মানুষের জীবন কখনোই সরলরেখার মতো একটানা এগোয় না। নানা কারণেই সাজানো-গোছানো জীবনের গতিতে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে, আসে বিরতি। অনেক সময় কেউ দীর্ঘদিন কর্মজীবনের বাইরে থাকেন। তবে সারা জীবন তো কর্মহীন থাকা সম্ভব নয়—একসময় না একসময় আবার কাজের জগতে ফিরতেই হয়। আর এই ফেরার পথটাই শুরুতে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে।
তাই নতুনভাবে কর্মজীবনে ফিরতে চাইলে দরকার আত্মবিশ্বাস ও সঠিক প্রস্তুতি। কীভাবে নিজেকে তৈরি করবেন এবং কোন কোন বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—সেসব নিয়েই থাকছে বিস্তারিত আলোচনা। জানাচ্ছেন- গাজী তাহির
দক্ষতা ও যোগ্যতাকে নতুন করে মূল্যায়ন করুন
আপনি যদি ক্যারিয়ার ব্রেকের পর কাজ শুরু করতে চান তাহলে প্রথমেই নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে নতুন করে মূল্যায়ন করুন। এর ফলে কোন কোম্পানিগুলো আপনাকে নিয়োগ দিতে চাইতে পারে সেটা সহজেই বুঝতে পারবেন।
নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন
নতুন চাকরিতে আপনার প্রত্যাশা কী সেটা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন। আপনার স্বপ্নের চাকরিটা কেমন হবে কিংবা কোন ধরনের চাকরি আপনি করতে চান তা নিজেকে নিজেই জিজ্ঞেস করুন।
স্বাধীনভাবে কাজ করলে ভালো করবেন নাকি কোনো টিম বা কাস্টমারদের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন সেটা বুঝতে হবে। চাকরির ধরন অনুযায়ী আপনার বেতন কেমন হতে পারে তা বের করুন। আপনি কী চান সেটা আগে থেকে বুঝতে পারলে চাকরিতে আবেদন করাও সহজ হবে।
দক্ষতা বাড়ান
সবাই একটি সুন্দর এবং প্রতিষ্ঠিত একটি জীবনের স্বপ্ন দেখে। আর এই স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে। দিন যত এগোচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান তত বেশি উন্নত হচ্ছে। নারী হতে শুরু করে পুরুষ সবাই বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সবার লক্ষ্য যেহেতু একই, তাই সঠিক স্কিল না থাকলে এই সময় এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় আপনিও হেরে যেতে পারেন তাই নিজের স্কিল ডেভেলপ করুন, কেননা সামনের দিনগুলো আরও খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে।
আপনাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অবশ্যই স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। খেয়াল করলে দেখা যাবে সমাজে একটি দল পিছিয়ে পড়েছে এবং আরেকটি দল দ্রুতভাবে উন্নতি করছে।
কিন্তু এ পিছিয়ে পড়া দলটি কোন কারণে পিছিয়ে পড়ছে জানেন কি? সে কারণটি হচ্ছে পিছিয়ে পড়া দলটির দক্ষতার অভাব রয়েছে অথবা তারা সময়কে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করছে না। স্কিল ডেভেলপ ছাড়া এই কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা খুব কঠিন।
নিজের দক্ষতা সিভিতে উল্লেখ করুন
ব্রেক বা বিরতির সময় আপনি যদি এমন কোনো দক্ষতা অর্জন করেন যেটা আপনাকে চাকরি পেতে সাহায্য করবে তাহলে সেটা নিজের সিভিতে ব্যবহার করুন। এতে নিয়োগকর্তারা আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন।
জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করুন
প্রতিনিয়ত কোম্পানির নিত্যনতুন ট্রেন্ড খুঁজে বের করাই যদি আপনার কাজ হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে এই বিজনেস বা ইন্ডাস্ট্রির নতুন ট্রেন্ড সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। এটি একটি বিশাল প্রক্রিয়া হলেও, নানারকম টাইম ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহার করে নিজের জানাশোনাকে ঠিকভাবে গুছিয়ে আনা সম্ভব।
নেটওয়ার্কিং শুরু করুন
নিজের পুরোনো সহকর্মী, বস কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং করুন। তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে, তাদের আপনাকে সাহায্য করার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। যেমন- তারা আপনাকে ভালো কিছু টিপস দিতে পারে, কর্মী খুঁজছে এমন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারে কিংবা নিজের কোম্পানিতে আপনাকে চাকরি দিতে পারে।
সিভি আপডেট করুন সঙ্গে কভার লেটার তৈরি করুন
বিরতির সময় শেখা নতুন দক্ষতাগুলো যোগ করে নিজের সিভি আপডেট করুন। যে চাকরির জন্য আবেদন করবেন, সেই চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত দেখে সে অনুযায়ী সিভি গুছিয়ে নিন। সঙ্গে কভার লেটারে ক্যারিয়ারের বিরতির বিষয়ে বিস্তারিত লিখুন। একটি সুন্দর সিভি আপনার চাকরি পাওয়ার পথ সুগম করে দিতে পারে।
ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিন
কোনো কোম্পানি থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক পেলে তার জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিন। যে কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দেবেন সেটা সম্পর্কে ভালোভাবে রিসার্চ করুন, যাতে করে এর কালচার বুঝতে পারেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে সব প্রশ্নের উত্তর এমনভাবে দিন যাতে করে নিয়োগদাতারা নিশ্চিত হতে পারেন যে, আপনিই এই চাকরির জন্য উপযুক্ত।
তারেক/