আপনি ব্যবসা করুন বা চাকরিতে থাকুন, উন্নতির জন্য নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় সহায়ক হলো কার্যকরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা। সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারা এক ধরনের দক্ষতা, যা আয়ত্তে আনতে পারলে নিজের কাজের প্রতি আত্মতৃপ্তি যেমন বাড়ে, তেমনি ফলাফলও হয় আরও উন্নত। তবে পরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত বা চিন্তা তুলে ধরলে তা অনেক সময় ব্যবস্থাপকদের কাছে অগভীর বলে মনে হতে পারে।
তাই প্রয়োজন গুছিয়ে, ভেবেচিন্তে এগোনো। নিচে এমন কিছু টিপস তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে কার্যকরভাবে চিন্তা করতে এবং সফলতার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
১. প্রচলিত ধারার বাইরে ভাবতে শিখুন
নিজের কর্মস্থলে কোনো কিছু চিন্তা করার চেষ্টা করবেন না। এটি ভালো দুটি কারণে–এক. চিন্তা করার জন্য আপনাকে একটি শান্ত পরিবেশ দরকার যেখানে আপনার মনের দুয়ার উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। দুই. চিন্তা করাকে আপনার ব্যবসায়িক কাজের সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলা। চিন্তা করে আইডিয়া বের করা যদি কাজের অংশ হিসেবে ধরে থাকেন, দেখবেন প্রতি মাসে সঠিক চিন্তাধারা আর আইডিয়ার খরা চলবে।
২. মূল বিষয়কে ফোকাস করুন
চিন্তা শুরু করুন একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে প্রাধান্য করে এবং তাতেই পুরোটা সময় যতটা সম্ভব মনোনিবেশ করুন। যেমন আপনি কোম্পানির পরবর্তী পণ্য নিয়ে চিন্তা না করে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী যা যা পণ্য দরকার তা নিয়ে ভাবতে পারেন। পণ্যের ফিচার বাদ দিয়ে পণ্যের যেসব মান ক্রেতার কাজে আসবে তা নিয়ে চিন্তা করুন। চিন্তাধারায় বাধ্যবাধকতা রাখতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না, অনেকেই ভাবে বাধ্যবাধকতা থাকলে সৃজনশীল চিন্তাধারা ব্যাহত হয়, কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটি একদম ভিন্ন। সব অপশন নিয়ে বসে থাকলে আপনার বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। তাই একটি সমস্যাকে কেন্দ্র করে আপনার চিন্তাকে এগিয়ে নিয়ে যান, যাতে আপনি ওই সমস্যা সমাধানে সৃজনশীল আইডিয়া বের করতে পারেন।
৩. আইডিয়া বানান, পরিকল্পনা নয়
চিন্তাধারা দিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ নয়, বরং আইডিয়া এবং সেগুলোর চ্যালেঞ্জ খুঁজে বের করতে হবে। উচ্চপর্যায়ের একটি আইডিয়া বের করে দলের সবাইকে সেই আইডিয়াকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে চ্যালেঞ্জ করে দেখতে হবে। আইডিয়া বের করা আর সেটা চ্যালেঞ্জ করার মধ্যে পার্থক্য আছে অবশ্যই কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি তাতে দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং কখন পরবর্তী আইডিয়া নিয়ে ভাবতে হবে তা আপনি নিজেই বুঝে যাবেন।
আরো পড়ুন: ব্র্যাক ব্যাংকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ
৪. মানসিক পরিকল্পনা করুন
মাইন্ড ম্যাপের সাহায্যে সবকিছুর নোট নিন আপনার মনের মধ্যে যা আপনার চিন্তাধারাকে শানিত করবে। মাইন্ড ম্যাপ দিয়ে আপনি একটি কেন্দ্রীয় আইডিয়ার জন্য আরও সমগোত্রীয় আইডিয়া খুঁজে পেতে পারবেন। এভাবে মনের মধ্যে আইডিয়ার বিন্যাস করা গতানুগতিক নোট নেওয়ার চেয়ে বেশি কার্যকর।
৫. অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন
বিরক্তিকর মানুষ আপনার চিন্তাধারার ব্যাঘাত ঘটাবেই। একজন হয়তো আপনার আইডিয়াকে মেনে নিতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানাবে। আইডিয়াকে হতে হবে বাস্তবসম্মত আর কোনো আইডিয়াকে নাকচ করে দেওয়ার আগে অন্তত একটি ফিডব্যাক জানানো জরুরি। যারা আইডিয়াকে নাকচ করে দেয় তাদের বর্জন করতে হবে। আরেক ধরনের মানুষ আছে যারা একটি আইডিয়া পেলেই তা নিয়ে চিন্তাধারা ডালপালা ছড়িয়ে দেয় এবং আর অন্য কোনো কিছুর ব্যাপারে খেয়াল থাকে না। চিন্তাধারার মূল লক্ষ্য একটি আইডিয়া নিয়ে পড়ে থাকা নয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত সবাই আইডিয়ার ব্যাপারে একমত হচ্ছে, ততক্ষণ চিন্তাধারার সেশন চালু রাখা উচিত।
৬. পরবর্তী করণীয় ঠিক করুন
চিন্তাধারা সেশন শেষ করে দিলেন পরবর্তী করণীয় ঠিক না করেই– তাহলে সেটা হবে বোকামি এবং তখন চিন্তা করার প্রক্রিয়াটাই পুরো ভেস্তে যাবে। যদি কোনো আইডিয়া নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আপনার হাতে সময় না থাকে, তাহলে আপনার কষ্ট করে চিন্তা করার প্রক্রিয়ায় শরিক না হওয়াটাই শ্রেয়। পরবর্তী সময়ে আইডিয়া নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলুন এবং কী করা উচিত তা নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যান।
তারেক/