ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রেপ্তার নিয়ে সিএমপির ব্যাখ্যা আইসক্রিমপ্রেমীদের জন্য সেভয়-এর নতুন চমক মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন তারেক রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওতে হাবিবের গান চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায় ৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী লালমোহনে ব্রিজ ভেঙে খাদে ট্রাক, চালক নিহত ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল ঘুষ কেলেঙ্কারি: দেবীগঞ্জের পিআইও বদলি বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী? মারা গেছেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন

দাম বাড়ার পর বাজারে তেল, অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার বেশি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১০:২১ এএম
দাম বাড়ার পর বাজারে তেল, অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার বেশি
ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাস থেকেই ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। কিন্তু লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার ভরে গেছে তেলে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানে তেল নিয়ে হাজির হয়েছেন। সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো সবজির দাম কমেনি। বরং বেগুনের সঙ্গে গ্রীষ্মকালের ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোলও সেঞ্চুরির ঘর ছাড়িয়েছে। দাম শুনে অনেকে চমকে গেলেও শজনে ডাঁটা ৩০০ টাকায় মেলে না। চিনির দাম বেড়ে ১১০ টাকা কেজি। তবে বাড়েনি বা কমেনি মুরগি, ডিম ও গরুর মাংসের দাম। তবে বাজারভেদে একই পণ্য ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দামে বিক্রি হয়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি, ডাল, সয়াবিন তেল, ডিমের দাম বেড়েছে। রমজান মাসের শুরুতে বেগুন, শসাসহ অনেক সবজির দাম বেড়ে যায়। তারপর দাম আর কমেনি। গতকালও বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, রমজানের মতোই অধিকাংশ দোকানে কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ১০০ থেকে ১৪০, হাইব্রিড শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে শজনে ডাঁটা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও গতকাল ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজি ঝিঙে, চিচিঙ্গার দাম চড়া, ১০০ টাকার কমে মেলে না। অন্য সবজিও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ থেকে ৬০ টাকার কাঁচা পেঁপেও গতকাল ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। 

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জয়সহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, রমজান মাসের আগে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে যায়। তারপর তা আর কমেনি। কয়েক দিন আগে প্রচণ্ড তাপের পর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হাওর অঞ্চলও ডুবে গেছে। সব সবজিই আড়তে বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি সম্ভব নয়। এ সময় তাজমহল রোডের মো. দুরুল হুদা নামে এক ক্রেতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, শজনে ডাঁটা ৩৫০ টাকা কেজি। কাঁচা পেঁপে ৮০ টাকা! এত দাম। খাব কী? ‘অন্য ভোক্তারাও লাগামহীন বাজারের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

স্থিতিশীল ডিম মুরগির দাম 
আগের সপ্তাহের মতো গতকালও ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজন, সোনালি মুরগির কেজি ৩৬০ থেকে ৩৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের খোরশেদ আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ সপ্তাহে মুরগির দাম বাড়েনি বা কমেনি। আগের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে।’ 

আগের মতোই রুই ও কাতল মাছ ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০, সিলভারকার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। 

দাম বাড়ায় বাজারে মিলছে ৫ লিটারের সয়াবিন তেল। রমজান মাসের শুরু থেকেই ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বারবার বলার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, কোম্পানির লোকেরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর জন্যই রমজান মাস থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেন। কিন্তু বুধবার দাম বাড়ার পর থেকেই কোম্পানির লোকেরা দোকানে এসে তেল দিয়ে যাচ্ছেন। 

এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের শরিফ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. শরিফ, মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারাও খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও টাকা দিয়ে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যায়নি। কিন্তু দাম বাড়ার পরই গতকাল সকালে কোম্পানির লোকেরা তেল নিয়ে হাজির। বাজার ভরে গেছে।’ 

পেঁয়াজের ভরা মৌসুম হওয়ায় আগের মতো গতকালও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি, আলু ২০ থেকে ২৫, আদা ১৬০ থেকে ১৮০, রসুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ টাকা কেজি, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। 

