নতুন কোনো দক্ষতা বা কাজ শেখার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই। কোন দক্ষতাটি শেখা উচিত, কীভাবে শেখা শুরু করব কিংবা সেটা ভবিষ্যতে কতটা কাজে লাগবে–এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই অনেক সময় শেখার উদ্যোগ থেমে যায়। তবে একটি বিষয় সব সময় মনে রাখা জরুরি, ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাজ শেখার কোনো বিকল্প নেই।
কোনো একটি খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করলে অনেক বিষয়ই সহজ ও স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু যারা নতুন, তাদের জন্য একই বিষয় জটিল বা বিভ্রান্তিকর হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন কাজটি শেখা উচিত, তা নির্ধারণ করার সময় দুটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, কাজটির বর্তমান বাজারে চাহিদা রয়েছে কি না। অনেক সময় আমরা শুধু নিজের পছন্দের কারণে কিংবা অন্য কারও সাফল্য দেখে কোনো দক্ষতা অর্জনের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু যে কাজটি একসময় জনপ্রিয় ছিল, তার চাহিদা এখনো একই রকম আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। তাই বাজারের বর্তমান প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
আরো পড়ুন: নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস
দ্বিতীয়ত, ডিমান্ড থাকা সব কাজই কিন্তু আমার জন্য নয়। অনেক কিছুই আছে যার ডিমান্ড আছে। কিন্তু আমি হয়তো অতটা ভালো করতে পারব না। অথবা আমি হয়তো ওই কাজগুলো করে মজা পাব না। আমার প্যাশনের জায়গায় সে কাজগুলো নেই। তাই মার্কেট ডিমান্ডের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ভালো লাগার দিকটাও দেখতে হবে।
মার্কেট ডিমান্ড অনেকভাবেই আইডেন্টিফাই করা যায়। এর মধ্যে কয়েকটি হলো–
মার্কেট প্লেসগুলোতে একটু চোখ বুলাতে হবে
ওয়েবে অনেক পপুলার মার্কেট প্লেস আছে, যেমন–আপওয়ার্ক, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার, পিপল পার আওয়ার ইত্যাদি। সেই মার্কেট প্লেসগুলোতে একটু ভিজিট করুন। আপনি যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চাচ্ছেন, সেই ক্যাটাগরিতে দেখুন কী ধরনের জব পোস্ট হচ্ছে। তাদের প্রাইসিং, ওয়ার্ক ভলিউম, আনুমানিক সেলারের সংখ্যা ইত্যাদি। যত বেশি ডাটা কালেক্ট করা যাবে, তত ভালোভাবে আইডিয়া জেনারেট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
এ ছাড়া আপনি লোকাল মার্কেটের জন্য নিয়োগসংক্রান্ত জব পোর্টাল সাইটগুলোও দেখতে পারেন, আপনার ইন্ডাস্ট্রি রিলেটেড কী পরিমাণ জব প্লেস হচ্ছে। এসব দেখে আইডিয়া পাবেন–আপনার কোন কাজটা শেখা উচিত। এসব একটা এক্সেল শিটে নোট ডাউন করে রাখুন।
শেখার প্লান করুন
এবার শর্ট লিস্টেড টাস্কগুলো নিয়ে পরবর্তী প্লান শুরু করুন, কীভাবে শেখা যায়। এখন যেহেতু আপনি ধারণা রাখেন–কী শিখতে চাচ্ছেন, তাই আপনি অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। এখন আপনি আর অনেক ব্রড কোনো জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছেন না। আপনি অনেকটাই ন্যারো ডাউন করে নিয়ে আসছেন।
এখন আপনি গুগল, ইউটিউব করে বেসিক ধারণা নিতে পারেন। এক্সপার্ট কারও সঙ্গে কথা বলে কাস্টমাইজড টিপস পেতে পারেন। পেইড কোর্স করে সময় বাঁচাতে পারেন। বই পড়া শুরু করতে পারেন। কারও মেন্টরশিপ সাপোর্ট নিয়ে শুরু করে দিতে পারেন।
নতুন স্কিল ডেভেলপ করুন
কাজ করতে করতে অ্যাডিশনাল স্কিল নিয়ে ভাবতে পারেন, একই ফরমুলায় নতুন নতুন স্কিল ডেভেলপ করবেন। আইটি ইন্ডাস্ট্রি সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তন হয়। তাই থেমে থাকার কোনো সুযোগ নেই। থেমে গেলেই হেরে যাবেন।
তারেক/