ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কোন দলের বিপক্ষে কত দেখে নিন যে কারণে বন্ধ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ এমবাপ্পের গোলে ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে ফ্রান্স গোল করেই রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসালেন এমবাপ্পে বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বোগডানোভিচ জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

কমল সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ এএম
কমল সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

সরকারি চাকরি থেকে সদ্য অবসরে গেছেন গোপীনাথ প্রসাদ। অবসর জীবনে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার পরিচালনার জন্য পেনশনসহ যে টাকা পাবেন, তা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই টাকা পাওয়ার আগেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আরেক দফা কমিয়ে দিয়েছে সরকার। ফলে সংসার খরচ চালানোর চিন্তায় তার কপালের ভাঁজ কিছুটা বেড়ে গেল।

তিনি বলেন, ‘আমার মতো অবসরভোগীদের নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র। কিন্তু সরকার যেভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়ে দিচ্ছে, তাতে তো সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যাবে। কেননা এখন তো আমার অন্য কোনো আয় নেই।’ 

ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আরেক দফা কমানোয় নতুন বছরের শুরুতেই গোপীনাথ প্রসাদের মতো দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্তের চাপ বেড়ে গেল।

মুনাফার হার কমিয়ে আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন মুনাফার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলেরও (আইএমএফ) চাপ রয়েছে। 

নতুন হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। তখন সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় মাসে মুনাফার হার কমেছে ১ শতাংশেরও বেশি। এর আগে, গত জানুয়ারিতে সুদহার কিছুটা বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। 

একদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। অন্যদিকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। যদিও কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা ৮-৯ শতাংশের ঘরেই আছে। সেই সঙ্গে এখন সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হলো। ফলে সামগ্রিকভাবে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ কিছুটা বাড়বে। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক খরচের বড় একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে, তারা বড় ধরনের চাপে পড়বেন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমায় মধ্যবিত্তরা, বিশেষ করে যারা এই আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবন নির্বাহ করেন, তারা বড় ধরনের চাপে পড়বেন। কারণ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে তাদের ব্যয় আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার সঞ্চয়পত্রের চেয়েও বেশি এবং সেটিও নিরাপদ বিনিয়োগ। সেখানে সরকারের গ্যারান্টিও আছে। ফলে চাইলেই সাধারণ মানুষ সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন। তারা আরও বলেন, সুদহার সামান্য বাড়ালে বা কমালেই যে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ বাড়বে বা কমবে- এটা ঠিক নয়। বর্তমানে স্থিতিশীল উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে অধিকাংশ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। এই অবস্থায় তাদের পক্ষে নতুন করে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ কোনোটাই করার সামর্থ্য নেই। বরং আগে বিনিয়োগ করা সঞ্চয়পত্র ভেঙে খাচ্ছেন অনেকে। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, অবসরভোগী এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করে দেশের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সংসার চালায়। মুনাফার হার বারবার কমানোর ফলে তাদের ভোগান্তি বাড়বে।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে বিনিয়োগ, মজুরি এবং শ্রমবাজার, কোথাও খুব বেশি সুখবর নেই। শুধু রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাদে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কোনো খাতেই আয় বাড়ছে না। অন্যদিকে স্থিতিশীল রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। অর্থাৎ মানুষের আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ছে। এই অবস্থায় নতুন করে সঞ্চয় করার মতো সক্ষমতা অধিকাংশ মানুষেরই নেই। অর্থাৎ মুনাফার হার বাড়ানোর পরও যেমন সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ বাড়েনি, এখন সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পরও সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ খুব বেশি কমবে না।’

এমন পরিস্থিতিতে সরকার তাহলে কেন সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়েছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে যে সংস্কার করা হয়েছে, সেটি সুদহার বাজারভিত্তিক করার উদ্দেশ্যে। সুদহার কমানোর জন্য নয়। কারণ সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি ঋণ না নিতে আইএমএফেরও পরামর্শ রয়েছে।’

একই বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর ফলে মধ্যবিত্তের ওপর কিছুটা চাপ বাড়বে। তবে বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার অনেক বেশি। মধ্যবিত্ত চাইলে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে। এটিও সঞ্চয়পত্রের মতোই নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা। সেখানে সরকারের গ্যারান্টিও আছে। 