২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪০ এএম
২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.26 140.30 -0.49
ব্রিটেন পাউন্ড     162.60 162.68 +0.22
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.91 85.97 -0.14
জাপানি ইয়েন 0.7596 0.7599 -0.0012
কানাডিয়ান ডলার 86.68 86.71 -0.03
সুইস ক্রোনা 12.75 12.77 -0.07
সিঙ্গাপুর ডলার 94.87 94.94 -0.2
চায়না ইউয়ান     18.10 18.11 -0.01
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2964 1.2965 -0.0049
সৌদি রিয়াল 33.29 33.58 --
আরব আমিরাত দিরহাম 32.56 32.87 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বাজেট ঘোষণার (প্রস্তাবিত) পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রডের দাম টনপ্রতি দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। কয়েক মাসের ব্যবধানে রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা বাজেটের অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উৎপাদক পর্যায়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রডে টনপ্রতি দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কেএসআরএম ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ৯২ হাজার টাকা, বিএসআরএম স্টিল ৯৪ হাজার টাকা ও একেএস স্টিল ৯২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব রড গত ফেব্রুয়ারিতে খুচরা পর্যায়ে ৭৮ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে খুচরায় প্রতিটন কেএসআরএম ৯৪ হাজার টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ৯৪ হাজার টাকা, বিএসআরএম স্টিল ৯৬ হাজার ৫০০ থেকে ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা ও একেএস স্টিল ৯৪ হাজার থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ৭৫ গ্রেডের এমএস রড।

অন্যদিকে উৎপাদক পর্যায়ে ৬০ গ্রেডের রডেও টনপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেড়ে আল আকসা, ডিএসআরএম ও জেএসআরএম ব্র্যান্ডের রড ৮৮ হাজার থেকে ৮৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাবও পড়েছে খুচরা বাজারে।

উৎপাদক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১১ জুন জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করা হয়। বাজেটে রড তৈরির অন্যতম উপাদান স্ক্র্যাপ, বিলেটসহ রড উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট ভ্যাট বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট ২ হাজার ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক এবং বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণেও রডের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাই এর প্রভাব পড়েছে রডের দামে।

এদিকে বাজেটের আগে গত ৮ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘ইস্পাত খাতের কারখানাগুলো গ্রিড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নিয়ে থাকে। ফলে কোনো সিস্টেম লস, ট্রান্সমিশন বা ডিস্ট্রিবিউশন লস নেই। তারপরও ডিমান্ড চার্জ, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও অন্যান্য মাশুলের মাধ্যমে শিল্প খাতের ওপর ক্রমাগত অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে।’ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ পার হলেও এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বরং উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রিতেও কিছুটা ভাটা পড়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার মোহাম্মদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আসলাম বলেন, ‘তিন মাস আগেও রডের বাজার ভালো ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কোম্পানিগুলো এক দফা দাম বাড়িয়েছিল। এখন বাজেট ঘোষণার পর মিলগেটে (উৎপাদক পর্যায়) দাম বেড়েছে। আর এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। এ কারণে বিক্রি তেমন নেই বললেই চলে। অনেকে এসে দাম দেখে চলে যাচ্ছেন।’

ফইল্যাতলী এলাকার বাসিন্দা জানে আলম বলেন, ‘বর্ষাকালে কাজ করা কঠিন। তবু জরুরি হওয়ায় বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানে গিয়ে রডের দাম শুনে চোখ কপালে উঠে গেল। কয়েক মাস আগেও প্রতিটন রডের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮২ হাজার টাকা। এখন ৯০ হাজার পার হয়ে গেছে। আমার নির্ধারিত বাজেটের চাইতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাই এখন কাজ করব কি না, সেটাই ভাবছি।’

দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘ভ্যাট, কাঁচামাল, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তাই দামটাও বেড়েছে। এ কারণে বিক্রিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এ ছাড়া রডের চাহিদা বর্তমানে কিছুটা কম। কারণ আমাদের উন্নয়ন বা নির্মাণকাজগুলো ধীরগতিতে চলছে।’

শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন
ছবি: খবরের কাগজ

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ঢালাও দরপতন হয়েছে। কমেছে প্রধান সূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। বাজারটিতে ১৪ কার্যদিবস পর হাজার কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। বড় দরপতন হলেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। কিন্তু লেনদেনের সময় ১০ মিনিট হওয়ার আগেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। লেনদেনের শেষ দেড় ঘণ্টায় বাজারে ঢালাও দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সব কটি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ৩১৯টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ১৭১টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৬৯টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৭৯টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২৮টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়েনি।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৮৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচকের বড় পতন হওয়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। লেনদেন কমেছে ১২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত ২ জুনের পর ডিএসইতে এই প্রথম হাজার কোটি টাকার কম লেনদেন হলো।

লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ফিড মিলস।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম, রবি, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এনসিসি ব্যাংক এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
 

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা জেএমআই লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো— প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেড, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৬৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১৭৪টির এবং ২৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য সবকিছুই থাকছে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য সবকিছুই থাকছে
ছবি: খবরের কাগজ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, অনলাইন ব্যবসা ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে কর-সুবিধা ও নীতিগত-সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সেবাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নাগরিকরা ঘরে বসেই অধিকাংশ সরকারি সেবা নিতে পারেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ আয়োজনে ‘সংখ্যার বাহিরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া’ শীর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সিজিএসের সভাপতি সাংবাদিক জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক, অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, ট্রান্সকম লিমিটেডের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ কারুশিল্প, কুটিরশিল্প, চিত্রকলা, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা হবে। এসব খাতে কর্মরতদের জন্য আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে পারেন।

তিনি জানান, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি পূর্বাচলে একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক থিয়েটার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সিনেমা, নাটক, সংগীত, শিল্পকলা ও স্ট্রিট ফুডসহ নানা আয়োজন থাকবে। এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে।

ডিজিটাল সেবার প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সব সরকারি সেবা ধাপে ধাপে অনলাইনে নিয়ে আসা হবে। এতে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি কমবে, নাগরিকদের সময় ও ভোগান্তি হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং ও কল সেন্টার খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর-সুবিধা রাখা হয়েছে। বিদেশ থেকে আয় দেশে আনার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় দেশে আনতে কোনো জটিলতা থাকবে না। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোও বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করছে, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। অতীতের ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারের অনিয়ম, অর্থ পাচার এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে বিদ্যমান। তাই অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি বলি আগামীকাল সকালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তাহলে সেটি বাস্তবসম্মত হবে না। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর সময় প্রয়োজন। তৃতীয় বছর থেকে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ফল দেখা যাবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন ও পেশাদার কমিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন ও সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। বড় বড় বিদেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। বড় বড় কোম্পানি আসা শুরু করেছে, তাদের ফান্ড ম্যানেজাররা আসা শুরু করেছে। জেপি মরগান আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা বিনিয়োগ করতে চায়। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। সবার জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে সরকার ডিরেগুলেশনের পথে এগোচ্ছে। ব্যবসা সহজ করতে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সরল করা এবং আমদানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সংস্কারে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। দেশ হিসেবে আমরা অনেক সাফার করেছি। সত্যি বলতে বাংলাদেশের মানুষ এখন মুক্ত জীবন চায়।’

সভায় ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট করহার কমাতে হবে। মুনাফাবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদ্যমান করহার পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, ‘বাজেট বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানুষ। আমরা সংখ্যার কথা বলব, আমরা উপাত্তের কথা বলব, আমরা অর্থ বরাদ্দের কথা বলব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা দেখতে চাইব– এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতখানি সাহায্য করেছে।’

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী ব্যক্তিশ্রেণির নতুন করকাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, এতে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে। তাদের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না।

২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.77 140.79 --
ব্রিটেন পাউন্ড     162.42 162.46 --
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     86.06 86.11 --
জাপানি ইয়েন 0.7609 0.7611 --
কানাডিয়ান ডলার 86.71 86.74 --
সুইস ক্রোনা 12.78 12.84 --
সিঙ্গাপুর ডলার 94.95 95.14 --
চায়না ইউয়ান     18.09 18.10 --
ইন্ডিয়ান রুপি     1.3013 1.3014 --
সৌদি রিয়াল 33.29 33.58 --
আরব আমিরাত দিরহাম 32.56 32.87 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

অমিয়/