ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের/ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন করে তাদের অধীনে এবং মাধ্যমে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়/ ইউজিসি স্বীকৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়/ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়/ইউজিসি স্বীকৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়/ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) মাস্টার্স ডিগ্রিপ্রাপ্ত হলে প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। এমবিবিএস/ সমমান ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা তাদের ডিগ্রির সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগে/ ইনস্টিটিউটে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীদের শিক্ষাজীবনে সব পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি এবং সিজিপিএ/জিপিএ পদ্ধতিতে ৫ স্কেলে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫ এবং ৪ স্কেলে ন্যূনতম ৩ থাকতে হবে। প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ও হিজড়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সব পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে এবং সিজিপিএ/জিপিএ পদ্ধতিতে ৫-এর মধ্যে ৩ এবং ৪-এর মধ্যে ২ দশমিক ৫ থাকতে হবে।
বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশ থেকে স্নাতক/ স্নাতক (সম্মান) ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তির ক্ষেত্রে আবেদনপত্র গ্রহণের আগে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সমতা নিরূপণ কমিটির আহ্বায়কের (ডিন, ফার্মেসি অনুষদ, মোকাররম হোসেন খন্দকার বিজ্ঞান ভবনসংলগ্ন) কাছে আবেদন করতে হবে। উল্লেখিত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী যে বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, সেই বিষয়ে অথবা সেই বিষয়ের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।
আরো পড়ুন : ৪৬তম বিসিএসের স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা ১৮ জানুয়ারি শুরু
প্রোগ্রামের মেয়াদ: এমফিল প্রোগ্রামের মেয়াদ দুই বছর। প্রথম বর্ষ কোর্স-ওয়ার্ক ও দ্বিতীয় বর্ষ থিসিস। এমফিল প্রোগ্রামের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ (পুনঃভর্তিসহ) সর্বোচ্চ তিন বছর। তবে তিন বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জিত না হলে নির্ধারিত জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে এবং আগের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বহাল রেখে ছয় মাস করে সর্বোচ্চ এক বছর এমফিল প্রোগ্রামের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবে। এমফিল প্রোগ্রামে যোগদানের তারিখ সবার জন্যই জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে গণ্য করা হবে। চাকরিরত প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিসহ এক বছরের ছুটি নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে যোগদান করতে হবে এবং যোগদানপত্রের সঙ্গে ছুটির অনুমোদনপত্র জমা দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গবেষণায় যোগদান করতে হবে। ভর্তি ফির টাকা জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যে ছুটির অনুমোদনপত্র জমা না দিলে রেজিস্ট্রেশনের বিষয় বিবেচনা করা হবে না। আবেদনকারী যদি কোনো উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অথবা গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, সে ক্ষেত্রে বিভাগের/ ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কমিটির এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদ সভার সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক পরিষদ তা শিথিল করতে পারে।
আবেদন ফি : ১০০০ টাকা।
আবেদনপত্র ডাউনলোডের শেষ তারিখ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (https://du.ac.bd/) থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড শুরু হয়েছে। আবেদনপত্র ডাউনলোড করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
আবেদন ফি ও আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: আবেদনপত্র স্পষ্ট করে লিখে/টাইপ করে যথাযথভাবে তা পূরণ করে ভর্তি ফরমের ফি বাবদ জনতা ব্যাংকে (ঢাবি, টিএসসি শাখায়) ১০০০ টাকা জমা রসিদের মূল কপিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অফিসে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত ১ ফেব্রুয়ারির পরে ভর্তি ফরমের ফি জমা দিলে ওই আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে: ভর্তি ফরমের ফি বাবদ জমা ১ হাজার টাকা জমার রসিদের মূল কপি, সব পরীক্ষা পাসের সনদ ও নম্বরপত্রের ফটোকপি, সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক/ বিভাগের চেয়ারম্যান/ ইনস্টিটিউটের পরিচালক কর্তৃক সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে এবং একই সঙ্গে গবেষণার একটি রূপরেখা (Synopsis) জমা দিতে হবে।
কবীর