জানা গেছে, আইএমএফের পরামর্শে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদহারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ছয় মাসের গড় ট্রেজারি বিলের সুদহারের ভিত্তিতে সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারিত হবে। ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়লে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়বে। আর ট্রেজারি বিলের সুদহার কমলে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমবে। যদিও বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার তুলনামূলক বেশি। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রওশন আরা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়। ফলে তারাই এ বিষয়ে ব্যখ্যা দিতে পারবেন। আমাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা নেই।’ 

একই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। অর্থাৎ ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহারের সঙ্গে সমন্বয় করেই সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে সঞ্চয়পত্রের সুদহার সামান্য কমানো হয়েছে। 

বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের যে ঋণচুক্তি রয়েছে, সেখানেও সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ কমানোর পরামর্শ রয়েছে। আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিবছর বাজেট ঘাটতি হিসেবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ করে সঞ্চয়পত্র থেকে এক-চতুর্থাংশের বেশি ঋণ নিতে পারবে না। সেই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাজারভিত্তিক করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কম। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ পরিমাণ বা এর কম হলে মুনাফার হার বেশি হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে। 

নতুন মুনাফার হার
দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। এ সঞ্চয়পত্রে এতদিন সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ; এখন তা কমিয়ে করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, সেটা কমিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ করা হয়েছে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে, অর্থাৎ মেয়াদপূর্তিতে মুনাফা ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; এখন তা করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয়েছে। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদপূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলেও মুনাফা কমবে। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৫-এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ইস্যুকালীন মেয়াদে ওই সময়ের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.77 140.79 --
ব্রিটেন পাউন্ড     162.42 162.46 --
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     86.06 86.11 --
জাপানি ইয়েন 0.7609 0.7611 --
কানাডিয়ান ডলার 86.71 86.74 --
সুইস ক্রোনা 12.78 12.84 --
সিঙ্গাপুর ডলার 94.95 95.14 --
চায়না ইউয়ান     18.09 18.10 --
ইন্ডিয়ান রুপি     1.3013 1.3014 --
সৌদি রিয়াল 33.29 33.58 --
আরব আমিরাত দিরহাম 32.56 32.87 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

অমিয়/

দুই দফা কমে ৪৪৩২ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
দুই দফা কমে ৪৪৩২ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

টানা ২ দফা কমার পর দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

সোমবার (২২ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানায়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণালঙ্কারে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

অন্তরা/

মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে শিল্প-বিনিয়োগ-ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। নতুন কর্মসংস্থান নেই। বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে তলানিতে ঠেকেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে ভাটা পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। মোট রপ্তানিও পতনের ধারায়। খোদ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনীতিকে ‘ভঙ্গুর’ বলেছেন। 

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১-২২ জুনের মালয়েশিয়া সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে।

তারা বলছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে হলে দেশটিতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বিশেষভাবে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বহু দিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করতে হবে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। এই ঘাটতি কমানোর জন্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করা, রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা,  মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে প্রবেশ এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের মালয়েশিয়ার সফর সফল হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করছি। দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে দ্রুত এফটিএ বাস্তবায়ন করতে হবে। মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি-সহায়তা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে বিদ্যমান সব বাধা দূর করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বাড়বে। 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এফটিএ চূড়ান্ত করা নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্য উচ্চ শুল্ক বা ট্যারিফের সম্মুখীন হচ্ছে। এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজার সুবিধা নিশ্চিত হবে। 

ব্যবসায়ী নেতা মীর নাসির হোসেন বলেন, হালাল অর্থনীতিতে বৈশ্বিক বাজারে অন্যতম রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ার অবস্থান রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার বাজারে হালাল খাদ্য,  মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার বিশাল হালাল বাজারের অংশীদার হওয়ার সুযোগ আছে। 

মালয়েশিয়া সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্যসহ বেশ কিছু পণ্য আছে। মালয়েশিয়ায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ঔষধি পণ্য, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য এবং আলু-সবজির মতো কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার কাছে একটি পৃথক ‘ইকোনমিক জোন’ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে হবে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনশক্তি ও আইটি পেশাজীবী রপ্তানির মাধ্যমে প্রবাসী আয় বাড়ানো সম্ভব। এভাবে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।  

