বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখতে হয় প্রতিটি ব্র্যান্ডকে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারদের ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারদের অনেক ক্ষেত্রে পারদর্শী হতে হয়। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের অনলাইনে সঠিক যোগাযোগ বজায় রাখার দক্ষতা থাকতে হয়, ইন্ডাস্ট্রির নতুন সব ট্রেন্ড সম্পর্কে জানতে ও দ্রুততার সঙ্গে অংশগ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হয়, বিশ্লেষণাত্মক মনোভাব থাকতে হয় এবং ভালো কপিরাইটিং জানতে হয়।
আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন আইডিয়ার জন্ম দিতে হবে। এ ধরনের একটি চাকরিতে আপনাকে প্রতিদিন চাপের মুখে তো থাকতে হবেই, পাশাপাশি আপনাকে হতে হবে আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় এবং যেকোনো পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম।
যোগ্যতা
সাংবাদিকতা, যোগাযোগ ও মার্কেটিং সম্পর্কিত ডিগ্রি এই চাকরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের চাকরির জন্য শুধু ডিগ্রি যেমন যথেষ্ট নয়, তেমনি আবশ্যকও নয়। যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করেও আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে পারেন।
আপনাকে নতুন সব সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড ও যেকোনো পরিবর্তনের দিকে খেয়াল তো রাখতে হবেই, পাশাপাশি বিভিন্ন SEO টুল, কনটেন্ট তৈরি ও কিওয়ার্ড বিশ্লেষণ (Keyword Analysis) সম্পর্কেও পড়াশোনা করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হতে চাইলে কী কী টুল সম্পর্কে পড়াশোনা আবশ্যক চলুন তা জেনে নিই।
গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার: সোশ্যাল মিডিয়ার যেকোনো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির প্রথম ও অন্যতম ধাপ কিওয়ার্ড রিসার্চ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট বেশি সংখ্যক মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই কিওয়ার্ড কীভাবে কাজ করে, কীভাবে তা রিসার্চ করতে হয় এবং কী উপায়ে কিওয়ার্ড ব্যবহার করে গুগলে আপনার পোস্টের র্যাংকিং বাড়ানো যায় তা জানতে হবে।
গুগল ট্রেন্ডস: এ টুলটির কাজও অনেকটা কিওয়ার্ড প্ল্যানারের মতোই। তবে পার্থক্য হচ্ছে, সার্চের ধরন অনুযায়ী ফিল্টার ব্যবহার করে পোস্টের লক্ষ্য খুবই সূক্ষ্মভাবে নির্ধারণ করা যায়।
সোশ্যাল ম্যানেজমেন্ট টুল: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতিকে লক্ষণীয় করতে একটি অন্যতম উপায় হচ্ছে পরিকল্পনা সাজানো এবং সে অনুযায়ী কনটেন্ট গুছিয়ে পাবলিশ করা। বাফার ও হুটসুট-এর মতো সাইটগুলো আপনাকে তাতে সাহায্য করবে।
গুগল অ্যানালিটিকস: তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই টুলটি আপনার ক্যাম্পেইন ও ওয়েবসাইটের পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দেবে, যা ক্যাম্পেইনের রিপোর্ট থেকে পরবর্তী ক্যাম্পেইনের নকশা তৈরি পর্যন্ত অনেক কাজে লাগবে।
কী কী বিষয়ে জানতে হবে
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে জানা এই ক্যারিয়ারের জন্য যথেষ্ট নয়। সফল হতে চাইলে আরও কিছু বিষয়ে আপনার পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। যেমন-
বিশ্লেষণ ক্ষমতা: ক্যাম্পেইনের কোন অংশটি সঠিকভাবে কাজ করছে, আর কোথায় পরিবর্তন আনতে হবে তা বুঝতে আপনার প্রতিদিনই বিভিন্ন সাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।
সৃজনশীলতা: সোশ্যাল মিডিয়াতে আজকাল প্রতিযোগিতা অনেক। তাই অন্য কোম্পানি থেকে নিজেদের আলাদা করে উপস্থাপন করতে আপনাকে প্রতিনিয়ত সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
লেখার দক্ষতা: সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারদের প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখতে হয়। সেই লেখাটা হয় প্রতিটি সাইটের জন্য ভিন্নরকম। একদিকে ইনস্টাগ্রামের জন্য স্বচ্ছন্দ ও হালকা ধরনের পোস্ট, অন্যদিকে লিংকডইনের জন্য তুলনামূলক গাম্ভীর্যপূর্ণ পোস্ট উপযোগী। তাই প্রয়োজনমতো লেখার ধরনকে পাল্টে নিতে পারার দক্ষতা থাকা চাই আপনার।
ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি কনটেন্টে লেখার পাশাপাশি ছবিও এখন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ছবি ছাড়া একটি পোস্ট খুব কম মানুষকেই আকর্ষণ করে। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে যদিও আপনার দায়িত্বের মধ্যে সে ছবি তৈরি করা পড়বে না, তবে ঠিক কোন ডিজাইনটি কোম্পানির ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য উপযুক্ত ও যথেষ্ট আকর্ষণীয় তার দিকে আপনাকেই খেয়াল রাখতে হবে।
যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষমতা: এই চাকরিতে আপনাকে সব সময়ই ভালো যোগাযোগ বজায় রাখার দক্ষতা থাকতে হবে।
মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই এই ক্ষেত্রে কাজ করতে হলে পরিবর্তনকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
চাকরি পাওয়ার উপায়
চাকরির খোঁজে হাবুডুবু খাওয়ার আগে কোনো ইন্টার্নশিপ বা ভলান্টিয়ারিং অবস্থানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করার মাধ্যমে চাকরিদাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। চাকরি খোঁজার বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজতে থাকুন।
ক্যারিয়ারে উন্নতি করার কৌশল
ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য নিজের স্কিলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আপনার ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন সবকিছু নিয়ে পড়াশোনা করুন। ইন্ডাস্ট্রি লিডার ও গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে আগ্রহ আর একটু চেষ্টা থাকলেই আপনি হয়ে যেতে পারবেন একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার।
তারেক