চট্টগ্রামে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১০ টাকা ও দেশি মুরগিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। অপরদিকে মাছ, সবজিতেও মিলছে না স্বস্তি। সব মিলিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
গত শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও হালিশহর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। দেশি মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা কমে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৩৪০ টাকায়। তাছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
হালিশহর কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. শরিফ বলেন, ‘মুরগির চাহিদা বেশি। এদিকে খামারিদের কাছ থেকে বাড়তি দামে মুরগি কিনে আনতে হচ্ছে। তাই দামটা বেড়েছে। আমরা কম দামে কিনে আনতে পারলে কম দামে বিক্রি করতে পারব।’
এদিকে বাজারে মুরগির লাল ডিম প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
বাজারে আলু ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া বেশির ভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হয়। কিছু কিছু সবজির দাম শতক পেরিয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা ও মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি কচুর লতি, বেগুন ও শালগম ৮০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি প্রতি কেজি কাঁকরোল, ঝিঙা, পটোল, ঢ্যাঁড়স, করলা মিলছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। প্রতি কেজি কচুমুখী, লাউ, মুলা ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। তা ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি বরবটি ১২০ টাকা, টমেটো ১৫০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছের বাজারেও মিলছে না স্বস্তি। বাজারে প্রতি কেজি রুই-কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০, পাবদা ৪৫০, কোরাল ও টেংরা ৬০০, লইট্টা ১৮০, পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০, রূপচাঁদা আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৭০০, চিংড়ি ৬৫০, তেলাপিয়া ২৫০, পাঙাশ ২৮০ ও নাইলোটিকা ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তা ছাড়া প্রতি দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ টাকা ও আড়াই কেজি ওজনের ইলিশ ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
অপরদিকে মুদি দোকানে প্রতি কেজি বুটের ডাল ১১০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ১০০ টাকা, মসুর ডাল (ছোট) ১৩০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা, প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১৪০ টাকা, প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১০০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা সাদা চিনি ১০৫ টাকা, প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে বাজার করতে এসেছি। মাছ, মাংস, সবজি সবকিছুর দাম বাড়তি। সাধারণ মানুষ দিশেহারা। মূলত বাজারে এসেছিলাম ইলিশমাছ কিনতে। ৩ হাজার টাকার নিচে ভালোমানের ইলিশ কেনা যাচ্ছে না। আমার সাহস হয়নি, তাই না কিনেই বাসায় ফিরছি।’
অন্য ক্রেতা মো. শাহজাহান ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়তি। আমরা সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। কারণ ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের আয় তো বাড়ছে না। সরকারের উচিত এসব নিয়ে চিন্তা করা, জনগণের জন্য কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে- কেন বাড়ছে? সেটা আগে চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি কারও কারসাজি ধরা পড়লে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বাজার তদারকিব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ব্যবসায়ীরা রশিদ রাখছেন না। পণ্যের মূল্যতালিকা রাখছেন না। এসব বিষয় যথাযথভাবে তদারকি করতে হবে।’