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা, রপ্তানি বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার ও নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার খুঁজে বের করতে হবে। এমন একসময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর ও কার্যকর করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর ও জোরদার হবে। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়াও নতুনভাবে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী হবে। নির্বাচিত সরকারের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে। তাই তারা নতুন বাণিজ্যের চেষ্টা করবে। মালয়েশিয়ায় নতুনভাবে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য চমৎকার জায়গা হবে। 

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষত পাম অয়েল, পেট্রোলিয়াম পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য এবং শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ২০১০.৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যা বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি নির্দেশ করে। এই ঘাটতির প্রধান কারণ হলো উচ্চ শুল্ক; যেখানে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশি প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক্স পণ্যে, জুসে এবং বিস্কুটে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে।’

ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, আইসিটি সেবা, হালকা প্রকৌশল পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য অংশীদ্বার চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরদার করতে হবে। এতে বাংলাদেশি পণ্য সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হালাল সার্টিফিকেশনের বৈশ্বিক লিডার মালয়েশিয়ার সহায়তায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সনদ প্রক্রিয়াকে সমন্বয় করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়িয়ে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল ও হালাল শিল্পে। দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে আইটি, মেশিন অপারেশন, ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, স্বাস্থ্যসেবা ও হসপিটালিটি খাতে। পাশাপাশি আইপি  ও সেবা খাতভিত্তিক পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।’

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়লেও তা ভারসাম্যপূর্ণ না। বাংলাদেশ প্রতিবছর মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল, পরিশোধিত জ্বালানি, রাসায়নিক দ্রব্য, শিল্প কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এবং ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করে। মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সম্ভাবনা থাকলেও উচ্চ শুল্ক, বাজার সম্পর্কে সীমিত ধারণা, সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের ঘাটতি এবং বাণিজ্যিক সুবিধার অভাবে রপ্তানি বাড়ছে না। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অনেক পণ্যের ওপর ক্ষেত্রবিশেষে  শুল্ক হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। 

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ গণ্যমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পর সরকারি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে। 

বিএমসিসিআই নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের পথ খুলবে। এফটিএ আলোচনায়ও নতুন গতি আসতে পারে। মালয়েশিয়া হচ্ছে আসিয়ান অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে এফটিএ শুধু মালয়েশিয়ার বাজারেই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল অর্থনীতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশেও গত এক দশকে এই খাতের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম, গেমিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যানিমেশন, গ্রাফিক ডিজাইন এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে লাখো তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছেন। তবে এতদিন বিষয়টিকে সেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি বা আলাদা খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। 

এবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক, কৃষি ও প্রবাসী আয়ের মতো খাতগুলো প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও এবার সরকার নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে সৃজনশীল অর্থনীতিকে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ, সাংস্কৃতিক শিল্প, কারুশিল্প, পর্যটন, চলচ্চিত্র, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু সংস্কৃতি বা বিনোদনের বিকাশ নয়; বরং সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানির নতুন উৎসে পরিণত করা।

এ লক্ষ্যে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি, বিদেশি সেবা আমদানির ওপর ভ্যাট অব্যাহতি এবং অফিস বা স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং নতুন পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো বাজেটে ক্রীড়াকে শুধু বিনোদন নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে আগামী বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, শুধু বরাদ্দ ঘোষণা নয়, বাস্তবায়ন কাঠামো, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক বিপণন এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পারলেই এ খাত প্রত্যাশিত সাফল্য পাবে।

তাদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিন্তায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার, কারুশিল্পী, শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের একই অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা এর আগে এত বিস্তৃতভাবে দেখা যায়নি। যদি ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে সৃজনশীলতা শুধু সংস্কৃতির বিষয় হয়ে থাকবে না; বরং তা কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়, পর্যটন, প্রযুক্তি এবং জাতীয় ব্র্যান্ড গঠনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে উৎসাহ

