দেশে পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। শিল্প-কারখানায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনে জোর দেওয়া হবে। পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। ইটভাটায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করা হবে। জনাকীর্ণ এলাকায় উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন বাজানো বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে তিন লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এতে পরোক্ষভাবে আরও অনেক মানুষ উপকৃত হবেন। এভাবে গোটা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সম্প্রতি রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে খবরের কাগজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ রক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী।
খবরের কাগজ: পরিবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের সংকটে রয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ুজনিত সব সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা স্বল্পমেয়াদি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আপনারা দেখেছেন, ইতোমধ্যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সারা দেশে বৃক্ষরোপণ করা হবে। প্রতিবছর পাঁচ কোটি করে গাছ লাগানো হবে। এভাবে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে।
খবরের কাগজ: এই পাঁচ কোটি গাছ কারা লাগাবেন? এসব ব্যক্তিকে কীভাবে নির্বাচিত করা হবে?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। যাদের সামাজিক বনায়ন বা বৃক্ষরোপণে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদেরই এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের ২৫ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন’ অধ্যায়ে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ, ১০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং এ দুটির মধ্য দিয়ে মোট ছয় লাখ কর্মসংস্থানের অঙ্গীকারের বিষয়টি রয়েছে।
খবরের কাগজ: বৃক্ষরোপণ কাজে স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: যাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাদের যোগ্যতা যাচাই করেই দেওয়া হবে। এটি একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। আপনারা দেখেছেন, সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, সেখানে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছেন।
খবরের কাগজ: আমাদের দেশে পরিবহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং শিল্প-কারখানার বর্জ্য পরিবেশ দূষণ করছে। এ ক্ষেত্রে দূষণ রোধে কী করণীয় বলে মনে করেন?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: শিল্প-কারখানায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনে জোর দেওয়া হবে। এ ছাড়া পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। আধুনিক বিশ্বে পরিবহনব্যবস্থায় দূষণ কম। আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কলকারখানার বর্জ্য শোধন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ জরুরি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বেশি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খবরের কাগজ: প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধে ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কী পরিকল্পনা রয়েছে?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণ যাতে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে সে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের (রিসাইক্লিং) পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খবরের কাগজ: শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: কলকারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি সরাসরি নদী বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। এ জন্য অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) ব্যবহার নিশ্চিত করব।
খবরের কাগজ: বায়ু ও শব্দদূষণ রোধে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি জনাকীর্ণ এলাকায় উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন বাজানো বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইটভাটায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, বিশেষ করে সৌরশক্তির মতো পরিবেশবান্ধব শক্তি।
খবরের কাগজ: নদীর নাব্য বৃদ্ধিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
আবদুল আউয়াল মিন্টু: নদীর নাব্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক ড্রেজিং (খনন), অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। নদীর তলদেশ থেকে পলি অপসারণ, নতুন ড্রেজার কেনা ও নিয়মিত খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নদী দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান, সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, ভাঙন রোধ এবং আধুনিক নৌপথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।