বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স বিষয়ে কোনো এজেন্ডা না থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ। এ ধরনের সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে বলে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, গত সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৪৭তম সভায় অন্যান্য এজেন্ডার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত মূল্যায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন কমিটিসমূহ পর্ষদের নিকট উপস্থাপন করে। সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান বিষয়ে পর্ষদের আলোচনা কেবলমাত্র প্রক্রিয়াগত দিক নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করে, সংবাদমাধ্যম ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকবে এবং সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করবে। একই সঙ্গে, সংবাদমাধ্যম জনস্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে কোনো বিতর্কিত বা বিভেদ সৃষ্টির বিষয়ে একতরফা সংবাদ পরিবেশন পরিহার করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করবে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নেতারা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, সেদিনের বৈঠকে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত বিকাশকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার জন্যই একদিন আগে জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পর্ষদ সভার এজেন্ডা চাওয়া হলে তারা তা উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখা যায়, পর্ষদ সভার মূল এজেন্ডাই ছিল ‘ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের লক্ষ্যে যোগ্য আবেদনকারী নির্বাচন প্রসঙ্গে’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে এজেন্ডা প্রকাশ পাওয়ায় পরে গভর্নরের নির্দেশে তা বদলে ফেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের বলা হয়, ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদনকারী কোন প্রতিষ্ঠান কত নাম্বার পেয়েছে, সেই নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে। পর্ষদ সভায় তাই উপস্থাপন করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য এ বিষয়ে জরুরি সভা ডাকায় উষ্মা প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন না নিয়ে কর্মকর্তাদের এমন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পরই এক অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক সংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্বাচিত সংগঠন নীল, সবুজ ও হলুদ দল এবং জিয়া পরিষদ। সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে তারা সবাই উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে যেকোনো অন্যায় হলে আমরা সবসময়ই সেটা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এমন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। কেননা সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথা সর্বস্তরের কর্মকর্তার স্বার্থ জড়িত থাকে।