সরকার বলছে, বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতে মোট করের বোঝা প্রায় ৫০ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি। এই বাস্তবতায় মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আগামী অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব কমবে, তবে মোবাইল সেবা ব্যবহারে নতুন গ্রাহক বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অংশ

সরকারের মতে, বাংলাদেশের সৃজনশীল খাত এতদিন বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছে। অথচ এই খাত মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ব্র্যান্ডিং এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এ কারণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা এবং এটিকে একটি সুসংগঠিত উৎপাদনশীল খাতে পরিণত করা।
গড়ে উঠবে জাতীয় ও আঞ্চলিক ‘ক্রিয়েটিভ হাব’

সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে দেশব্যাপী ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব হাবে থাকবে— সাংস্কৃতিক মঞ্চ, বইয়ের দোকান ও পাঠাগার সুবিধা, সিনেপ্লেক্স, ক্ষুদ্র ক্যাফেটেরিয়া, স্থানীয় বিশেষ পণ্যের প্রদর্শনী ও বিপণন কেন্দ্র এবং সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মপরিসর। 

ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে একটি বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এ ছাড়া কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও এবং বিসিকের অব্যবহৃত জমিতে ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হবে। জেলা, উপজেলা, শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি পর্যায়েও এ ধরনের কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইনোভেশন হাব

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে সৃজনশীল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে ইতোমধ্যে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন হাব চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজেও ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক গ্রাম এক পণ্য’ উদ্যোগে কারুশিল্পের পুনর্জাগরণ

সরকার ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে–তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বুনন শিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না এবং টেরাকোটা। এসব পণ্যের নকশা ও মান উন্নয়নের জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের নিয়ে একটি ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’ গঠন করা হবে। পাশাপাশি বিসিকের নকশাকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতি ও পর্যটনের সমন্বিত উন্নয়ন

সৃজনশীল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক পর্যটন বা কালচারাল ট্যুরিজমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে মাসভিত্তিক ও থিমভিত্তিক জাতীয় উৎসব ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পিঠা উৎসব, বাউল উৎসব, জামাই মেলা, নদী ও সভ্যতাভিত্তিক উৎসবসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ঐতিহ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পর্যটন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ

পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের হসপিটালিটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ, রন্ধনশিল্পসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও সমন্বিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় সৃজনশীল পণ্য ও কনটেন্টকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করতে ‘Created in Bangladesh’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই উদ্যোগের মাধ্যমে— বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে সহায়তা, সাংস্কৃতিক পণ্যের আন্তর্জাতিক বিপণন, দেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি এবং সৃজনশীল রপ্তানি বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের আধুনিকায়ন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্টুডিও গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।

ক্রীড়াকেও দেখা হচ্ছে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে

প্রথমবারের মতো বাজেটে ক্রীড়াকে শুধু বিনোদন নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে— খেলাধুলা, মিডিয়া, পর্যটন ও ক্রীড়া-ব্যবসার সমন্বিত বিকাশ, ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ ও ক্রীড়াবিদদের ভাতা দেওয়া, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সহযোগিতা বৃদ্ধি, স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি শক্তিশালী করা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন কিশোর-কিশোরী নিবন্ধন করেছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার
ছবি: সংগৃহীত

জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির উপর বাড়তি কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির উপর কর বাড়ানোর ফলে এসব গাড়ির দাম আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

পাশাপাশি ব্র্যান্ড নিউ ও রিকন্ডিশন্ড প্লাগইন হাইব্রিড গাড়ির জন্য সমান শুল্ক সুবিধা এবং হাইব্রিড গাড়িতেও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলেও এসব গাড়ির দাম এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। একইভাবে ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে কর ছাড় দেওয়া হলেও উচ্চমূল্যের কারণে এর সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাবে না।’

বারভিডা সভাপতির দাবি, ইলেকট্রিক রিকশাকে নিবন্ধন ও করের আওতায় আনা হলে সরকার যেমন রাজস্ব পেত, তেমনি এ খাতেও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো। পাশাপাশি প্লাগইন হাইব্রিড ও রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে সমন্বিত শুল্ক কাঠামো প্রণয়নেরও আহ্বান জানান তিনি।

তামান্না রুপা/