, মুগডাল ১৮০ টাকা কেজি, মসুরডাল ১১০-১৩৫ টাকা, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১০০-১৩০ টাকা, খোলা আটার কেজি ৪০ টাকা। তবে চিনির দাম কমেছে। আগের সপ্তাহে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে ১২৫ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। 

বাড়তি চালের দাম
বোরো ধান উঠার পরও কমেনি চালের দাম। অন্তর্বর্তী সরকার চালের দাম কমাতে গত ৩১ অক্টোবর চাল আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারতের চালের দাম বেশি। তাই আমদানি করা হচ্ছে না। তাই বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই বেশি দামে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের রতন রাইস স্টোরের রতন মিয়া, হাজি এন্টারপ্রাইজের হাজি মো. মাঈনুদ্দিনসহ অন্য চাল বিক্রেতারা বলেন, ‘সরকার শুল্ক কমালেও বাইরের চাল দেশে আসে না। আবার নতুন ধান উঠলেও তা বাজারে আসেনি। কারণ আমন ধানের চাল মোটা। বাজারে চাহিদা কম। এ জন্য কম বিক্রি হয়। চিকন চালের চাহিদা বেশি হওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে মিনিকেটের কেজি ৭২-৭৬ টাকা, আটাশ চাল ৬০-৬২ টাকা ও মোটা চাল ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ৫০ কেজির বস্তা কিনলে দাম একটু কম। 

কমের দিকে সবজি 
শীতের ভরা মৌসুম শুরু হওয়ায় অধিকাংশ সবজি বাজারে উঠেছে। সবজি বিক্রেতারা বলেন, প্রতি সপ্তাহেই বেগুন, টমেটো, শিমসহ অধিকাংশ সবজির দাম কমছে। বেগুন ও শিমের কেজি ৬০-৯০ টাকায় নেমেছে। টমেটোর দামও কমে ১২০-১৪০ টাকায় নেমেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৮০-১০০ টাকা। বরবটি, কচুর লতির কেজি ৭০-৮০ টাকা কেজি। ঝিঙ্গা, কচুরমুখি ৭০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, ধুন্দুল ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৭০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, শসা ৬০-৭০ টাকা। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, চালকুমড়ার পিসও ৪০-৬০ টাকার ঘরে। পুঁইশাক ও লাউ ডগার আঁটি ৩০ টাকা, লাল, পালং, কলমি ও পাটশাক ১০ টাকায় নেমেছে। 

নতুন আলু উঠলেও পুরোনোটা বেশি দামে বিক্রি
গত সপ্তাহে নতুন আলু ১১০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল ৭০ টাকায় নেমেছে। তবে এখনো চড়া দামে পুরোনো আলু ৭৫-৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। অথচ আলুর দাম কমাতে সরকার শুল্ক অর্ধেক কমিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে আলু আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে আলু আমদানিতে যে ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে। তারপরও কমছে না দাম। 

তবে আমদানি বাড়তে থাকায় পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। ভারতের পেঁয়াজ ৯০ টাকায় নেমেছে। তবে দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। আগের সপ্তাহের মতোই বিদেশি রসুন ২৪০ টাকা ও দেশি রসুন ২৬০ টাকা, দেশি আদার কেজি ১৬০ টাকা ও চায়না আদা ২৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

কমেনি মাংস ও মাছের দাম 
সরকার ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগির কেজি ২৭০ টাকা বেঁধে দিলেও গতকাল আগের মতো ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের কেজিও আগের মতো ৭০০-৭৮০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। ডিমের দাম ১৪২ টাকা বেঁধে দিলেও ১৪০-১৫০ টাকার কমে মেলে না বাজারে। এদিকে নদী খাল-বিলের পানি কমলেও অন্যান্য পণ্যের মতো মাছের দামও কমছে না। আগের মতোই রুই-কাতলার কেজি ৩৫০-৬০০ টাকা। চিংড়ি ৬০০-১২০০ টাকা, কাজলি ১০০০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০-৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজি ২০০-২৫০ টাকা, চিংড়ি ৭০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
ছবি: সংগৃহীত

টানা চার দফা কমানোর পর দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা।

আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

আমান/

মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব রাখেন। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে তা এই লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও নেই। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

এ বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে জনজীবনে একটু স্বস্তি ফিরে আসে।

নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ
ছবি: খবরের কাগজ

পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে মূলধন সংগ্রহ সহজীকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শিল্প, অবকাঠামো, নগর উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসা শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করলে আর্থিক খাতের ওপর চাপ বাড়ে। তাই পুঁজিবাজারকে গভীর, বহুমাত্রিক, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক করে উৎপাদনশীল খাত ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা হবে। ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলো কেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয় না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয়, একই ধরনের কাগজপত্র বারবার দাখিল এবং অনুমোদন ও পরিপালনসংক্রান্ত অস্পষ্টতা ধাপে ধাপে কমানো হবে। বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা অক্ষুণ্ন রেখে তালিকাভুক্তির মানদণ্ড আরও স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত এবং প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানির জন্য সহায়ক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ, সময়াবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আবেদন, আনুষঙ্গিক দলিল, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন ও অনুমোদনের ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইস্যুকারী কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হবে। যোগ্য ও পরিপক্ব কোম্পানির জন্য সরাসরি অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হবে।

পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। নতুন এএমসি গড়ে তোলা, পেশাদার ফান্ড ম্যানেজমেন্ট জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তরের সুযোগ বাড়িয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের আকার ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

ঘোষিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে মিউনিসিপ্যাল বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বন্ড, সুকুক, অবকাঠামো ফান্ডের ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক কাঁচামালের পরিসর বাড়াতে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যমান লাইসেন্স কার্যকর করা, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

দেশীয় কোম্পানির জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দুবার তালিকাভুক্তের সুযোগ এবং বাছাইকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অনাবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ সহজ করতে এনআইটিএ হিসাব খোলা ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য প্রকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা, শেয়ার মূল্যায়ন, ক্রেডিট রেটিং, আইপিও ব্যবস্থাপনা ও রিসার্চ রিপোর্টের মান উন্নত করা হবে। অডিটর, ভ্যালুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, মার্চেন্ট ব্যাংকার, ব্রোকার ডিলার এবং অন্যান্য বাজার-মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হবে।

লেনদেনের পর শেয়ার ও অর্থ হস্তান্তর দ্রুত নিরাপদ করতে সেটেলমেন্টের সময় ধাপে ধাপে কমানো হবে। বর্তমানে টি+২ ভিত্তিক নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু থাকলেও তা টি+১-এ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাজার অবকাঠামো নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে ১+০ বা একই দিনে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যব্যবস্থার সমন্বয় জোরদার করা হবে। পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত নিষ্পত্তি আদালত গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে, যার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আইনি ক্ষমতা থাকবে। এতে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে এবং বাজারে শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।

এসব উদ্যোগ পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ, অবকাঠামো অর্থায়ন, সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।

আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নতুন বাজেটে ব্যাপক পরিকল্পনা ও বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জিডিপিতে এই খাতের অবদান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমান ১-২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর অব্যাহতি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

বাজেট নথির তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থ বছরের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা; বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দগুলো মূলত প্রযুক্তি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজে ব্যয় করা হবে।

বিশেষ করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ 'স্টার্টআপ তহবিল' গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারী উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের বিকাশে ব্যবহৃত হবে।
প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার আমদানি শুল্ক কাঠামোতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ফ্ল্যাশ স্টোরেজ ডিভাইস এসএসডি আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বজায় রেখে অন্যান্য সকল শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি, সেবা আমদানি এবং অফিস ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের দেওয়া সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার দেশব্যাপী সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ১০ শতাংশ মানুষের কাছে ফাইভ-জি সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এআই- ড্রাইভেন ডেটা সেন্টার ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 


জয়ন্ত সাহা/এসএন

পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই
ছবি: সংগৃহীত

অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত পরিবহন খাতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় বড় অঙ্কে কমানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন খাতের বরাদ্দ হ্রাসের শীর্ষে রয়েছে সেতু বিভাগ (৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় (২ হাজার ৩ কোটি টাকা)। এরপর যথাক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা) এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের (১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৬ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে, এ বছর বিভাগটির বরাদ্দ ১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা কমছে। যদিও সংশোধিত বাজেটের ২৫ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকার তুলনায় নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ বেশি, কিন্তু উন্নয়নের মূল ধারার বাজেট হ্রাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো নির্মাণে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেলপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু নতুন অর্থবছরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে পরিচালন খাতে ৪ হাজার ৫০১ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমছে ২ হাজার ৩ কোটি টাকা।

ব্যয় সাশ্রয়ী ও দক্ষ নৌপরিবহন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বন্দর আধুনিকায়ন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। নতুন অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ে ৮৭৪ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয়ে ৮ হাজার ২০৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই খাতে বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে সেতু বিভাগে। এ বিভাগের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১০ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার তুলনায়ও এই বরাদ্দ বেশ কম।

যোগাযোগ খাত বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার যখন দেশকে মাল্টিমোডাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা, হাজার কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরি এবং ইলেকট্রিক বাসের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন বাজেটে এই সংকোচন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিকে কতটা বাধাগ্রস্ত করবে, তা এখন দেখার বিষয়।’

বরাদ্দ কমলেও সরকার যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বেশ কিছু মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে অগ্রাধিকার পেয়েছে সড়ক, রেলপথ ও নৌ-পথের সমন্বিত উন্নয়ন।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আওতায় ১৪টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরি, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রো ও মনোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, স্থানীয়ভাবে লোকোমোটিভ সংযোজন এবং সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমানোর ‘কর্ডলাইন’ প্রকল্প। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল নির্মাণের মতো মেগাপ্রকল্পগুলোতে গতি আনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/