ঈদুল আজহার ছুটি, শ্রমিকসংকট, কাস্টমস কর্মকর্তাদের কলম বিরতি ও প্রাইম মুভারদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রামের বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) কনটেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। ডিপোতে দিন দিন বাড়ছে কনটেইনার। এতে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির আগে রপ্তানিপণ্যের পরিমাণ দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হওয়ায় কনটেইনার ডিপোগুলোতে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি ১৯টি আইসিডিতে ৮ হাজার কনটেইনার রাখার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ২০ হাজার কনটেইনার আছে। এসব ডিপোতে ৬৫ হাজার খালি কনটেইনার রাখার ব্যবস্থা আছে। তবে সেখানে খালি কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ হাজার হয়েছে। বন্দরের ভেতরে পর্যাপ্ত প্রি-স্ট্যাকিং ইয়ার্ডের অভাব রয়েছে। আইসিডি থেকে প্রায় ৮৫ শতাংশ কনটেইনার সরাসরি জাহাজের হুকপয়েন্টে পাঠাতে হয়। জাহাজগুলো ছেড়ে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে কনটেইনার তোলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি কনটেইনার জটের আরেকটি কারণ।
ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির সময় এবং পরে তীব্র শ্রমিকসংকটের কারণে বন্দরে কনটেইনারের জটের সৃষ্টি হয়। রপ্তানিকারকরা ঈদের ছুটির আগে আইসিডিতে বেশি পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করেছেন। চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনারের মোট পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক)। যেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কনটেইনার থাকে ৮ হাজার টিইইউএস, যা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।
বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘ডিপোগুলোতে বর্তমানে কনটেইনারের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের কলম বিরতি ধর্মঘটের ফলে বন্দরের ভেতরে আমদানি-বোঝাই কনটেইনার জমে যায়। এ কারণে ঈদের আগে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার বহনের জাহাজের সংখ্যা কমে যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন ডিপোতে প্রাইম মুভার ড্রাইভার এবং হেলপারদের ধর্মঘট রপ্তানিপণ্যের কনটেইনার জমে যেতে প্রভাব ফেলে। সেই সঙ্গে ঈদের ছুটির পর তীব্র শ্রমিকসংকট সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে, যা কনটেইনার খালাস এবং স্টাফিং কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। এ ছাড়া এ সময় ভারী বর্ষণের ফলে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে বেশি সময় লাগছে।’
বিকডার প্রেসিডেন্ট নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘রপ্তানি কনটেইনার পাঠাতে কিছুটা দেরি হচ্ছে, যা আমরা চিঠিতে ক্লায়েন্টদের জানিয়েছি। কনটেইনার জটের কারণে আমরা স্বাভাবিক কাজ করতে পারিনি। নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। সবই আমরা চিঠিতে উল্লেখ করেছি। তবে আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হতে চলেছে।’
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘এখন কারও কথা কেউ শুনছে না। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাকে পণ্য আনা হচ্ছে ডিপোতে। কিন্তু ডিপোর বাইরে এসব গাড়ি দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। ব্যবসায়ীদের লোকসান দিতে হচ্ছে। শিপিং এজেন্টরাও ঠিকভাবে কাজ করছেন না। জাহাজ ভাড়া না করেই তারা বন্দরে পণ্য পাঠাতে বলছেন। সব মিলিয়ে আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’